আমতলী উপজেলার চাওড়া ইউনিয়নের কাউনিয়া গ্রামের অটোচালক মনিরুল ইসলাম আক্ষেপ করে বলছেন, “আমরা গরিব মানুষ। আমাদের কপালে ইলিশ মাছ নেই। এই আনন্দটা পায় টাকা থাকা বড়লোকরা।” इলিশের মৌসুম হলেও বাজারে ইলিশের দাম এতটাই বেশি যে গরিব ও মধ্যবিত্ত পরিবারের পক্ষে তা কেনা প্রায় অসম্ভব হয়ে পড়েছে।
এক সময় বঙ্গোপসাগরের পায়রা, বলেশ্বর ও বিষখালী নদী রুপালী ইলিশে ভরা ছিল। কিন্তু সময়ের সঙ্গে সঙ্গে ঐ নদীগুলোতে ইলিশের সংখ্যা কমে এসেছে। ইলিশ শিকারের মৌসুম জুন থেকে নভেম্বর পর্যন্ত, যার ভরা মৌসুম জুলাইয়ের শেষ থেকে নভেম্বর পর্যন্ত। এই সময় জেলেরা বঙ্গোপসাগর ও মোহনা নদীতে ইলিশ ধরে থাকেন। আমতলী-তালতলী উপজেলায় প্রায় ১৫ হাজার ৭৯৯ জন জেলে রয়েছেন, যাদের অধিকাংশ ইলিশ শিকার করে থাকেন। ৫৮ দিনের নিষেধাজ্ঞার পর গত ১১ জুন জেলেরা ইলিশ শিকার শুরু করেছেন এবং সাম্প্রতিক সময়ে ইলিশের জাল ধরতে পেরেছেন।
তবে ইলিশের দাম এতটাই বেড়ে গিয়েছে যে গরিব ও মধ্যবিত্ত মানুষের নাগালের বাইরে চলে গেছে। তালতলী মৎস্য অবতরণ কেন্দ্রে পাওয়া তথ্য অনুযায়ী, ইলিশ মাছ সাধারণত চার ক্যাটাগরিতে বিক্রি হয়: ২০০-৩০০ গ্রাম, ৪০০-৬০০ গ্রাম, ৭০০-৯০০ গ্রাম ও ১০০০ গ্রামের উপরে। প্রথম ক্যাটাগরির ইলিশের মণ প্রতি দাম ৩৫ হাজার টাকা, দ্বিতীয় ক্যাটাগরির ৬০ হাজার টাকা, তৃতীয় ক্যাটাগরির ৮০ হাজার টাকা এবং সবচেয়ে বড় ক্যাটাগরির ইলিশ ১ লাখ ২০ হাজার টাকায় বিক্রি হয়। যার ফলে কেজিসহ দাম দাঁড়ায় ৮৫০ টাকা থেকে ৩ হাজার টাকার মধ্যে।
এই দামে কোনো গরিব বা মধ্যবিত্ত পরিবার ইলিশ কেনা সম্ভব নয়। অনেক পরিবার গত দুই বছর ধরে ইলিশ খাননি বলে দাবি করেন স্থানীয়রা। জেলেরা বলছেন, সাগর ও পায়রা নদীর ইলিশ স্থানীয় বাজারে কম যায়, অধিকাংশ মাছ ঢাকা, যশোর, খুলনা, সাতক্ষীরা, পাবনা, গাজীপুর, মাদারীপুর ও অন্যান্য এলাকায় রপ্তানি করা হয়। বিশেষ করে মাদারীপুর জেলায় বড় সাইজের ইলিশের চাহিদা বেশি।
এই পরিস্থিতি নিয়ে সংশ্লিষ্টরা জানাচ্ছেন, বাজারে ইলিশের দাম বেড়েছে পাইকারি চাহিদার কারণে। স্থানীয় মানুষের হাত নাগালে দাম না থাকায় তারা ইলিশ কিনছেন না। আমতলী-তালতলী উপজেলার সিনিয়র মৎস্য কর্মকর্তা তন্ময় কুমার দাশ ও বরগুনা জেলা মৎস্য কর্মকর্তা মো. মহসিন মিয়া জানাচ্ছেন, মূল্য নিয়ন্ত্রণে তাদের কোন সরাসরি নিয়ন্ত্রণ নেই, তবে ইলিশ উৎপাদন বৃদ্ধির উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। বরং জেলার একটি কমিটির মাধ্যমে মূল্য নিয়ন্ত্রণ ও বিষয় আলোচনা করা হবে বলে জানিয়েছেন তারা।
গরিব মানুষদের স্বপ্ন প্রায় হারানোযে রূপালী ইলিশ মাছ এখন শুধু বড়লোকদের খাদ্য, সাধারণ মানুষের জন্য হয়ে দাঁড়িয়েছে এক বিলাসিতা।









