ঢাকা | মঙ্গলবার | ২৮শে জুলাই, ২০২৬ খ্রিস্টাব্দ | ১৩ই শ্রাবণ, ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ | ১৪ই সফর, ১৪৪৮ হিজরি

একসময়ের ঘনিষ্ঠ সঙ্গী থেকে এখন বড় প্রতিপক্ষ: ট্রাম্প ও ইলন মাস্কের তীব্র সংঘর্ষ

ইলন মাস্কের প্রতিষ্ঠিত কোম্পানিগুলোকে ফেডারেল সরকারের পক্ষ থেকে বিলিয়ন ডলারের ভর্তুকি বন্ধ করার হুমকি দিয়েছেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। গত মঙ্গলবার ট্রাম্পের এই ঘোষণা দিয়েছে দুই প্রাক্তন ঘনিষ্ঠের মধ্যে জমে থাকা দ্বন্দ্বকে আরও জোরদার করেছে।

বাকযুদ্ধের মূল কেন্দ্রবিন্দু হলো ট্রাম্পের পরিচিত ‘‘বিগ বিউটিফুল বিল’’—একটি ট্যাক্স কাটা ও ব্যয় সংকোচনের বিল যা সিনেটে অনুমোদিত। এর ফলে বৈদ্যুতিক গাড়ির জন্য বরাদ্দ সরকারি ভর্তুকি ও করছাড় বাতিল হতে পারে, যা দীর্ঘদিন ধরে টেসলা কোম্পানি ভোগ করে আসছিল। মাস্ক এই বিলের সমালোচনা করে বলেন, এটি ব্যবসার জন্য ক্ষতিকর এবং সেখান থেকেই শুরু হয় তাদের ব্যক্তিগত ও রাজনৈতিক দ্বন্দ্বের সূত্রপাত।

কয়েকদিন আগেই ফ্লোরিডার মার-এ-লাগোয় ব্যক্তিগত ভোজে যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ট্রাম্পের আমন্ত্রণে বিশ্বব্যাপী শীর্ষ ব্যবসায়ী ও টেসলার প্রধান নির্বাহী মাস্ক এক টেবিলে বসে রাজনীতি, অর্থনীতি থেকে ব্যক্তিগত জীবন পর্যন্ত নানা আলোচনা করেছিলেন। তখন তারা ছিলেন ঘনিষ্ঠ মিত্র, মাস্ক ছিলেন ট্রাম্পের টাস্কফোর্স ‘ডিওজিই’-এর প্রধান, যা সরকারি ব্যয় কমানোর লক্ষ্যে গঠিত ছিল। কিন্তু এখন বন্ধুত্ব ভেঙে মুখোমুখি দুই শিবিরে পরিণত হয়েছেন তারা।

এই দ্বন্দ্ব শুধু রাজনীতির সীমাবদ্ধ নয়, ব্যবসায়িক ইস্যু থেকে শুরু করে সামাজিক মাধ্যমে নানা রকম চরম বাকবিতণ্ডায় মিশে গেছে। মাস্ক সম্প্রতি ট্রাম্পের বিলের বিরুদ্ধে তীব্র সমালোচনা জানিয়ে বলেছেন, তিনি নতুন একটি রাজনৈতিক দল গঠন করবেন এবং এই বিল সমর্থনকারী আইনপ্রণেতাদের পরাস্ত করতে প্রচুর অর্থ খরচ করবেন। যদিও আগে মাস্ক সরকারি ব্যয় কমানোর পক্ষে কাজ করতেন, এই অবস্থান এখন পুরোপুরি পরিবর্তিত হয়েছে।

টেসলা কোম্পানির প্রতি বছর ভর্তুকি ও করছাড়ের মাধ্যমে মার্কিন ভোক্তাদের বৈদ্যুতিক গাড়িতে আগ্রহী করানো হয়েছে। ট্যাক্স ক্রেডিট বন্ধ হলে কোম্পানিটির আয় প্রায় ১.২ বিলিয়ন ডলার পর্যন্ত কমতে পারে, যা ২০২৪ সালের মোট পরিচালন আয়ের প্রায় ১৭ শতাংশ। এর ফলে টেসলার শেয়ারমূল্যে ইতিমধ্যে ৫ শতাংশের বেশি পতন ঘটেছে। বিশ্লেষকরা মনে করছেন, মাস্কের এই দ্বন্দ্ব টেসলার ব্যবসার ভবিষ্যতের জন্য বড় চ্যালেঞ্জ হয়ে দাঁড়াচ্ছে।

দ্বন্দ্ব উত্তপ্ত হওয়ার পেছনে ব্যক্তিগত আস্থার ভঙ্গ, রাজনৈতিক মতবিরোধ, আর্থিক স্বার্থের সংঘাতসহ অনেক কারণ রয়েছে। মাস্ক ও ট্রাম্প উভয়েই একে অপরের বিরুদ্ধে কঠোর বক্তব্য ব্যক্ত করছেন, যা আগামী দিনে আরও জটিলতা ডেকে আনতে পারে। এর প্রভাব শুধু তাদের ব্যক্তিগত সম্পর্কেই সীমাবদ্ধ থাকবেনা, দেশের অর্থনীতি এবং প্রযুক্তি খাতে বড় ধরনের প্রতিকূল ফলাফলও হতে পারে।