দুর্নীতি দমন কমিশনের (দুদক) নতুন চেয়ারম্যান বিচারপতি এ কে এম আসাদুজ্জামান এবং দুই কমিশনার ড. জাহাঙ্গীর আলম খান ও ড. সাজ্জাদ হোসেন ভূঁইয়া গতকাল মন্ত্রিপরিষদ বিভাগে যোগদান করেছেন। আজ থেকে তারা দুদকের প্রধান কার্যালয়ে নিয়মিত অফিস করে দায়িত্ব পালন শুরু করবেন।
গতকাল মঙ্গলবার দুদকের প্রধান কার্যালয়ে সচিব সাইদুর রহমান খান এই তথ্য নিশ্চিত করেন। তিনি জানান, দীর্ঘ প্রতীক্ষার অবসান ঘটেছে। গত সোমবার গেজেটের মাধ্যমে নতুন কর্মকর্তা নিয়োগের প্রক্রিয়া সম্পন্ন হয়েছে। দুদকের নতুন চেয়ারম্যান ও দুই কমিশনার বেলা ২টার দিকে মন্ত্রিপরিষদ বিভাগে যোগদান করেন। আজ থেকে তারা দুদকের কার্যালয়ে এসে দায়িত্ব গ্রহণ করবেন।
সচিব আরো বলেন, আজ থেকে দুদকের নতুন যাত্রা শুরু হলো। জনগণের প্রত্যাশা পূরণ হবে—এমন আশাবাদ ব্যক্ত করেন তিনি।
গত সোমবার রাষ্ট্রপতি সুপ্রিম কোর্টের অবসরপ্রাপ্ত বিচারপতি এ কে এম আসাদুজ্জামানকে দুদকের চেয়ারম্যান নিয়োগ দেন। একই প্রজ্ঞাপন অনুযায়ী ড. জাহাঙ্গীর আলম খান ও ড. সাজ্জাদ হোসেন ভূঁইয়া কমিশনার হিসেবে নিয়োগ পান। মন্ত্রিপরিষদ সচিব নাসিমুল গনির স্বাক্ষরিত প্রজ্ঞাপে এই তথ্য জানানো হয়।
প্রজ্ঞাপনে উল্লেখ করা হয়েছে, ‘দুর্নীতি দমন কমিশন আইন, ২০০৪’ এর ধারা ৬-এর উপধারা (১) এর অধীন বিচারপতি এ কে এম আসাদুজ্জামান, ড. জাহাঙ্গীর আলম খান ও ড. সাজ্জাদ হোসেন ভূঁইয়া কমিশনার হিসেবে নিয়োগ পেয়েছেন। এছাড়াও, আইনের ধারা ৫-এর উপধারা (১) অনুসারে বিচারপতি এ কে এম আসাদুজ্জামানকে কমিশনের চেয়ারম্যান হিসেবে নিয়োগ দেওয়া হয়।
দুদকের চেয়ারম্যান বিচারপতি এ কে এম আসাদুজ্জামান সুপ্রিম কোর্টের আপিল বিভাগের বিচারকের সমান পদমর্যাদা, বেতন, ভাতা এবং অন্যান্য সুবিধা লাভ করবেন। অন্যদিকে, কমিশনাররা হাইকোর্ট বিভাগের বিচারকের সমান পদমর্যাদা, বেতন ও ভাতা পাবেন বলে জানানো হয়।
বিচারপতি এ কে এম আসাদুজ্জামান ১৯৫৯ সালের ১ মার্চ নওগাঁর সাপাহার উপজেলায় জন্মগ্রহণ করেন। তাঁর বাবা এম এ সামাদ একজন প্রখ্যাত আইনজীবী। তিনি রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয় থেকে এলএলবি (সম্মান) ও এলএলএম ডিগ্রি অর্জন করেন। ১৯৮৩ সালের ৫ সেপ্টেম্বর ঢাকা জেলা বার্তালিকাবদলে আইনজীবী হিসেবে যোগ দেন। পরে তিনি ১৯৮৫ সালের ৫ সেপ্টেম্বর হাইকোর্টে এবং ২০০১ সালের ২৫ অক্টোবর আপিল বিভাগে আইনজীবী হিসেবে তালিকাভুক্ত হন।
২০০৩ সালের ২ আগস্ট হাইকোর্টে অতিরিক্ত বিচারপতি হিসেবে যোগ দেন এবং ২৭ আগস্ট তিনি স্থায়ী বিচারপতি হিসেবে নিয়োগ পান। ২০২৫ সালের ২৫ মার্চ তিনি আপিল বিভাগের বিচারপতি হন। এই দীর্ঘ বিচারিক জীবনঝুঁকতে তিনি সংবিধান, ফৌজদারি ও দেওয়ানি আইন সহ নানা গুরুত্বপূর্ণ মামলার শুনানি ও রায় প্রদান করেছেন। তাঁর সিদ্ধান্তগুলো দেশের বিচারজগতের জন্য দৃষ্টান্ত হয়ে রয়ে গেছে। ২০২৬ সালের ২৮ ফেব্রুয়ারি তিনি আপিল বিভাগের বিচারপতি থেকে অবসর গ্রহণ করেন।
নতুন কমিশনার ড. সাজ্জাদ হোসেন ভূঁইয়া জাতীয় রাজস্ব বোর্ডের (এনবিআর) সাবেক কর কমিশনার। তিনি অন্তর্বর্তী সরকারের সময় অর্থমন্ত্রী ও অর্থ মন্ত্রণালয়ের অধীন ফিন্যান্সিয়াল রিপোর্টিং কাউন্সিলের (এফআরসি) চেয়ারম্যানের দায়িত্বও পালন করেছেন। অপর কমিশনার জনাব ড. জাহাঙ্গীর আলম খান অবসরপ্রাপ্ত সচিব। তিনি ১৯৮৫ ব্যাচের কর্মকর্তা ছিলেন।




