ঢাকা | শুক্রবার | ২৪শে জুলাই, ২০২৬ খ্রিস্টাব্দ | ৯ই শ্রাবণ, ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ | ১০ই সফর, ১৪৪৮ হিজরি

আন্তর্জাতিক বাজারে জ্বালানি তেলের দাম আপাতত স্থিতিশীল

বিশ্বরাজারণের দুইটি সংবেদনশীল কূটনৈতিক আলাপ-আলোচনার ফলাফলের অপেক্ষায় আন্তর্জাতিক অপরিশোধিত জ্বালানি তেলের দাম এখন আপাতত স্থিতিশীল অবস্থায় রয়েছে। বিনিয়োগকারীরা জেনেভায় যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের পরমাণু বিষয়ে চলমান আলোচনা এবং রাশিয়া-ইউক্রেন শান্তি বৈঠকের দিকে সতর্ক নজর রাখছেন; এই আলোচনার গতিপ্রকৃতি ভবিষ্যতে বৈশ্বিক জ্বালানি সরবরাহ ও দামকে বড় মাপে প্রভাবিত করতে পারে।

রয়টার্স জানায়, আজ আন্তর্জাতিক বাজারে ব্রেন্ট क्रুডের দাম ব্যারেলপ্রতি ৬৮.৪২ ডলার—এটি ২৩ সেন্ট বা ০.৩৪ শতাংশ কমেছে; অপরদিকে মার্কিন মানের ডব্লিউটিআই’র দাম ব্যারেলপ্রতি ৬৩.৫৭ ডলারে ১.০৮ শতাংশ বেড়েছে।

বাজারে এই মিলিত প্রবণতার পেছনে কয়েকটি কারণ কাজ করেছে। গত সোমবার যুক্তরাষ্ট্রে ‘প্রেসিডেন্টস ডে’ উপলক্ষে বাজার বন্ধ থাকায় আনুষ্ঠানিক দর নির্ধারণে وقفা তৈরি হয়েছিল, ফলে মঙ্গলবারের দর সেটির সঙ্গে সামঞ্জস্য করতে গিয়ে ওঠানামা দেখা গেছে। পাশাপাশি চীন, হংকং, দক্ষিণ কোরিয়া ও সিঙ্গাপুরে চন্দ্র নববর্ষের ছুটির কারণে এশিয়ার লেনদেনের পরিমাণ গত কয়েকদিনে কম ছিল—ফলশ্রুতিতে ভলিউম কম থাকায় বাজারে বড় ধরনের অস্থিরতা এড়ানো গেছে। তবে বাজারের দীর্ঘমেয়াদি স্থিতিশীলতা মূলত জেনেভা আলোচনার সিদ্ধান্তের উপর নির্ভরশীল।

বিশেষজ্ঞরা বলছেন, যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের সম্পর্কের উন্নতি হলে হরমুজ প্রণালী দিয়ে তেল পরিবহনে ঝুঁকি অনেকটাই কমবে—হরমুজ জাহাজবাহিত বিশ্বের মোট জ্বালানি তেলের প্রায় এক-পঞ্চমাংশ বহন করে। অন্যদিকে রাশিয়া-ইউক্রেন বিষয়ে কোনো স্থায়ী সমাধান হলে রাশিয়ার ওপর আরোপিত পশ্চিমা নিষেধাজ্ঞা হাটিয়ে দিলে রুশ তেল বাজারে আবার সহজলভ্য হয়ে উঠতে পারে, যা সরবরাহ বাড়িয়ে দাম কমাতে সাহায্য করবে।

নয়াদিল্লিভিত্তিক গবেষণা প্রতিষ্ঠান ‘এসএস ওয়েলথস্ট্রিট’-এর প্রতিষ্ঠাতা সুগন্ধা সচদেবা বলেন, বর্তমানে প্রথাগত চাহিদা-সরবরাহের সূত্ৰের থেকে কূটনৈতিক সংকেতই তেলের দরের ওপর বেশি প্রভাব ফেলছে। তিনি সতর্ক করে জানান, আলোচনার টেবিলে যদি কোনো অচলাবস্থা হয় বা নেতিবাচক সঙ্কেত আসে, দাম যেকোনো সময় বড়ভাবে ওঠানামার মুখে পড়তে পারে।

জেনেভায় ওমানের মধ্যস্থতায় ইরান ও যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যে দীর্ঘসময় পরোক্ষ সংলাপ শুরু হয়েছে, যেখানে মার্কিন অংশগ্রহণকারীরূপে জ্যারেড কুশনার ও স্টিভ উইটকফ এবং ইরানের পক্ষে পররাষ্ট্রমন্ত্রী আব্বাস আরাগচি রয়েছেন। আলোচনার শুরুতেই ইরান واشিংটনকে অনুরোধ করেছে যে, অসাধ্য বা অবাস্তব দাবি থেকে বিরত থাকা হবে। এদিকে হরমুজ প্রণালী সংলগ্ন ইরানের সামরিক মহড়া কিছু উদ্বেগ বাড়িয়েছে, কিন্তু পারস্য উপসাগরীয় আরব দেশগুলো মুখোমুখি সংলাপ ও কূটনৈতিক সমাধানের ওপর জোর দিচ্ছে।

সামগ্রিকভাবে বিশ্ব জ্বালানি বাজারের ভবিষ্যৎ আপাতত জেনেভা সংলাপের চূড়ান্ত সিদ্ধান্তের ওপর ঝুলে আছে; কূটনৈতিক ঘটনাপ্রবাহই আগামী দিনে তেল দর বাড়বে নাকি নামবে—তারই ইঙ্গিত দেবে।