ঢাকা | শনিবার | ১৭ই জানুয়ারি, ২০২৬ খ্রিস্টাব্দ | ৩রা মাঘ, ১৪৩২ বঙ্গাব্দ | ২৮শে রজব, ১৪৪৭ হিজরি

ই-জিপি সিস্টেমে দরপত্রের সংখ্যা দেড় মিলিয়ন ছাড়ালো

বাংলাদেশ পাবলিক প্রকিউরমেন্ট অথরিটি (বিপিপিএ) এর ইলেকট্রনিক গভর্নমেন্ট প্রোকিউরমেন্ট (ই-জিপি) সিস্টেমের মাধ্যমে আহ্বানকৃত দরপত্রের সংখ্যা, দরদাতা এবং ক্রয়কারী সংস্থার নিবন্ধনের সংখ্যা ব্যাপকভাবে বৃদ্ধি পেয়েছে। এই ডিজিটাল প্ল্যাটফর্মটি ২০১১ সালে চালু হওয়ার পর থেকে সরকারি ক্রয় ব্যবস্থাকে আধুনিক, দ্রুত এবং স্বচ্ছ করার লক্ষ্য নিয়ে কাজ করছে। এর ব্যবহার সহজলভ্যতা, দ্রুত কার্যকারিতা এবং শক্তিশালী নিরাপত্তা ব্যবস্থা এর জনপ্রিয়তা বাড়িয়েছে, যার ফলে দরদাতা ও ক্রয়কারী উভয়ই এই টেকনোলজির সাথে একাত্ম হয়ে পড়েছে।

মঙ্গলবার (৯ ডিসেম্বর) প্রকাশিত এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে জানানো হয়, প্রথম চালুর পর থেকে ২০২৫ সালের ৩০ নভেম্বর পর্যন্ত ই-জিপি সিস্টেমের মাধ্যমে মোট দরপত্রের সংখ্যা ১০ লাখ ছাড়িয়েছে। এরবর্তমানে মোট দরপত্রের মূল্য দাঁড়িয়েছে ১০ লাখ ২৯ হাজার ৯৯৩ কোটি টাকা। এক দশকের বেশি সময়ে, ২০১১ থেকে ২০২৪ সালের নভেম্বর পর্যন্ত মোট দরপত্রের সংখ্যা ছিল ৮ লাখ ৭৭ হাজার, যার দাম ছিল ৯ লাখ ২২ হাজার ৬৬৩ কোটি টাকা।

বিশ্লেষণ অনুযায়ী, ২০২৫ সালের নভেম্বরের মধ্যে এক মাসের মধ্যে নতুন করে ২৩ হাজার দরপত্র আহ্বান হয়েছে, যা এই সিস্টেমের জন্য এক রেকর্ড। ই-জিপি চালু হওয়ার পর এ ধরনের মাসিক দরপত্রের সংখ্যা সর্বোচ্চ।

সংবাদসূত্রে জানা যায়, এই উল্লেখযোগ্য বৃদ্ধির পেছনে ২০২৫ সালের ২৮ সেপ্টেম্বর থেকে কার্যকর হয়েপাবলিক প্রকিউরমেন্ট বিধিমালা (পিপিআর), ২০২৫ এর প্রভাব রয়েছে। নতুন এই বিধিমালায় সরকারি সব ক্রয়ে ই-জিপির ব্যবহার বাধ্যতামূলক করা হয়েছে, যা প্ল্যাটফর্মের কার্যক্রমকে আরও ত্বরান্বিত করেছে।

বর্তমানে প্রতিদিন ২০০ থেকে ৩০০টি দরপত্রের নিবন্ধনের জন্য আবেদন আসছে, যেখানে আগে গড়ে প্রতিদিন ছিল শুধু ৬০ থেকে ৭০। এই বৃদ্ধির ফলে ২০২৫ সালের নভেম্বরে ই-জিপিতে নিবন্ধিত দরদাতাদের সংখ্যা বেড়ে হয়েছে ১ লাখ ৪৩ হাজার ৩৭৪, যা ২০২৪ সালের প্রথমে ছিল ১ লাখ ২০ হাজার ৭৭৭।

এক কর্মকর্তা জানান, ২০১১ সালে সিস্টেম চালু হওয়ার পরে এক বছরেও এত বেশি দরদাতা নিবন্ধন করেনি। ক্রয়কারী সংস্থার সংখ্যাও ২০২৪ সালে ছিল ১ হাজার ৪৭৪, যা ২০২৫ সালের নভেম্বরের মধ্যে বেড়ে ১ হাজার ৪৯৯ এ পৌঁছেছে। একইভাবে, ক্রয়কারীর সংখ্যা ১২ হাজার ৬০২ থেকে বেড়ে হয়েছে ১৪ হাজার ৩৭৪।

বিপিপিএর প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা (সচিব) এস এম মঈন উদ্দীন আহমেদ পিপিআর, ২০২৫ এর প্রণয়ন ও এর কার্যক্রমকে দেশের সরকারি ক্রয় সংস্কারে এক গুরুত্বপূর্ণ অগ্রগতি বলে অভিহিত করেছেন। তিনি বলেন, এই বিধিমালা সরকারি ক্রয়কে আরও সুসংগঠিত করবে। বর্তমানে, সরকারি ক্রয়ে বছরে প্রায় ৩০ বিলিয়ন মার্কিন ডলারের সমমানের অর্থ ব্যয় হয়। পিপিআর, ২০২৫ এর প্রয়োগ সরকারি ক্রয়ে স্বচ্ছতা, দায়বদ্ধতা ও কার্যকারিতা ব্যাপকভাবে বৃদ্ধি করবে বলে আমরা আশাবাদী।