ঢাকা | বুধবার | ২০শে মে, ২০২৬ খ্রিস্টাব্দ | ৬ই জ্যৈষ্ঠ, ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ | ৩রা জিলহজ, ১৪৪৭ হিজরি

এনইসিতে ৩ লাখ কোটি টাকার উন্নয়ন বাজেট পাস: যোগাযোগ, শিক্ষা ও স্বাস্থ্য খাতে সর্বাধিক বরাদ্দ

আগামী ২০২৬-২৭ অর্থবছরের জন্য রেকর্ড সংখ্যক তিন লাখ কোটি টাকার উন্নয়ন নীতিমালা (এডিপি) অনুমোদন দিয়েছে জাতীয় অর্থনৈতিক পরিষদ (এনইসি)। সোমবার রাজধানীর আগারগাঁওয়ে অনুষ্ঠিত বৈঠকে প্রধানমন্ত্রী সভাপতিত্ব করেন। এই গুরুত্বপূর্ণ সভায় এসব পরিকল্পনা নেয়া হয় যেখানে অর্থনীতি, শিক্ষা, স্বাস্থ্যসহ বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ খাতে ব্যাপক উন্নয়ন প্রকল্পের সূচনা হবে বলে আশা করা হচ্ছে।

সভা শেষে অর্থ ও পরিকল্পনামন্ত্রী আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরী জানান, এই বৃহৎ বাজেটটি যথাযথভাবে দেশের উন্নয়নে সহায়ক হবে। তিনি বলেন, আমরা আমাদের নির্বাচনী ইশতেহার বাস্তবায়নকে সবচেয়ে গুরুত্ব দিয়েছি। এডিপির মাধ্যমে দেশের উন্নয়ন ও সমৃদ্ধি আরও গতিশীল হবে এবং গুণগত পরিবর্তন আসবে।

অর্থমন্ত্রী আরও বলেন, বাজেটের প্রধান লক্ষ্য হলো উন্নয়ন প্রকল্পের বাস্তবায়ন বাড়ানো। বিশেষ করে স্বাস্থ্য ও শিক্ষা খাতকে অগ্রাধিকার দেওয়া হয়েছে। স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ের চলমান প্রকল্পগুলোতে বরাদ্দ করা হয়েছে প্রায় ছয় হাজার আট শ কোটি টাকা, যা দেশের জনস্বাস্থ্য উন্নয়নে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে।

এই বাজেটে সবচেয়ে আলোচিত বিষয়টি হলো অস্বাভাবিক থোক বরাদ্দ, যা মোট বাজেটের এক-তৃতীয়াংশেরও বেশি। পরিকল্পনা কমিশনের রিপোর্ট অনুযায়ী, এই বছরের এডিপির মোট পরিমাণ রাখা হয়েছে তিন লাখ কোটি টাকা। এর মধ্যে সরকার নিজস্ব অর্থায়ন বা জিওবি অংশ এক লাখ ৯০ হাজার কোটি টাকা, এবং বৈদেশিক ঋণ ও অনুদান এক লাখ ১০ হাজার কোটি টাকা। এছাড়া, স্বায়ত্তশাসিত সংস্থা ও করপোরেশনের প্রকল্পের জন্য যোগ হয়েছে আরও আট হাজার ৯২৪ কোটি টাকা, যার ফলে মোট উন্নয়নের মোট ব্যয় দাঁড়ায় তিন লাখ আট হাজার ৯২৪ কোটি টাকার বেশি।

বাজেটে বিভিন্ন মন্ত্রণালয়, বিশেষ উন্নয়ন সহায়তা এবং সামাজিক উন্নয়ন প্রকল্পের জন্য পৃথক বরাদ্দ রাখা হয়েছে। এসবের মধ্যে এক লাখ ১৮ হাজার ২৮৮ কোটি টাকা বিশেষ বরাদ্দ হিসেবে, এবং সরাসরি প্রকল্পভিত্তিক বরাদ্দ প্রায় এক লাখ ৮১ হাজার ৭১১ কোটি টাকা। অর্থাৎ, বেশিরভাগ বরাদ্দই নির্দিষ্ট প্রকল্পের বাইরে থাকছে, যা অতীতের তুলনায় বেশি এবং আর্থিক স্বচ্ছতা নিয়ে প্রশ্ন তুলছে।

বিশেষভাবে, উন্নয়ন সহায়তার জন্য রাখা হয়েছে ৩৮ হাজার ২৭ কোটি টাকা, যেখানে সামাজিক উন্নয়ন সহায়তার জন্য রয়েছে ১৭ হাজার কোটি টাকা। এর মধ্যে সমাজকল্যাণ মন্ত্রণালয়ের Fামিলি কার্ড কর্মসূচির জন্য ১৪ হাজার ৫০০ কোটি এবং কৃষি মন্ত্রণালয়ের কৃষক কার্ডের জন্য ১ হাজার ৪০০ কোটি টাকা বরাদ্দ আছে। ধর্মবিষয়ক মন্ত্রণালয়ও দায়িত্বপ্রাপ্ত কর্মীদের সম্মানী বাবদ ১ হাজার ১০০ কোটি টাকা রেখেছে।

নতুন অর্থবছরের এডিপির আওতায় মোট ১,১২১ প্রকল্পের পরিকল্পনা রয়েছে। এর মধ্যে ৯৪৯টি বিনিয়োগ প্রকল্প, ১০৭টি কারিগরি সহায়তা প্রকল্প, এবং ৪৩টি স্বায়ত্তশাসিত সংস্থার নিজস্ব প্রকল্প। এছাড়াও, ১,২৭৭টি নতুন অননুমোদিত প্রকল্পের তালিকায় রয়েছে, যেগুলোর অনুমোদন দ্রুত সময়ের মধ্যে সম্পন্ন হবে বলে আশা করা হচ্ছে। জুনের মধ্যে ২২৩টি প্রকল্পের কার্যক্রম সম্পন্ন করার লক্ষ্য নির্ধারিত হয়েছে।

তবে এত বড় বাজেটের বাস্তবায়ন নিয়ে বেশ কিছু শঙ্কাও দেখা দিয়েছে। চলতি অর্থবছরের প্রথম ৯ মাসে মাত্র ৩৬.১৯ শতাংশ এডিপির বাস্তবায়ন হয়েছে। জিওবি পর্যায়ে এই অংশীদারিত্বের হার ৩৩ শতাংশের বেশি; অন্যদিকে, বৈদেশিক ঋণ ও অনুদান ব্যবহারে ব্যবহার ৪০ শতাংশের কাছাকাছি। এই পরিস্থিতিতে বড় ধরনের বাজেট বাস্তবায়ন কতটা সম্ভব, তা নিয়ে অস্থিরতা বিরাজ করছে।