ঢাকা | রবিবার | ৫ই জুলাই, ২০২৬ খ্রিস্টাব্দ | ২১শে আষাঢ়, ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ | ২০শে মহর্‌রম, ১৪৪৮ হিজরি

আয়াতুল্লাহ আলী খামেনির প্রতি শেষ শ্রদ্ধা: ছয় দিনব্যাপী আনুষ্ঠানিকতা শুরু, লাখো মানুষের ঢল

ইরানের সাবেক সর্বোচ্চ নেতা আয়াতুল্লাহ আলী খামেনির ছয় দিনব্যাপী আনুষ্ঠানিক বিদায় অনুষ্ঠান শনিবার সকালে শুরু হয়েছে। দেশীয় টেলিভিশনের বরাত দিয়ে বলা হয়েছে, তেহরানের গ্র্যান্ড মোসাল্লা প্রাঙ্গণে রাষ্ট্রীয়ভাবে এই কর্মসূচির উদ্বোধন করা হয়।

ভোর থেকেই রাজধানীজুড়ে হাজার হাজার মানুষ শেষ শ্রদ্ধা জানাতে ভিড় জমাতে শুরু করেন। মরদেহ গ্র্যান্ড মোসাল্লা পৌঁছানোর আগেই পুরো এলাকা মানুষের সইতেও পারছিল না—জনসমুদ্র হাতে লাল পতাকা উঁচিয়ে দাঁড়িয়ে ছিল, যা সংবাদে ‘প্রতিশোধের প্রতীক’ হিসেবে বর্ণনা করা হয়েছে, এবং ‘আমেরিকা মন্ত্র’ ও ‘প্রতিশোধ’ জাতীয় স্লোগান রাজধানী জুড়ে প্রতিধ্বনিত হচ্ছিল।

আনুষ্ঠানিকতার শুরুতে গ্র্যান্ড মোসাল্লা কমপ্লেক্সের মূল চত্বর শোকাহত মানুষে ভরে ওঠে। নিরাপত্তা ও জনপরিবহন নিয়ন্ত্রণের পরিপ্রেক্ষিতে রাজধানীতে কঠোর যান চলাচল সীমাবদ্ধ করা হয়; ফলে অনেকেই কয়েক কিলোমিটার পথ হেঁটে অনুষ্ঠানস্থলে পৌঁছাতে বাধ্য হন।

সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে যে ভিডিওগুলো ছড়িয়েছে, সেগুলোতে দেখা যায় মেট্রো স্টেশনগুলোয় দীর্ঘ সারি; সাধারণ মানুষ অধীর আগ্রহে অপেক্ষা করছেন তাদের প্রিয় নেতাকে শেষবার দেখার জন্য। চেহারায় অনুতাপ ও আবেগ মিশ্রিত—অনেকে হাত জোড় করে বিবেকী শ্রদ্ধা জ্ঞাপন করছেন।

তেহরানের আনুষ্ঠানিকতা শেষ হওয়ার পর খামেনির মরদেহ নিয়ে একটি বিশেষ শোভাযাত্রা প্রতিবেশী ইরাকে অনুষ্ঠিত হওয়ার কথা রয়েছে। তারপর ধর্মীয় রীতি অনুযায়ী তাকে দাফন করা হবে। অনুষ্ঠানজুড়ে উদ্বেগ, শোক ও রাষ্ট্রীয় মর্যাদা—এই সব মিশে ছিল শোকাভিভূত জনতার পরিবেশে।