ঢাকা | মঙ্গলবার | ৩রা মার্চ, ২০২৬ খ্রিস্টাব্দ | ১৮ই ফাল্গুন, ১৪৩২ বঙ্গাব্দ | ১৪ই রমজান, ১৪৪৭ হিজরি

কেইনের ৫০০ গোল, শিরোপার পথে বায়ার্নের আরও একধাপ এগিয়ে

হ্যারি কেইন গোল করা যেন এখন তার জন্য স্বাভাবিক একটা ব্যাপার। বায়ার্ন মিউনিখের জার্সিতে এই ইংলিশ ফরোয়ার্ডের এই ধারা আরও একবার ফুটবল প্রেমীদের মুগ্ধ করেছে। গতকাল বুন্দেস লিগার গুরুত্বপূর্ণ ম্যাচে ওয়ার্ডার ব্রেমেনের বিপক্ষে জোড়া গোল করে তিনি পেশাদার ক্যারিয়ারে ৫০০ গোলের বিশাল মাইলফলক স্পর্শ করেন। এই অসাধারণ অর্জনের দিনে বায়ার্ন ৩-০ ব্যবধানে জয় পায় এবং শিরোপার দৌড়ে আরও একধাপ এগিয়ে যায়। বর্তমানে তারা ২২ ম্যাচে ৫৭ পয়েন্ট সংগ্রহ করে শীর্ষে অবস্থান বজায় রাখছে, যেখানে দ্বিতীয় অবস্থানে থাকা ডর্টমুন্ডের সংগ্রহ ৫১ পয়েন্ট। এই জয়ে তাদের মধ্যে পার্থক্য ৬ পয়েন্টে এসে দাঁড়িয়েছে।

ওয়ার্ডার ব্রেমেন টেবিলের নিচের দিকে পড়ে থাকায় তাদের জন্য এই ম্যাচ ছিল খুবই গুরুত্বপূর্ণ। ম্যাচের শুরু থেকেই বায়ার্ন আধিপত্য দেখাতে থাকেন। ২৫ মিনিটে দলের ১৭ বছর বয়সী যুব মিডফিল্ডার লেনার্ট কার্লের ফাউলের কারণে পেনাল্টি পায় বায়ার্ন। সফলভাবে হ্যারি কেইন সেই পেনাল্টি কুপিয়ে দলকে লিড এনে দেন। তিন মিনিটের মধ্যেই ডি-বক্সের বাইরে থেকে এক নিখুঁত শটে তিনি নিজের ৫০০তম গোলের মাইলফলক পূর্ণ করেন। চলমান মৌসুমে এটি তার মোট ২৬তম গোল। ৭০ মিনিটে আলফনসো ডেভিসের পাস থেকে গোরেৎজকা লক্ষ্যভেদ করে তৃতীয় গোলটি করেন, যা দলটির জয় নিশ্চিত করে।

তবে জয়ের উল্লাসের মাঝে একটু দুশ্চিন্তা দেখা দেয়, যখন দলের অধিনায়ক ও গোলরক্ষক ম্যানুয়েল নয়্যার ইনজুরিতে পড়েন। প্রথমার্ধ শেষের দিকে পায়ের মাংসপেশিতে চোট পাওয়ায় মাঠ ছেড়েছেন তিনি। তবে গোলের পরিসংখ্যান এবং দলীয় অগ্রগতি নিরপেক্ষভাবে দেখলে বোঝা যায়, বায়ার্ন তাদের শীর্ষ অবস্থানে রয়েছে এবং গোল ব্যবধানে অনেক এগিয়ে। এই ধারাবাহিক পারফরম্যান্সে তাদের শিরোপার আশার আলো আরও জোড়ালো হলো।

ম্যাচের শেষে নিজের অনুভূতি ব্যক্ত করে কেইন বলেন, ৫০০ গোলের মাইলফলক অর্জন তার জন্য অনেক বড় গর্বের বিষয়। তার ক্যারিয়ার শুরু ২০১১ সালে লেইটন ওরিয়েন্টের হয়ে প্রথম গোল করে। ১৫ বছরের এই খেলোয়াড়ের যাত্রায় কঠোর পরিশ্রম ও ত্যাগের কথা স্মরণ করে তিনি বলেন, এই উচ্চতায় পৌঁছানোর জন্য তাকে অসংখ্য চড়াই-উতরাই পার করতে হয়েছে। তবে তার কাছে সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হলো, ব্যক্তিগত অর্জনের চেয়ে দলের জয় এবং কোনও গোল হজম না করে মাঠ ত্যাগ করা। তিনি আরও জানান, ভবিষ্যতেও এই ধারাবাহিকতা বজায় রেখে দলকে শিরোপা জয় করতে চান।