ঢাকা | বুধবার | ৬ই মে, ২০২৬ খ্রিস্টাব্দ | ২৩শে বৈশাখ, ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ | ১৯শে জিলকদ, ১৪৪৭ হিজরি

আগারগাঁওয়ে বিলুপ্তপ্রায় গাছের বিশাল বৃক্ষমেলা

একসময় গ্রাম বাংলার প্রকৃতিতে প্রচুর সংখ্যক গাছ ছিল, যেগুলো ছিল পরিচিত ও উপকারী। কিন্তু আজকাল সেই গাছগুলোর অনেকটাই বিলুপ্তপ্রায় হয়ে যাচ্ছে। বন অধিদপ্তরের আয়োজনে অনুষ্ঠিত হওয়া এই বৃক্ষমেলায় হাজির হয়েছে হারিয়ে যাওয়া, দুর্লভ এবং বিলুপ্তপ্রায় গাছের নানা প্রজাতি। মঙ্গলবার (১ জুলাই) রাজধানীর আগারগাঁওয়ে অনুষ্ঠিত মেলায় গাছপালা ঘিরে দর্শনার্থীদের ভিড় লক্ষ্য করা গেছে। অনেকে গাছ বাছাই করে কিনছেন, কেউবা সেই গাছগুলোর ছবি তুলে সংরক্ষণ করছেন। অনেক দর্শনার্থী এমন গাছের নামও আগে কখনো শোনেননি। আবার অনেকে নিজের শৈশবের স্মৃতির সঙ্গে মিলিয়ে আবেগাপ্লুত হচ্ছেন।

নার্সারির মালিক ও বিক্রেতাদের সঙ্গে কথা বলে জানা গেছে, মেলায় ঔষধি, ফল, ফুল, বনজ, শোভা বৃদ্ধি করে এমন ও মশলাযুক্ত বিলুপ্তপ্রায় গাছের মধ্যে রয়েছে বাঁশপাতা, দোলনচাঁপা, চিত্তাগাছ, পারুল, রুদ্রপালাশ, গুটিজাম, জৈষ্ঠ্যমধু, বনসাই, শতমূল, কাউ, রক্তচন্দন, পানবিলাসী, বিলাতী গাব, অশ্বোক, স্বর্ণগন্ধা, বনখেজুর, বালবোরক্স, লম্বা ট্রায়াস অর্কিড এবং বলগাছসহ আরও বহু গাছের প্রজাতি। প্রতিটি গাছের পাশে ছোট ছোট সাইনবোর্ডে তাদের পরিচয় দেওয়া হয়েছে।

নার্সারি বিক্রেতারা জানান, শোভা বৃদ্ধি করে এমন গাছের মধ্যে আছে পাকুড়, কুর্চি, ঝিনুক, মোচা, মহুয়া। কাঠের গাছের মধ্যে গর্জন, লোহাকাঠ, ছাতিম, ওয়াটার ব্যাম্বো উল্লেখযোগ্য। ফুলের গাছ হিসেবে সোনালু, ককসিয়া, গার্ডেনিয়া, টিপু সুলতান, শিমুল, অঞ্জনা, মহুয়া জনপ্রিয়।

পরিবেশ বিজ্ঞানীরা জানিয়েছেন, জলবায়ুর পরিবর্তন, নগরায়ণ, নির্বিচারে বন উজাড় এবং কাঠের ব্যবসা ও বনায়ন প্রক্রিয়ার অভাবে এসব গাছ দ্রুত হারিয়ে যাচ্ছে। বিশেষজ্ঞদের মতে, যদি এসব গাছ সংরক্ষণে তৎপরতা না রাখা হয়, তবে শুধু প্রকৃতির ভারসাম্যই নষ্ট হবে না, বাংলাদেশের জীববৈচিত্র্যের বড় একটি অংশও হারিয়ে যাবে। তাই মেলা থেকে শুধু গাছ কেনাই নয়, বরং প্রজন্ম থেকে প্রজন্ম পর্যন্ত দেশের নিজস্ব গাছদত্ত প্রজাতি সংরক্ষণে অঙ্গীকার করা জরুরি।

বৃক্ষমেলার অংশগ্রহণকারী খান নার্সারির ম্যানেজার জাহাঙ্গীর বলেন, ‘‘আমরা চেষ্টা করি বিলুপ্তপ্রায় গাছের চারা উৎপাদনে। সাধারণ মানুষও আক্রান্ত হয়েছে এসব গাছ রোপণের প্রতি। তবে সরকারের পক্ষ থেকে এই গাছ সংরক্ষণে আরও কার্যকর ভূমিকা নেয়া উচিত।’’

কিংশুক ও গ্রিন হাউস নার্সারির বিক্রেতা রবিউল ইসলাম জানান, ‘‘নার্সারি পরিচালনার জন্য নানা ধরনের গাছ রাখতে হয়। তাই আমরা অনেক কষ্টে বিলুপ্তপ্রায় গাছ সংগ্রহ করে এখানে রাখি। আমরা বন-জঙ্গল থেকে এসব গাছ সংগ্রহ করি।’’

মেলায় অংশ নেওয়া সূত্রাপুরের নীলা আলমগীর বলেন, ‘‘ঢাকার অনেক নার্সারি ঘুরেছি, কিন্তু এত রকম গাছ পাওয়া যায় না। আজকের মেলায় এমন গাছ পেয়েছি, যা জীবনেও আগে দেখিনি। মহুয়া আর পারুল গাছ কিনে নিয়েছি, পান বিলাসী গাছটিও সংগ্রহ করেছি।’’

বৃক্ষেপ্রেমীরা আশা প্রকাশ করেছেন, বৃক্ষমেলা শুধু গাছ বিক্রি বা কেনাবেচার স্থান নয়, বরং দেশের প্রাকৃতিক ঐতিহ্য পুনরুজ্জীবন করার একটি গুরুত্বপূর্ণ মঞ্চ। এখন সময় এসেছে নিজ নিজ এলাকায় বিলুপ্তপ্রায় গাছগুলো সচেতন হয়ে রোপণ ও সংরক্ষণে সক্রিয় হওয়ার।