ঢাকা | শুক্রবার | ১৬ই জানুয়ারি, ২০২৬ খ্রিস্টাব্দ | ২রা মাঘ, ১৪৩২ বঙ্গাব্দ | ২৭শে রজব, ১৪৪৭ হিজরি

আতশবাজি ও বর্ণিল উৎসবে বিশ্বে নতুন বছর ২০২৬ কে স্বাগত

পুরনো বছর ২০২৫ এর স্মৃতি পেছনে ফেলে, আনন্দ-উল্লাস এবং বর্ণিল আতশবাজির মাধ্যমে বিশ্ববাসী নতুন বছর ২০২৬ কে স্বাগত জানিয়েছেন। সময়ের গণনা অনুযায়ী খ্রিস্টীয় ক্যালেন্ডার অনুযায়ী আরও এক বছর মহাকালের গর্ভে বিলীন হওয়ার পাশাপাশি, বিশ্বের বিভিন্ন প্রান্তে শান্তি, নিরাপত্তা এবং উন্নত ভবিষ্যতের আশা নিয়ে উৎসবের উৎসাহে প্রকম্পিত হয়েছে সাধারণ মানুষ। মহাকালের সুস্পষ্ট চিহ্ন হিসেবে, প্রশান্ত মহাসাগরীয় দ্বীপ রাষ্ট্র কিরিটিমাতি, টোঙ্গা এবং নিউজিল্যান্ডে আন্তর্জাতিক সময়ের কাছাকাছি থেকে সবাইকে প্রথমে পড়ে উদ্দেশ্যপূর্ণ সূচনা হয়। এরপর, অস্ট্রেলিয়ার সিডনি হারবার ব্রিজে জাঁকজমকপূর্ণ আতশবাজির ঝলকানি আকাশকে রঙিন করে তোলে, যেখানে প্রায় সাত কিলোমিটার ব্যাপ্তি क्षेत्र জুড়ে উপস্থিত দর্শকরা লক্ষাধিক আতশবাজির জোড়াতালি উপভোগ করেন। তবে এ বছরের সিডনি উৎসবে কিছুটা শোকের ছায়াও ছিল; সম্প্রতি এক হামলার শিকার নিহতদের স্মরণে সেখানে এক মিনিট নীরবতা পালিত হয় এবং হারবার ব্রিজে আলোকচিত্রের মাধ্যমে ঐক্যের বার্তা প্রদান করা হয়।

এশিয়া মহাদেশে দক্ষিণ কোরিয়ার সিউলে ঐতিহ্যবাহী বোসিংগাক বেল প্যাভিলিয়নে ৩৩ বার ঘণ্টা বাজিয়ে শান্তি ও সমৃদ্ধির প্রার্থনা করা হয়। অন্যদিকে, চীনে মহাপ্রাচীরের জুয়ং পাস এলাকায় ড্রাম বাজিয়ে এবং নাচ-গানে যোগ দিয়ে হাজার হাজার মানুষ স্বাগত জানিয়েছেন ২০২৬ সালকে। ইউরোপের ক্রোয়েশিয়ায় দুপুরে নতুন বছর উদযাপন করা হয়, যেখানে তীব্র শীত উপেক্ষা করে জনতার উল্লাসে মেতে ওঠে। ল্যাটিন আমেরিকার ব্রাজিলের রিও ডি জেনিরো এর কোপাকাবানা সৈকতেও, বিশ্বের বৃহত্তম নিউ ইয়ার সেলিব্রেশনের মাধ্যমে নতুন রেকর্ড গড়ার পরিকল্পনা সেরে নেওয়া হয়। অপরদিকে, নিউ ইয়র্কের টাইমস স্কোয়ারেও ঠাণ্ডার মাঝেও অসংখ্য মানুষ ঐতিহ্যবাহী ‘বোল ড্রপ’ উপভোগ করতে উপস্থিত হয়, যেখানে তুষার ঝরছে এবং জনতার ভিড় উপচে পড়ছে।

এমন উৎসবের মাঝেও, যুদ্ধবিধ্বস্ত ইউক্রেনের কিয়েভে মানুষের মুখে শান্তির জন্য গভীর আকুতি দেখা গেছে। দীর্ঘ চার বছর ধরে রুশ বাহিনীর সঙ্গে চলমান যুদ্ধের ক্লান্ত ওই দেশের নাগরিকরা শুধু চায় একটি নিরাপদ, সংঘাতমুক্ত ও শান্তিপূর্ণ দেশ। কিয়েভের সেন্ট সোফিয়া ক্যাথেড্রালের সামনে বড়দিনের সাজানো গাছের নিচে দাঁড়িয়ে থাকা শিশুরা নতুন ভোরে শান্তি ফিরবে সেই বিশ্বাসের বার্তা দিয়ে বলছে, “আসন্ন সময়ে সব কিছু শান্তিপূর্ণ হোক।” এভাবেই, আনন্দ, উৎসব এবং বৈশ্বিক বিভিন্ন চ্যালেঞ্জের মধ্যেও, বিশ্বের সকল প্রাণে বয়ে চলেছে নতুন আশা ও প্রত্যাশার বাতাস। সারা বিশ্বে একই সঙ্গে শুরু হয়েছে ইংরেজি নতুন বছরের যাত্রা।