ঢাকা | শুক্রবার | ১০ই জুলাই, ২০২৬ খ্রিস্টাব্দ | ২৬শে আষাঢ়, ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ | ২৫শে মহর্‌রম, ১৪৪৮ হিজরি

ঘণ্টায় প্রায় ২০০ কিমি গতিতে ‘বাভি’ — চীন ও তাইওয়ানের দিকে শক্তিশালী টাইফুন

শক্তিশালী টাইফুন ‘বাভি’ চীন ও তাইওয়ানের দিকে দ্রুত এগোচ্ছে। আনুমানিক গতিবেগ ঘণ্টায় প্রায় ২০০ কিলোমিটার হওয়ায় এটি আকারে এবং শক্তিতে সাম্প্রতিক বছরগুলোর মধ্যে বিরল—কয়েক দশকের মধ্যে সবচেয়ে শক্তিশালী বলে আভাস পান অভিধিবিদরা।

কয়েকদিন আগে চীনের উপকূলে আঘাত হানা টাইফুন ‘মায়সাক’-এর ক্ষয়ক্ষতি কাটিয়ে উঠার চেষ্টা চলছে; এমন অবস্থায় নতুন করে আরেকটি বড় ঝড়ের সতর্কতা জারি করা হয়েছে। তাইওয়ান কর্তৃপক্ষ বলেছে, রাজধানী তাইপো ও উত্তরাঞ্চলের পার্বত্য এলাকায় সর্বোচ্চ এক মিটার পর্যন্ত ভারী বৃষ্টি হতে পারে। দেশটির প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয় প্রায় ২৯ হাজার সেনাকে জরুরি প্রস্তুতিতে রেখেছে।

রয়টার্সের বরাত দিয়ে বলা হয়েছে, ২০২৪ সালের কং-রে টাইফুনের পর ‘বাভি’ এমন শক্তিশালী ঝড় হতে পারে—কং-রেতে তিনজন নিহত হন। চীনের জাতীয় আবহাওয়া কেন্দ্র জানিয়েছে, বর্তমানে প্রায় এক হাজার কিলোমিটার প্রশস্ত এই ঘূর্ণিঝড়টি উত্তর তাইওয়ানের পাশ দিয়ে অতিক্রম করে শনিবার সন্ধ্যায় পূর্বাঞ্চলীয় ফুজিয়ান প্রদেশে আঘাত হানতে পারে।

তাইওয়ানের কেন্দ্রীয় আবহাওয়া প্রশাসনের পূর্বাভাসকারী জেসন চ্যাং বলেন, সাম্প্রতিক বছরগুলোতে এত বড় আকারের ঝড় খুবই বিরল। তাঁর ভাষ্য অনুযায়ী ১৯৮৭ সালের পর বাভিই দ্বীপটিতে আঘাত হানা সবচেয়ে বড় টাইফুন হতে পারে।

স্থানীয় কর্মকর্তারা বৃহস্পতিবার এক সংবাদ সম্মেলনে জানিয়েছে, ‘মায়সাক’-এর ধ্বংসস্তূপের মধ্যে এখনও উদ্ধার অভিযান চলছে। সেই ঝড়ে গুয়াংজি অঞ্চলে অন্তত ৩৯ জন প্রাণ হারিয়েছেন এবং এখনও কমপক্ষে ৯ জন নিখোঁজ রয়েছেন।

বিশ্বের দ্বিতীয় বৃহত্তম অর্থনীতি চীন এবং এশিয়ার অন্যান্য অংশ—বিশেষ করে জাপান ও তাইওয়ান—সাম্প্রতিক বছরগুলোতে ক্রমেই তীব্র প্রাকৃতিক দুর্যোগে ভুগছে। বিজ্ঞানীরা বলেন, জলবায়ু পরিবর্তনের প্রভাবের কারণে এসব ঝড়ের তীব্রতা বাড়ছে; এ বছর ‘এল নিনো’ পরিস্থিতি আরও উদ্বেগ বাড়াতে পারে, ফলে তাপমাত্রা বাড়ার সঙ্গে ঘন ঘন ও বেশি শক্তিশালী টাইফুনের সম্ভাবনা থাকতে পারে।

বাণিজ্যিক আবহাওয়া প্রতিষ্ঠান অ্যাকুওয়েদারের বিশেষজ্ঞ জেসন নিকোলস জানিয়েছেন, বৃহস্পতিবার থেকেই ঝড়ের বাতাস কিছুটা দুর্বল হতে পারে, কিন্তু শুক্রবার থেকে সোমবার পর্যন্ত যখন বাভি তাইওয়ান ও পূর্ব চীনে আঘাত হানবে তখন এটি এখনও অত্যন্ত বিপজ্জনক অবস্থায় থাকবে। জাপানের ওকিনাওয়া প্রিফেকচারে প্রবল বাতাস, ভারী বৃষ্টি, ভূমিধস, বন্যা ও জলোচ্ছ্বাসের আশঙ্কায় সর্বোচ্চ সতর্কতা জারি করা হয়েছে।

মায়সাকের প্রভাবে চীনের হুবেই প্রদেশে অন্তত দুটি টর্নেডো এবং ব্যাপক বন্যার পরিস্থিতিও দেখা গেছে। টাইফুনের প্রভাব প্রশমানায় জাপান এয়ারলাইন্স শুক্রবার ৪৮টি অভ্যন্তরীণ ও ২টি আন্তর্জাতিক ফ্লাইট বাতিল করেছে—প্রায় ৭ হাজার ৬১০ জন যাত্রী এতে প্রভাবিত হবেন বলে জানানো হয়েছে। অল নিপ্পন এয়ারওয়েজও একই সময়ে দুইদিনে প্রায় ৬৭টি অভ্যন্তরীণ ফ্লাইট বাতিলের ঘোষণা দিয়েছে, এতে প্রায় ৭ হাজার ৭০০ যাত্রী প্রভাবিত হবেন।

ইম্পেরিয়াল কলেজ লন্ডনের ঘূর্ণিঝড় গবেষক শিয়াংবো ফেং সতর্ক করে বলেছেন, ‘বাভিকে বিশেষ নজর রাখা উচিত। এটি দীর্ঘ সময় ধরে উষ্ণ প্রশান্ত মহাসাগরের পানির ওপর দিয়ে অতিক্রম করেছে, ফলে বিপুল শক্তি ও আর্দ্রতা সঞ্চয় করেছে। স্থলে আঘাত হানলে বা উপকূলের কাছে এলে ব্যাপক ক্ষয়ক্ষতি হতে পারে—এবং এর পথে সামান্য পরিবর্তনও বড় ধরনের প্রভাব ফেলতে পারে।’

আহত ও ঝুঁকিপূর্ণ এলাকায় বসবাসকারীদের জরুরি নির্দেশনা মেনে চলতে বলা হচ্ছে—উচ্চভূমিতে অথবা বন্যা প্রবণ এলাকায় অবস্থান পরিবর্তন, প্রয়োজনীয় খাদ্য ও পানি সরবরাহ প্রস্তুত রাখা এবং কর্তৃপক্ষের হদিশে নিরাপদ স্থানগুলোতে আশ্রয় নেওয়া। আবহাওয়া বিভাগের আরও আপডেট এবং স্থানীয় প্রশাসনের নির্দেশনা মনোযোগ দিয়ে অনুসরণ করতে সবাইকে অনুরোধ করা হয়েছে।