যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প বলেছেন, সৌদি আরব যদি আব্রাহাম অ্যাকর্ডসে যোগ দেয়—অর্থাৎ ইসরায়েলকে আনুষ্ঠানিকভাবে স্বীকৃতি দেয়—তবেই ওয়াশিংটন এবং রিয়াদের মধ্যে বেসামরিক পারমাণবিক সহযোগিতা চুক্তি কার্যকর হবে। স্থানীয় সময় বৃহস্পতিবার (২৩ জুলাই) নিজের মালিকানাধীন ট্রুথ সোশ্যাল প্ল্যাটফর্মে তিনি এই মন্তব্য করেছেন এবং জানান, এই কর্মসূচির আওতায় ইউরেনিয়াম সমৃদ্ধকরণের সুযোগ থাকবে না।
ট্রাম্প আরও বলেন, এই চুক্তি শুধুমাত্র বেসামরিক কাজে পারমাণবিক শক্তির ব্যবহার নিশ্চিত করবে। তিনি বলেন, যুক্তরাষ্ট্র বেসামরিক পারমাণবিক স্থাপনা ও কর্মসূচির বিরুদ্ধে নয় এবং এ ধরনের সহযোগিতা রয়েছে অন্যান্য কয়েকটি দেশের সঙ্গেও। তবে এ চুক্তির বাস্তবায়ন সম্পূর্ণরূপে নির্ভর করবে সৌদি আরবের আব্রাহাম অ্যাকর্ডসে যোগদানের সিদ্ধান্তের ওপর। ট্রাম্প বর্ণনা দেন যে এই ব্যবস্থার মাধ্যমে আরব দেশগুলোর সঙ্গে ইসরায়েলের সম্পর্ক স্বাভাবিক করার উদ্যোগ নেওয়া হচ্ছে।
এর আগে ওয়াশিংটন ও রিয়াদের মধ্যে এমন এক প্রাথমিক সমঝোতা থাকা কথা বলা হয়েছে, যার আওতায় সৌদি আরব যুক্তরাষ্ট্রের প্রযুক্তি ব্যবহার করে ইউরেনিয়াম সমৃদ্ধ করতে এবং পারমাণবিক চুল্লি নির্মাণের সুযোগ পেতে পারবে। সে প্রস্তাবনায় বলা হয়েছিল যে সৌদি ক্ষেত্রে ইরানের ক্ষেত্রে প্রযোজ্য যে তাৎক্ষণিক জাতিসংঘ পরিদর্শনের শর্ত দেওয়া হয়েছিল, তা প্রয়োগ নাও হতে পারে—এই দিকটিও আলোচনা চলছে।
তবে Riyadh-এর দীর্ঘদিনের অবস্থান হলো, তারা আব্রাহাম অ্যাকর্ডসে যোগ দেবেন শুধুমাত্র তখনই যখন ফিলিস্তিনি রাষ্ট্র প্রতিষ্ঠার অনুকূল ও গ্রহণযোগ্য কোনো রূপরেখা দেওয়া হবে। আব্রাহাম অ্যাকর্ডস হলো ২০২০ সালে মার্কিন মধ্যস্থতায় শুরু হওয়া কূটনৈতিক উদ্যোগ, যার মাধ্যমে ইসরায়েল ও কয়েকটি আরব দেশের মধ্যে সম্পর্ক স্বাভাবিক করার উদ্যোগ নেওয়া হয়। প্রথম দফায় ২০২০ সালের ১৫ সেপ্টেম্বর হোয়াইট হাউসে ওই চুক্তিগুলো আনুষ্ঠানিকভাবে স্বাক্ষরিত হয়। এ পর্যন্ত সংযুক্ত আরব আমিরাত, বাহরাইন, মরক্কো ও সুদান সেই অ্যাকর্ডসে যোগ দিয়েছে।
সাম্প্রতিক এই মন্তব্য ও পূর্বের আলোচনার প্রেক্ষাপটে দেখা যাচ্ছে যে, বেসামরিক পারমাণবিক সহযোগিতা, ইসরায়েলের সঙ্গে সম্পর্ক স্বাভাবিককরণ এবং ফিলিস্তিনি সমস্যার রাজনৈতিক সমাধান—এসবের মধ্যে সৌদি আরবের ভূমিকা ও শর্তই চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নির্ধারণে বড় প্রভাব রাখবে।







