ঢাকা | রবিবার | ৩রা মে, ২০২৬ খ্রিস্টাব্দ | ২০শে বৈশাখ, ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ | ১৬ই জিলকদ, ১৪৪৭ হিজরি

আগামী বছর চামড়া সংরক্ষণের আগ্রহ আরও বৃদ্ধি পাবে: বাণিজ্য উপদেষ্টা

বাণিজ্য উপদেষ্টা শেখ বশিরউদ্দীন জানান, এ বছর যারা চামড়া সংরক্ষণ করেছেন, তারা পরবর্তী সময়ে ভালো দামে বিক্রি করতে পেরেছেন। এই কারণে এবারের মতো আরও অনেকেই আগামী বছর চামড়া সংরক্ষণে আগ্রহী হবেন। তিনি বলেন, এই সাফল্যের ভিত্তিতে যদি সরকার চামড়া সংরক্ষণের ক্ষেত্রে সহযোগিতা জোরদার করে, তাহলে সাধারণ মানুষের অংশগ্রহণ আরও বাড়বে।

বুধবার বাণিজ্য মন্ত্রণালয়ের সভাকক্ষে কোরবানি সম্পর্কিত বিষয়াদি সুষ্ঠুভাবে পরিচালনার লক্ষ্যে গঠিত কমিটির তৃতীয় সভায় এই মন্তব্য করেন উপদেষ্টা। সভায় বাণিজ্য উপদেষ্টা সভাপতিত্ব করেন। মৎস্য ও প্রাণিসম্পদ উপদেষ্টা ফরিদা আখতার, শিল্প উপদেষ্টা আদিলুর রহমান খান, বাণিজ্য সচিব মাহবুবুর রহমান, শিল্প সচিব মো. ওবায়দুর রহমান এবং প্রাণিসম্পদ অধিদপ্তরের মহাপরিচালক ড. মোঃ আবু সুফিয়ানসহ অন্যান্য উচ্চপদস্থ কর্মকর্তা উপস্থিত ছিলেন।

বৈঠকে জানানো হয়, এই বছর ঈদ-উল-আযহার সময় অভ্যন্তরীণ বাজারে প্রচুর পরিমাণ কাঁচা চামড়া সংগৃহীত হয়েছে। মোট ৯১ লাখ ৩৬ হাজার ৭৩৪টি পশু কোরবানি হয়েছে, যার মধ্যে মাদ্রাসা, এতিমখানা, লিল্লাহ বোর্ডিং ও স্থানীয় ট্যানার্স দ্বারা ৬০ লাখ ৪৫ হাজার ২২০টি চামড়া সংরক্ষিত হয়েছে। মাদ্রাসা, এতিমখানা ও লিল্লাহ বোর্ডিংয়ে মোট ১৭ লাখ ৬১ হাজার ৫১টি চামড়া সংরক্ষণের তথ্য দেয়া হয়। সর্বোচ্চ সংরক্ষণ হয়েছে চট্টগ্রাম বিভাগে, যেখানে ১৫ লাখ ৪৮ হাজার পিস চামড়া সঞ্চিত হয়েছে। এরপর রয়েছে ঢাকা (১৪ লাখ ৯ হাজার) ও রাজশাহী (১৩ লাখ ৯০ হাজার)।

তবে বৈঠকে এ বছর কোরবানির চামড়া ব্যবস্থাপনাকে ঘিরে কিছু চ্যালেঞ্জও তুলে ধরা হয়। সেগুলোর মধ্যে উল্লেখযোগ্য হলো — কোরবানি পশুর হাট ব্যবস্থাপনা ও অননুমোদিত হাটের অপসারণ, বিক্রিত পশুর হাসিল আদায়ের হার উন্নয়ন, কোরবানিদাতা ও ক্ষুদ্র ব্যবসায়ীদের জন্য ন্যায্য মূল্য নিশ্চিতকরণ, নির্দিষ্ট স্থান ও অবকাঠামোর অনুপস্থিতি, সংরক্ষণে জ্ঞান অভাব, বর্জ্য সুষ্ঠু ব্যবস্থাপনা, ট্যানারির সক্ষমতা ও আইনানুগ কার্যপ্রণালী ইস্যু, এবং ঢাকা ও চট্টগ্রামসহ গুরুত্বপূর্ণ জেলায় চামড়া সংরক্ষণের স্থায়ী অবকাঠামোর অভাব।

এই চ্যালেঞ্জগুলো মোকাবেলায় কমিটি আগামী কোরবানির জন্য কয়েকটি গুরুত্বপূর্ণ সুপারিশ প্রদান করেছে:

ক) স্থানীয় সরকার বিভাগ কোরবানি পশুর হাট পরিচালনার জন্য একটি নীতিমালা প্রণয়ন করবে।

খ) কোরবানির বর্জ্য ব্যবস্থাপনার জন্য একটি স্ট্যান্ডার্ড অপারেটিং প্রসিডিউর (SOP) তৈরি করে তা সব সিটি কর্পোরেশন ও স্থানীয় প্রতিষ্ঠানের জন্য বাধ্যতামূলক করা হবে।

গ) কোরবানি পশুর চামড়া সংগ্রহ, সংরক্ষণ, পরিবহন ও ব্যবস্থাপনায় দক্ষতা বৃদ্ধি করতে প্রতিষ্ঠানিক সক্ষমতা গড়ে তোলা প্রয়োজন।

ঘ) মৎস্য ও প্রাণিসম্পদ মন্ত্রণালয় গবাদি পশুর বিভিন্ন রোগ, বিশেষ করে লাম্পি স্কিন ডিজিজ প্রতিরোধে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করবে।

ঙ) জেলা পর্যায়ে স্থায়ী ও মৌসুমী চামড়া ব্যবসায়ী ও পশু জবাইকারীদের তথ্যভাণ্ডার তৈরির মাধ্যমে তাদের প্রশিক্ষণ প্রদান করা হবে।

চ) চামড়া প্রক্রিয়াজাতকরণের জন্য সংশ্লিষ্ট প্রতিষ্ঠানগুলোকে আধুনিকায়ন ও সক্ষম করে গড়ে তোলা হবে।

ছ) ঢাকার আশপাশে চামড়া সংরক্ষণের জন্য একটি স্থায়ী জায়গা বরাদ্দ দিয়ে প্রয়োজনীয় অবকাঠামো তৈরি করা হবে।

বাণিজ্য উপদেষ্টা শেখ বশিরউদ্দীন আশা প্রকাশ করেছেন, এসব উদ্যোগ অব্যাহত থাকলে আগামী বছর চামড়া সংরক্ষণে আগ্রহ এবং অংশগ্রহণ আরও ব্যাপক হবে, যা দেশের চামড়া শিল্পের উন্নয়নে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে।