ঢাকা | বৃহস্পতিবার | ৩০শে জুলাই, ২০২৬ খ্রিস্টাব্দ | ১৫ই শ্রাবণ, ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ | ১৬ই সফর, ১৪৪৮ হিজরি

উপদেষ্টা পরিষদে নতুন অর্থবছরের বাজেট অনুমোদন

নতুন অর্থবছরের জন্য সাত লাখ ৯০ হাজার কোটি টাকার জাতীয় বাজেট অনুমোদন দিয়েছে উপদেষ্টা পরিষদ। রবিবার, ২২ জুন তেজগাঁওয়ে অনুষ্ঠিত এই বৈঠকে প্রধান উপদেষ্টা অধ্যাপক ড. মুহাম্মদ ইউনূস সভাপতিত্ব করেন।

বাজেট অনুমোদনের পর আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে অর্থ উপদেষ্টা ড. সালেহউদ্দিন আহমেদ জানান, বাজেটের পরিমাণে কোনো পরিবর্তন আনা হয়নি এবং তারা কোনো নতুন মেগাপ্রকল্প গ্রহণ করছেন না। এছাড়াও, পুরনো কিছু প্রকল্প বাদ দিয়ে বার্ষিক উন্নয়ন কর্মসূচির (এডিপি) অর্থায়ন একটি বাস্তবসম্মত পর্যায়ে নিয়ে আসা হয়েছে।

ড. সালেহউদ্দিন আরও জানান, বাজেট সংক্রান্ত তিনটি গুরুত্বপূর্ণ পরিবর্তন এসেছে। প্রথমত, সামাজিক নিরাপত্তা খাতে বরাদ্দ ৮১ হাজার ২৯৭ কোটি টাকার পরিবর্তে বাড়িয়ে ৯১ হাজার ২৯৭ কোটি টাকা করা হয়েছে, অর্থাৎ ১০ হাজার কোটি টাকা বৃদ্ধি পেয়েছে।

দ্বিতীয়ত, ডব্লিউটিওর সঙ্গে থাকা রফতানি খাতের প্রণোদনা কমানোর চুক্তির তৃতীয় ধাপ শুরু করার সময়সূচী পরিবর্তন করে জানুয়ারির আগে এই ধাপ শুরু করা হবে না বলে সিদ্ধান্ত হয়েছে, কারণ প্রস্তুতির জন্য সময় প্রয়োজন।

তৃতীয়ত, অর্থসংক্রান্ত অন্যান্য কিছু সংশোধন করা হয়েছে, যা বর্তমান অর্থনৈতিক পরিস্থিতির সঙ্গে সঙ্গতি রেখে নেওয়া হয়েছে।

অর্থমন্ত্রী জানান, অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের সময় সংসদ না থাকায় এবার সমস্ত ব্যয় ও সংশোধিত অর্থ অধ্যাদেশ উপদেষ্টা পরিষদ থেকে অনুমোদিত হয়েছে। রাষ্ট্রপতির সম্মতি পেলেই এই অধ্যাদেশ গেজেট আকারে প্রকাশিত হয়ে তাৎক্ষণিক কার্যকরে লাগু হবে।

এবারের বাজেট উপস্থাপন অর্থনৈতিক ও রাজনৈতিক ভিন্ন বাস্তবতার মধ্যে হয়ে গেলো। গত ২ জুন অর্থ উপদেষ্টা সালেহউদ্দিন আহমেদ সংসদ না থাকায় বাজেট বক্তৃতা প্রদান করেন, যা সরাসরি সম্প্রচারিত হয় বাংলাদেশ টেলিভিশন এবং বাংলাদেশ বেতারে। এই পরিস্থিতি মূলত জুলাইয়ের অভ্যুত্থানের পর বাংলাদেশের রাজনৈতিক অবস্থানের পরিবর্তনের ফলাফল। এই অনন্য পরিস্থিতিতে বাজেট বিতরণ উপকরণ ও অনুমোদনে নবীন রূপ ধারণ করেছে।