ঢাকা | মঙ্গলবার | ২১শে এপ্রিল, ২০২৬ খ্রিস্টাব্দ | ৮ই বৈশাখ, ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ | ৪ঠা জিলকদ, ১৪৪৭ হিজরি

ইতিহাদে হালান্ডের ঝড়ে আর্সেনাল নড়ে চড়ে, শিরোপা লড়াই আরও উত্তেজনাপূর্ণ

ইতিহাদ স্টেডিয়ামে অনুষ্ঠিত রোমাঞ্চকর এক ম্যাচে আর্সেনালকে ২-১ গোলে হারিয়ে শিরোপা প্রতিযোগিতায় আগ্রাসী হয়ে উঠেছে ম্যানচেস্টার সিটি। দলের নেপথ্যহী রাইস—আর্লিং হালান্ডের দারুণ ফিনিশিং সিটিকে গুরুত্বপূর্ণ তিন পয়েন্ট এনে দেয় এবং আর্সেনালের শিরোপা আশা আরও অনিশ্চিত করে তোলে। এই জয়ের ফলে পেপ গার্দিওলার শিষ্যরা গত নয় বছরে সপ্তম শিরোপার পথে আরেক ধাপ এগিয়ে গিয়েছে।

ম্যাচ শুরুরই শুরুতে উত্তেজনা ছড়ায়। ১৬ মিনিটে স্বাগতিক গ্যালারিতে উল্লাস বিরাজ করে যখন রায়ান শেরকি নান্দনিক এক গোল করে সিটিকে এগিয়ে দেন। মাথেউস নুনেসের নিখুঁত পাস থেকে বল পেয়ে আক্রমণভাগে বিশ্লেষণাত্মক দক্ষতায় দুই ডিফেন্ডারকে ছাড়িয়ে জাল কাঁপান তিনি। তবে এই আনন্দ দীর্ঘস্থায়ী হয়নি। মাত্র দুই মিনিট পর গোলরক্ষক জিয়ানলুইজি দোন্নারুম্মার একটি ভুল ক্লিয়ারেন্সকে কাজে লাগিয়ে কাই হাভার্টজ সমতা ফিরিয়ে দেন। দোন্নারুম্মার ব্যাক-পাস দেরির সুযোগে হাভার্টজ নিশ্চিতভাবে মাঠের সমতা বজায় করান—যা তাঁর লিগে প্রথম গোল বলে চিহ্নিত হয়।

বিরতির পর আর্সেনাল ফিরে আসার চেষ্টা করলেও ম্যানসিটির আক্রমণভাগ ছিল জোরালো ও ধারালো। হালান্ডের এক শট গোলপোস্টে লেগে ফিরে গেলে সিটি গোলবঞ্চিত হয়, অন্যদিকে আর্সেনাল অধিনায়ক মার্টিন ওডেগার্ডের পাস থেকে হাভার্টজের আরেক সুযোগও রুখে দেন দোন্নারুম্মা। ম্যাচের সিদ্ধান্ত আসে শেষ দৌড়ে: নিকো ও’রাইলির ক্রসে রদ্রির ছোঁয়া পেয়ে ডি-বক্সের ভেতরে থাকা হালান্ড বলটি গ্রহণ করে ছন্দময় এক ফিনিশিং করে সিটিকে ২-১ ব্যবধানে এগিয়ে দেন। ম্যাচের শেষ মুহূর্তগুলোতে আর্সেনালের গ্যাব্রিয়েলের একটি হেড পোস্টে লেগে ফিরে গেলে আর্তেতার দলকে নিশ্চিত পরাজয় মেনে নিতে হয়।

এই পরাজয় আর্সেনালের জন্য টানা দ্বিতীয় প্রতিপক্ষের কাছে হার এবং শিরোপার সমীকরণকে জটিল করে দিয়েছে। যদিও তালিকায় আর্সেনাল সাময়িকভাবে এগিয়ে আছে, ম্যানচেস্টার সিটির হাতে একটি ম্যাচও বাকি থাকায় কৌশলগতভাবে সুবিধা এখন সিটির দিকে। গত সপ্তাহে বোর্নমাউথের কাছে হারের পর এই রকম বড় ম্যাচে পয়েন্ট হারায় ‘গানার্স’—যা তাদের আত্মবিশ্বাসে কাঁপুনি সৃষ্টি করতে পারে। ফলে লিগের বাকি ম্যাচগুলো এখন প্রত্যেকটিই উভয় দলের জন্য শেষপর্যায়ের ফাইনালের মতো হয়ে দাঁড়িয়েছে।

একই রাতে মার্সিসাইড ডার্বিতেও উত্তেজনা ছিল প্রবল। লিভারপুল এভারটনকে ২-1 গোলে হারিয়ে তিন পয়েন্ট তুলতে সক্ষম হয়। হিল ডিকিনসন স্টেডিয়ামে খেলা ম্যাচের অর্ধশেষ অতিরিক্ত সময়ে ডমিনিক সবসলাইয়ের কর্নার থেকে অধিনায়ক ভার্জিল ফন ডাইকের দুর্দান্ত হেড লিভারপুলকে জয়ে পৌঁছে দেয়। এই জয়ের ফলে লিভারপুল পয়েন্ট টেবিলে ঊষ্ম অবস্থান আরও মজবুত করে, চেলসির চেয়ে সাত পয়েন্ট এগিয়ে থেকে শীর্ষ ছয়ের লড়াইয়ে সুবিধা নিল।

সব মিলিয়ে প্রিমিয়ার লিগের এই রোমাঞ্চকর রাত ফুটবলপ্রেমীদের মনে নতুন উৎকণ্ঠা তৈরি করেছে। লীগ শেষ হওয়া পর্যন্ত প্রতিটি ম্যাচ এখন নতুন নাটক ও ঘটনার সম্ভাবনা রেখে চলেছে।