ঢাকা | রবিবার | ৩রা মে, ২০২৬ খ্রিস্টাব্দ | ২০শে বৈশাখ, ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ | ১৬ই জিলকদ, ১৪৪৭ হিজরি

অন্তর্বর্তী সরকারের মূল অঙ্গীকার: একটি গ্রহণযোগ্য ও সুষ্ঠু নির্বাচন উপহার দেওয়া

প্রধান উপদেষ্টার প্রেস সচিব শফিকুল আলম বলেছেন, বর্তমান অন্তর্বর্তী সরকারের সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ কাজ হলো দেশের জন্য একটি অবাধ, সুষ্ঠু ও গ্রহণযোগ্য নির্বাচন নিশ্চিত করা। এই প্রক্রিয়ায় শুধুমাত্র নির্বাচন নয়, সংস্কার এবং বিচার ব্যবস্থার উন্নতিও অন্তর্ভুক্ত রয়েছে। এজন্য প্রধান উপদেষ্টার নির্দেশনায় সংশ্লিষ্ট সকল বিভাগের কাছে প্রয়োজনীয় নির্দেশনা দেয়া হয়েছে।

সচিবালয়ে বৃহস্পতিবার এখানে উপদেষ্টা পরিষদের সভার পর সাংবাদিকদের তিনি এসব কথা জানান। তিনি আরও জানান, গত ৫ আগস্ট থেকে বর্তমান অন্তর্বর্তী সরকারের দ্বিতীয় অধ্যায় শুরু হয়েছে। এদিন ছিল সেই দ্বিতীয় অধ্যায়ের প্রথম উপদেষ্টা পরিষদের সভা, যেখানে প্রধান উপদেষ্টার সভাপতিত্বে বহু গুরুত্বপূর্ণ সিদ্ধান্ত গৃহীত হয়েছে। সভায় যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে ট্যারিফ কমানোর আলোচনা এবং অভ্যুত্থানের পর এক মাসে বিভিন্ন কর্মসূচি সুচারুভাবে বাস্তবায়নের জন্য সংশ্লিষ্ট উপদেষ্টাদের ধন্যবাদ জানানো হয়।

প্রেস সচিব বলেন, নির্বাচনের নির্দিষ্ট তারিখ ঘোষণার সম্পূর্ণ দায়িত্ব নির্বাচন কমিশনের। প্রধান উপদেষ্টার কার্যালয় থেকে নির্বাচনের আনুষ্ঠানিক কার্যক্রম শুরু হওয়া সংক্রান্ত পত্র নির্বাচন কমিশনকে দেওয়া হয়েছে। এখন নির্বাচন কমিশনই দিনক্ষণ নির্ধারণ করবেন এবং তারা সুষ্ঠু, নিরপেক্ষ ও গ্রহণযোগ্য একটি নির্বাচন সম্পন্নে সকল প্রস্তুতি নেবেন।

তিনি জানিয়ে দিয়েছেন, আসন্ন নির্বাচনে শুধু পুলিশ নয়, আনসার, বিডিআর এবং আর্মি সদস্যদেরও আরও বেশি করে নির্বাচনী নিরাপত্তা কাজে যুক্ত করার বিষয়টি সরকার আন্তরিকভাবে বিবেচনা করছে।

সচিব আরও বলেন, গত বছর শেখ হাসিনা সরকারের পতনের সময় খাদ্য মজুদ ছিল প্রায় ১৮ লাখ টন, যা বর্তমান সরকারের ক্ষমতায় আসার পর বৃদ্ধি পেয়ে দাঁড়িয়েছে ২১ লাখ টনে। অন্যদিকে আইন-শৃঙ্খলা পরিস্থিতি গত এক বছরে স্বাভাবিক ছিল। অন্তর্বর্তী সরকার সাতটি সংস্কার কমিশন গঠন করেছে, যাদের প্রস্তাবনায় মোট ১২১টি সুপারিশ এসেছে। এর মধ্যে ইতোমধ্যে ১৬টি বাস্তবায়িত হয়েছে, ৮৫টির ওপর কাজ চলছে এবং বাকিগুলো যাচাই-বাছাই চলছে।

একইভাবে, গাজীপুর ডিজিটাল ইউনিভার্সিটির নাম পরিবর্তন করে গাজীপুর ফ্রন্টিয়ার টেকনোলজি ইউনিভার্সিটি নামকরন করার সিদ্ধান্ত আজকের উপদেষ্টা পরিষদের সভায় নেওয়া হয়েছে।

আইন-শৃঙ্খলা পরিস্থিতি উন্নতির দিকেও তিনি বিশেষ গুরুত্বারোপ করেন। পুলিশ অনেক আগের চেয়ে বেশি সক্রিয় হয়েছে। অন্তর্বর্তী সরকার থাকার কারনে আর্মিকে ম্যাজিস্ট্রেটির ক্ষমতা প্রদান করা হয়েছে। বৈদেশিক ঋণের পরিমাণ কমিয়ে চার বিলিয়ন ডলার পরিশোধ করা হয়েছে এবং ফরেন রিজার্ভ উল্লেখযোগ্যভাবে বৃদ্ধি পেয়েছে।

এক প্রশ্নের জবাবে তিনি জানান, আমরা চাই কুমিল্লা ভিলے বিচার প্রক্রিয়ায় ক্ষমতাচ্যুত প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার নিজ উদ্যোগে অংশগ্রহণ অবশ্যই নিশ্চিত হবে। বিদেশী উপদেষ্টারা তাঁকে দেশে ফিরিয়ে আনার ব্যাপারে কাজ চালিয়ে যাচ্ছেন। দুর্নীতির অভিযোগে বিভিন্ন অনুসন্ধানী রিপোর্টের ওপর ভিত্তি করেই সুষ্ঠু বিচার হবে।

সংস্কার ও বিচার ব্যবস্থার পাশাপাশি নির্বাচনে নিরাপত্তা ব্যবস্থাকে আরও শক্তিশালী করার পরিকল্পনা নিয়েছে সরকার। আগের জাতীয় নির্বাচনের সঙ্গে তুলনায় এবার আরও বেশি পুলিশ, আনসার ও বিজিবি সদস্য মোতায়েন করার বিষয়ে সরকার বিবেচনা করছে।

তিনি জানান, ২০২৪ সালের ৮ আগস্ট থেকে ২০২৫ সালের ৩১ জুলাই পর্যন্ত অন্তর্বর্তী সরকার ৩১৫টি সিদ্ধান্ত নিয়েছে, যার ৭৮.৪১ শতাংশ ইতিমধ্যে বাস্তবায়িত হয়েছে। এটি দেশের স্বাধীনতার পর থেকে এক সরকারের জন্য সর্বোচ্চ কার্যকারিতা হিসেবে বিবেচিত হচ্ছে।

জাতীয় নাগরিক পার্টি (এনসিপি) এবং জামায়াতে ইসলামীর নির্বাচন সম্পর্কিত ফেয়ার প্লে ফিল্ড নিয়ে একটি প্রশ্নের জবাবে প্রেস সচিব বলেন, নির্বাচন ঘনিয়ে আসার সঙ্গে সঙ্গে অপপ্রচার ও অভিযোগও কমে আসবে এবং নির্বাচন যথাযথভাবে সম্পন্ন হবে।