ঢাকা | রবিবার | ১২ই জুলাই, ২০২৬ খ্রিস্টাব্দ | ২৮শে আষাঢ়, ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ | ২৭শে মহর্‌রম, ১৪৪৮ হিজরি

গান, কবিতা ও স্মৃতিচারণে মুস্তাফা মনোয়ারকে গভীর শ্রদ্ধায় স্মরণ

দেশের পপেট ও থিয়েটারের জানের মানুষ, চারুশিল্পী, নাট্যনির্দেশক ও শিল্পগবেষক মুস্তাফা মনোয়ারকে গত শুক্রবার সন্ধ্যায় বাংলাদেশ শিল্পকলা একাডেমির জাতীয় নাট্যশালায় গান, কবিতা ও স্মৃতিচারণের মাধ্যমে গভীর শ্রদ্ধায় স্মরণ করা হয়েছে। অনুষ্ঠানে উপস্থিত শিল্পী, সঙ্গীতজ্ঞ ও সংস্কৃতি কর্মীরা তাঁর জীবন ও কাজের নানা বাঁক সরাসরি শ্রোতাপর্যায়ে তুলে ধরেন।

স্মরণসভা শুরু হয় সংক্ষিপ্ত জীবনী পাঠ ও শেষকালের কিছু অনুচ্ছেদ পড়ে শোনানো দিয়ে। এরপর নাট্যশালার মূল মিলনায়তনে মুস্তাফা মনোয়ারের প্রতিকৃতির সামনে ফুল ছিটিয়ে ও মোমবাতি প্রজ্বালনের মাধ্যমে শ্রদ্ধা জানানো হয়। আয়োজনের সঙ্গে paraleloভাবে তাঁর আঁকা ছবি ও জীবনকর্মভিত্তিক এক বিশেষ প্রদর্শনীরও আয়োজন করা হয়েছিল। প্রদর্শনীতে সঞ্চিত ছিল তাঁর হাতে তৈরি করা জনপ্রিয় পাপেট চরিত্রগুলো — মন্ত্রী, গিট্টু, রাজা, বাঘা, মেনি, কুশ্রী ছানা, বাউল, শিক্ষক, ষাঁড়, বকর, পণ্ডিত ও ড্রাগনসহ বহু চরিত্র, যা দর্শকদের নজর কাড়ে।

অফজাল হোসেনের সঞ্চালনায় অনুষ্ঠিত অনুষ্ঠানে বক্তৃতা করেন মরহুমের স্ত্রী মেরি মনোয়ার, সাংস্কৃতিক ব্যক্তিত্ব নাসির উদ্দিন ইউসুফ বাচ্চু, চিত্রকর ও কার্টুনিস্ট রফিকুন নবী, অভিনেতা শহীদুজ্জামান সেলিম, নৃত্যশিল্পী শামীম আ’রা নিপা, অভিনেতা আব্দুল আজিজ, কেরামত মওলা, মনিরুজ্জামান, তারিক আনাম খান ও হাবিবুল আলম। তারা এককথায় মুস্তাফা মনোয়ারের শিল্পের প্রতি নিষ্ঠা, অনন্য সৃজনশীলতা ও ‘জীবনের জন্য শিল্প’ দর্শনের কথা তুলে ধরে তার মুগ্ধকর জীবনকর্মকে শ্রদ্ধাভরে স্মরণ করেন।

অনুষ্ঠানের বক্তারা আরও ভোর হন যে মুস্তাফা মনোয়ার শুধু পাপেট শিল্পকেই সমৃদ্ধ করেননি, বরং এই শিল্পকে দেশের সাংস্কৃতিক জীবনের এক অবিচ্ছেদ্য অংশে পরিণত করার জন্য পুঁজি দিয়েছেন। তাঁর সঙ্গে কাজ করা এবং স্মৃতিচারণের সময় উপস্থিতরা ব্যক্তিগত গল্প, মঞ্চের কাহিনি ও শিল্পীর সরল মনের নানা মুহূর্তও শেয়ার করেন, যা অনুষ্ঠানে উপস্থিত দর্শকদের আবেগতৃষ্ণা মিটিয়ে দেয়।

মুস্তাফা মনোয়ার দীর্ঘদিন বার্ধক্যজনিত নানা জটিল রোগে ভুগছিলেন। চিকিৎসাধীন অবস্থায় গত ২৯ জুন রাজধানীর স্কয়ার হাসপাতালে তিনি শেষ নিশ্বাস ত্যাগ করেন। তাঁর অসময়ে প্রয়াণ দেশের সংস্কৃতি অঙ্গনে গভীর শূন্যতা সৃষ্টি করেছে—এই অনুভূতিই স্মরণসভার প্রতিটি কথায় স্পষ্টভাবে ফুটে উঠেছিল। স্মরণসভা শেষে উপস্থিতরা তাঁর শিল্প ও আদর্শকে স্মরণ করে তা ধরে রাখার প্রত্যয় ব্যক্ত করেন।