প্রধান উপদেষ্টার প্রেস সচিব শফিকুল আলম বলেছেন, বর্তমান অন্তর্বর্তী সরকারের সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ কাজ হচ্ছে দেশের জন্য একটি অবাধ, সুষ্ঠু এবং গ্রহণযোগ্য নির্বাচন আয়োজন করা। নির্বাচনের পাশাপাশি সংস্কার ও বিচার প্রক্রিয়াও সরকারের অগ্রাধিকার হিসেবে রয়েছে। এ বিষয়ে প্রধান উপদেষ্টার পক্ষ থেকে সংশ্লিষ্ট সকলকে প্রয়োজনীয় নির্দেশনা প্রদান করা হয়েছে।
আজ বৃহস্পতিবার সচিবালয়ে অনুষ্ঠিত উপদেষ্টা পরিষদের বৈঠক শেষে সাংবাদিকদের তিনি এসব কথা জানান। তিনি উল্লেখ করেন, গত ৫ আগস্টের পর থেকে বর্তমান অন্তর্বর্তী সরকারের দ্বিতীয় পর্ব শুরু হয়েছে এবং আজ ছিল সেই দ্বিতীয় পর্বের প্রথম উপদেষ্টা পরিষদের সভা। বৈঠকে বেশ কয়েকটি গুরুত্বপূর্ণ সিদ্ধান্ত গ্রহণ করা হয়। সভায় ট্যারিফ কমানোর জন্য বাণিজ্য উপদেষ্টা এবং অভ্যুত্থান সংক্রান্ত বিভিন্ন কর্মসূচি সুচারুরূপে বাস্তবায়নের জন্য সংস্কৃতি বিষয়ক উপদেষ্টাকে ধন্যবাদ জানানো হয়।
প্রেস সচিব আরও বলেন, নির্বাচনের তারিখ নির্ধারণের দায়িত্ব সম্পূর্ণরূপে নির্বাচন কমিশনের হাতে। প্রধান উপদেষ্টার কার্যালয় থেকে নির্বাচন কমিশনকে আনুষ্ঠানিক পত্র প্রদান করা হয়েছে, যাতে নির্বাচনের প্রস্তুতি কার্যক্রম শুরু হয়। নির্বাচন কমিশন সুষ্ঠু ও নিরপেক্ষ নির্বাচন উন্নয়নে তাদের সকল উদ্যোগ গ্রহণ করবে।
তিনি জানান, আগামী নির্বাচনে শুধু পুলিশ নয়, আনসার, বিডিআর ও আর্মিও আরও বেশি করে নির্বাচনে নিরাপত্তা ব্যবস্থা জোরদার করার পরিকল্পনা করছে সরকার।
এছাড়া, তিনি বলেন, গত বছর শেখ হাসিনা সরকারের পতনের সময় খাদ্যের মজুদ ছিল ১৮ লাখ টন, যা বর্তমান সরকারের নেতৃত্বে বাড়ে ২১ লাখ টনে। আইন-শৃঙ্খলা পরিস্থিতিও গত বছর থেকে অনেকটাই স্থিতিশীল রয়েছে। বর্তমান সরকার বিভিন্ন বিষয়ে সাতটি সংস্কার কমিশন গঠন করেছে, যেগুলোর প্রস্তাবনা কার্যকর করার কাজ চলছে।
উল্লেখ্য, গাজীপুর ডিজিটাল ইউনিভার্সিটির নাম পরিবর্তন করে গাজীপুর ফ্রন্টিয়ার টেকনোলজি ইউনিভার্সিটি করার সিদ্ধান্তও উপদেষ্টা পরিষদের সভায় নেওয়া হয়েছে।
অন্তর্বর্তী সরকারের আমলেই আইন-শৃঙ্খলা পরিস্থিতি অনেক উন্নত হয়েছে এবং পুলিশ আরও সক্রিয় হয়েছে। আর মহামারি পরিস্থিতিতেও আর্মিকে ম্যাজিস্ট্রেট পাওয়ার দেওয়া হয়েছে। একই সঙ্গে বৈদেশিক ঋণ পরিশোধ এবং রিজার্ভ বৃদ্ধি উল্লেখযোগ্য অর্জন হিসেবে বিবেচিত হচ্ছে।
এক প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, ক্ষমতাচ্যুত প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার বিচার হলে তার নিজ নেতৃত্বে হওয়া উচিত। দেশের বাইরে থাকা বৈদেশিক উপদেষ্টাগণ তাকে দেশে ফিরিয়ে আনার জন্য চেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছেন। তিনি আরও বলেন, বিভিন্ন অনুসন্ধানী প্রতিবেদনে যেসব তথ্য এসেছে, সেগুলো বিচার প্রক্রিয়ায় বিবেচিত হবে এবং সকল সাক্ষ্য প্রমাণের ভিত্তিতে বিচার সম্পন্ন হবে।
অবশেষে, প্রেস সচিব বলেন, জাতীয় নির্বাচনে অতিরিক্ত নিরাপত্তা ব্যবস্থা গ্রহণের কথা ভাবা হচ্ছে। যা অতীতে মোতায়েন সব ফোর্সের থেকে প্রায় ৪০ থেকে ৫০ হাজার বেশি হতে পারে এবং এতে আর্মির ৬০ হাজার সদস্য নিয়োগের সম্ভাবনা রয়েছে।
প্রধান উপদেষ্টার অধীনে চলমান অন্তর্বর্তী সরকার গত অগাস্ট থেকে এখন পর্যন্ত মোট ৩১৫টি সিদ্ধান্ত গ্রহণ করেছে, যার মধ্যে ৭৮.৪১ শতাংশ বাস্তবায়িত হয়েছে। এটি স্বাধীনতার পর থেকে সর্বোচ্চ হার। নির্বাচনের পাশাপাশি দেশের উন্নয়নে বিভিন্ন সংস্কার কার্যক্রম অব্যাহত থাকবে বলে তিনি প্রতিশ্রুতি দেন।








