ঢাকা | রবিবার | ১৭ই মে, ২০২৬ খ্রিস্টাব্দ | ৩রা জ্যৈষ্ঠ, ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ | ৩০শে জিলকদ, ১৪৪৭ হিজরি

ঈদুল আজহায় বড় পর্দায় জীবনানন্দের ‘বনলতা সেন’

জীবনানন্দ দাশের কালজয়ী কবিতার রহস্যময়ী নারী চরিত্র ‘বনলতা সেন’ এবার বড় পর্দায় দর্শকের সামনে আসছে। কয়েক দফা পিছিয়ে যাওয়ার পর সরকারি অনুদানপ্রাপ্ত এই বহুল প্রতীক্ষিত সিনেমাটির মুক্তি চূড়ান্তভাবে নির্ধারণ করা হয়েছে—আগামী কোরবানির ঈদে প্রেক্ষাগৃহে দেখানো হবে তথ্যটি শুক্রবার (১৫ মে) সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে প্রকাশ করা নতুন পোস্টারের মাধ্যমে আনুষ্ঠানিকভাবে নিশ্চিত করেন ছবিটির কেন্দ্রীয় চরিত্রে অভিনয় করা অভিনেত্রী মাসুমা রহমান নাবিলা। নির্মাতারা বলেছেন, জীবনানন্দের কবিতার প্রতি পাঠকদের যে অনুরাগ ও আবেগ আছে, সেটিই ছবির মূল ভাবনা হিসেবে কাজ করেছে।

নতুন পোস্টারটি দর্শকদের কৌতূহল বাড়িয়ে দিয়েছে। পোস্টারে দেখা যায় একটি বৃহৎ প্রাচীন ফটক, যার ওপর ময়ূরের পালকের মতো নকশা সম্বলিত একটি রাজমুকুট ঝকঝকে করে দাঁড়িয়ে আছে। ফটকের এক বড় চাবির ছিদ্রে একজন মানুষ আঙুল ফেলে ভেতরের দিকে উঁকি দিচ্ছে—যা গল্পের রহস্যপূর্ণ পরিবেশকে তুলে ধরছে। পোস্টারের ক্যাপশনে নাবিলা লিখেছেন, এটি কোনো জাদুমন্ত্রের ঘর নয়; এমন একটি ঘর, যার চাবি থাকলেও তালা খোলার কোনো সরাসরি উপায় নেই—এই ধাঁধাময় বাক্য দিয়ে তিনি দর্শকদের রূপালি পর্দায় বনলতা সেনের জীবন ও জগত দেখার আমন্ত্রণ জানিয়েছেন।

অভিনয় নির্বাচনে আরও চমক আনা হয়েছে। জীবনানন্দের নিজস্ব উপস্থিতি ফুটিয়ে তুলতে রুপালি পর্দায় কবির চরিত্রে অভিনয় করেছেন জনপ্রিয় অভিনেতা খায়রুল বাসার। জানা গেছে, তিনি কবির মনস্তত্ত্ব ও আভাসধর্মী বোধভঙ্গি ধরে আনাতে বড় পরিশ্রম করেছেন। এছাড়াও গুরুত্বপূর্ণ চরিত্রে অভিনয় করেছেন সোহেল মণ্ডল, নাজিবা বাশার, প্রিয়ন্তী উর্বী, রূপন্তী আকিদ, শরিফ সিরাজ সহ অনুর্ধ্ব একজন প্রতিভাবান শিক্ষানী। তাদের সম্মিলিত পারফরম্যান্স ছবিটিকে ভিন্ন মাত্রায় নিয়ে যাবে বলে নির্মাণ সংস্থার তরফে আশাবাদ ব্যক্ত করা হচ্ছে।

চলচ্চিত্রটি ২০২১-২২ অর্থবছরে বাংলাদেশ সরকারের পক্ষ থেকে ৭০ লাখ টাকা অনুদান পেয়েছিল। পরিচালক মাসুদ হাসান উজ্জ্বল দীর্ঘ সময় ধরে এই প্রজেক্ট নিয়ে কাজ করেছেন এবং মূল পরিকল্পনা ছিল ২০২৪ সালে ছবিটি মুক্তির জন্য নিয়ে আসা। তবে দেশের তৎকালীন রাজনৈতিক ও সামাজিক অস্থিতিশীলতার কারণে মুক্তি কয়েক দফা পিছিয়ে যায়। সব জটিলতা কাটিয়ে এখন এটি কোরবানির ঈদে দর্শকের সামনে আনা হচ্ছে, যা নির্মাতা ও সংশ্লিষ্টদের মতে ঈদের বিশেষ আকর্ষণ হিসেবে প্রেক্ষাগৃহে যেতে পারে।

জীবনানন্দের কবিতার রূপক ও দর্শনধারাকে চলচ্চিত্রের ভাষায় পরিণত করার চেষ্টা করা হয়েছে এই ছবিতে। নির্মাতা ও কলাকুশলীরা মনে করেন, বাংলা চলচ্চিত্রপ্রেমীদের জন্য এটি একটি ভিন্নধর্মী, ভাবনামূলক এবং দৃশ্যত সমৃদ্ধ অভিজ্ঞতা হবে।