ঢাকা | বৃহস্পতিবার | ২৯শে অক্টোবর, ২০২৬ খ্রিস্টাব্দ | ১৩ই কার্তিক, ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ | ১৮ই জমাদিউল আউয়াল, ১৪৪৮ হিজরি

চাপ বাড়লেও ভোগান্তি নেই, ঈদে বাড়ি ফিরছেন লাখো মানুষ

পবিত্র ঈদুল ফিতর আয়োজিত হতে একদিন বাকি। প্রিয়জনের সঙ্গে ঈদের আনন্দ ভাগ করতে নাড়ির টানে দেশজুড়ে বাড়ি ফিরছেন লাখো মানুষ। রাজধানী ঢাকা ও আশপাশের অঞ্চল থেকে আগত ঘরমুখো যাত্রীদের ভিড় বেড়েছে রাজবাড়ীর দৌলতদিয়া ঘাটেও—তবু বড় কোনো ভোগান্তির সৃষ্টি হয়নি।

বুধবার (১৮ মার্চ) সকাল থেকে ফেরি ও লঞ্চ ঘাটে থেমে থেমে চাপ দেখা গেলেও যাত্রাসুবিধা বজায় রাখা হয়েছে। লঞ্চ ও ফেরি থেকে নেমে যাত্রীরা সরাসরি ঘাট পারিয়ে গন্তব্যের উদ্দেশ্যে রওনা হচ্ছেন।

ঢাকার গাজীপুর থেকে যশোরগামী এক গার্মেন্টস কর্মী সেকেন্দার আলী বলেন, পথে কোনো বড় যানজট ছিল না। গাবতলি হলো, সেখানে থেকে সরাসরি পাটুরিয়া হয়ে নদী পেরিয়ে এসেছি। এখন শুধু বাড়ি পৌঁছালেই হবে।

পাংশাগামী মোটরসাইকেল চালক নুর মোহাম্মদ জানান, পাটুরিয়া ঘাটে মোটরসাইকেল নিয়ে ফেরিতে ওঠা কয়েকক্ষণের কাজ ছিল—রাস্তায় সময়কোটা ব্যয় হয়নি।

অন্য এক যাত্রী সুমন বলেন, বাসগুলোতে একটু বেশি ভাড়া নেওয়া হচ্ছে, তবে ঈদে তো যেতেই হবে—এ ধরনের ভাড়া বাড়বাড়ি সাধারণত দেখা যায়।

বিআইডব্লিউটিসি দৌলতদিয়া ঘাটের সহকারী মহাব্যবস্থাপক মো. সালাহ উদ্দিন বলেন, ঈদযাত্রায় ভোগান্তি কমাতে ফেরির সংখ্যা বাড়িয়ে ১৬টি থেকে ১৭টি করা হয়েছে। বর্তমানে এই নৌরুটে ১৭টি ফেরি ও ২০টি লঞ্চ নিয়মিত চলাচল করছে, ফলে পাটুরিয়া ঘাট থেকে যানবাহন ও যাত্রীরা সহজেই নদী পার হয়ে সুষ্ঠুভাবে দৌলতদিয়া প্রান্তে পৌঁছাতে পারছেন। তারা ঘাটে ভোগান্তি রোধে কার্যক্রম অব্যাহত রেখেছে।

গোয়ালন্দ উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা সাথী দাস জানান, ভোগান্তি ও অরাজকতা রোধে জেলা ও উপজেলা প্রশাসন সক্রিয়ভাবে ঘাটে মোবাইল কোর্টসহ পর্যবেক্ষণ চালাচ্ছে। তিনি বলেন, যাত্রীদের কাছ থেকে অতিরিক্ত ভাড়া নিতে দেওয়া হবে না—এমন নীতিই মেনে চলা হচ্ছে। এদিন একটি মাহিন্দ্র চালকের বিরুদ্ধে জনপ্রতি ৫০ টাকা করে বাড়তি ভাড়া নেওয়ার অভিযোগে মোট ৫০০ টাকা জরিমানা করেছেন মোবাইল কোর্ট।

আশা করা হচ্ছে, প্রশাসনের প্রস্তুতি ও পরিবহনগুলোতে সমন্বয়ের কারণে এবারও ঘরমুখো মানুষ নির্বিঘ্নে ও সুষ্ঠুভাবে তাদের গন্তব্যে পৌঁছাতে পারবেন।