পবিত্র ঈদুল ফিতরে মুক্তি পাওয়া ডার্ক-থ্রিলার ‘রাক্ষস’ দর্শকদের মধ্যে তীব্র উন্মাদনা সৃষ্টি করেছে। চিত্রনায়ক সিয়াম আহমেদের ভিন্নধর্মী অভিনয় ও টানটান গল্প দেখে সিনেমাপ্রেমীরা প্রেক্ষাগৃহে ভিড় করছেন, ফলে মুক্তির প্রথম দিন থেকেই সিনেমাটির সম্পর্কে ইতিবাচক আলোচনা চলছে।
রাজধানীর জনপ্রিয় মাল্টিপ্লেক্স স্টার সিনেপ্লেক্সে ঈদের দিন মাত্র ১৪টি শো দিয়ে যাত্রা শুরু করে ‘রাক্ষস’। দর্শকদের অভূতপূর্ব সাড়া পাওয়ার পর চার দিনের মধ্যে সেই সংখ্যা বাড়িয়ে ২০টিরও বেশি করা হয়েছে। এই দ্রুত শো বৃদ্ধি ছবির প্রযোজনা ও পরিবেশকদের জন্য বড় সাফল্য হিসেবে ধরা হচ্ছে। প্রযোজক শাহরিন আক্তার সুমি বলেন, দর্শক আগ্রহ বাড়তে থাকলে শো বৃদ্ধির এই ধারা অব্যাহত থাকলে ছবিটি বড় ধরনের বাণিজ্যিক সাফল্য আনতে পারে।
তরুণ নির্মাতা মেহেদী হাসান হৃদয়ের ব্যানারে তৈরি ‘রাক্ষস’ তার দ্বিতীয় ছবি; তার পূর্বের আলোচিত কাজ ছিল ‘বরবাদ’। নির্মাতা জানিয়েছেন, ‘রাক্ষস’ মূলত ‘বরবাদ’ সিনেমার একটি বিস্তৃত ইউনিভার্সের অংশ হিসেবে নির্মিত হয়েছে এবং এটি দর্শকদের জন্য নতুন ধরনের অভিজ্ঞতা দিতে সক্ষম হয়েছে।
চিত্রনাট্যে সিয়ামের বিপরীতে ছিলেন কলকাতার জনপ্রিয় অভিনেত্রী সুষ্মিতা চ্যাটার্জি; পাশাপাশি আলী রাজ ও সোহেল মণ্ডলের মতো অভিজ্ঞ চরিত্রাভিনেতারাও গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকায় ছিলেন। ছবির সঙ্গীতে বিশেষ আকর্ষণ যোগ করেছেন বলিউড অভিনেত্রী নাতালিয়া জানোসজেক, যার উপস্থিতি কৌতূহল ও আলোচনার কারণ হয়েছে।
বড় ক্যানভাসের মান বজায় রাখতে চলচ্চিত্রটির দৃশ্যধারণ করা হয়েছে বাংলাদেশ, শ্রীলঙ্কা ও মুম্বাইয়ের বিভিন্ন লোকেশনে; এতে কারিগরি মান ও ভিজ্যুয়াল ইফেক্টে জোর রয়েছে বলে নির্মাণশিল্পীরা জানান। প্রযোজনা প্রতিষ্ঠান রিয়েল এনার্জি আগেও শাকিব খান অভিনীত ‘বরবাদ’ দিয়ে ব্যবসায়িক সফলতা পেয়েছিল; বিশ্লেষকরা মনে করছেন, ‘রাক্ষস’ দিয়েও সেই ধারাবাহিকতা বজায় রাখতে তারা সক্ষম হতে পারে।
সব মিলিয়ে এবারের ঈদে ‘রাক্ষস’ নিজস্ব ঘরানা থেকে দর্শকপ্রিয়তা জিতেই রেখেছে এবং শো বৃদ্ধির সঙ্গে দর্শক সাড়া বেড়ে চলায় ব্যবসায়িক সাফল্যের সম্ভাবনা উজ্জ্বল মনে হচ্ছে।







