চীন আফ্রিকার অর্থনৈতিক উন্নয়নে বড় একটি সম্মিলিত উদ্যোগ ঘোষণা করেছে। ঘোষণা অনুযায়ী মহাদেশের ৫৪টি দেশের মধ্যে ৫৩টি দেশ দুই বছর সময়সীমায় চীনের বাজারে কোনো শুল্ক ছাড়াই পণ্য রপ্তানি করতে পারবে। এই বিশেষ সুবিধায় দক্ষিণ আফ্রিকা, মিশর ও নাইজেরিয়ার মতো আফ্রিকার শীর্ষ ২০ অর্থনীতিও অন্তর্ভুক্ত রয়েছে। বিক্রয় চাহিদা বাড়ানো ও দ্বিপাক্ষিক বাণিজ্য সম্প্রসারণকে লক্ষ্য করে শুক্রবার (১ মে) থেকে এটি আনুষ্ঠানিকভাবে কার্যকরের ঘোষণা করা হয়েছে।
বিশেষজ্ঞরা বলছেন, এ সিদ্ধান্তকে চীন-আফ্রিকা সম্পর্কের একটি বড় মাইলফলক হিসেবে দেখা হচ্ছে। চীনের বাণিজ্য মন্ত্রণালয় ও স্টেট কাউন্সিলের শুল্ক কমিশন জানিয়েছে এই পদক্ষেপ শুধু বাণিজ্য বাড়াবে না, দুপক্ষের উন্নয়ন সহযোগিতা ও বিনিয়োগেও আরও গতিশীলতা আনবে। বিপুল জনসংখ্যার আফ্রিকা থেকে সস্তায় কাঁচামাল ও খাদ্যপণ্য আমদানি করে চীন তার আভ্যন্তরীণ চাহিদা মেটাবে এবং আফ্রিকার দেশগুলোর রপ্তানির সক্ষমতা বৃদ্ধি পাবে বলে তাদের যুক্তি।
চীনের এই উদার নীতি এমন সময় এসেছে যখন আন্তর্জাতিক বাণিজ্যকে কেন্দ্র করে বিশ্বস্ত অস্থিরতা বাড়ছে—মুহূর্তেও যুক্তরাষ্ট্র আমদানির ওপর শুল্ক বাড়ানোর পথে গিয়েছে বলে ওই সময়ে আলোচিত হয়। সেই প্রেক্ষাপটে চীনের প্রেসিডেন্ট শি জিনপিংয়ের এই পদক্ষেপকে বিশ্ব বাণিজ্যে চীনের উপস্থিতি আরও মজবুত করার কৌশল হিসেবেও দেখছেন বিশ্লেষকরা। এর আগেও চীন আফ্রিকার ৩৩টি অনুন্নত দেশের জন্য শুল্কমুক্তি ঘোষণা করেছিল; এবার প্রায় পুরো মহাদেশকেই সুবিধার আওতায় আনা হলো।
এত বৃহৎ এক সিদ্ধান্তের বাইরে একমাত্র দেশ হিসেবে রয়ে গেছে ইসওয়াতিনি। বেইজিংয়ের তরফে জানানো হয়েছে, ইসওয়াতিনি তাইওয়ানের সঙ্গে আনুষ্ঠানিক কূটনৈতিক সম্পর্ক বজায় রাখায় ‘এক চীন’ নীতির প্রতি আনুগত্য না থাকায় তাকে এই বিশেষ সুবিধা থেকে বাদ দেওয়া হয়েছে।
নতুন নীতির প্রভাব ইতোমধ্যেই দেখা দিতে শুরু করেছে। রাষ্ট্রীয় সংবাদমাধ্যম সিনহুয়ার খবরে বলা হয়েছে, দক্ষিণ আফ্রিকা থেকে পাঠানো ২৪ মেট্রিক টন আপেলের একটি চালান শনিবার শেনঝেন বন্দরে পৌঁছে তা কোনো শুল্ক ছাড়াই প্রথমবারের মতো বাজারে প্রবেশ করেছে। আগে কেনিয়ার কফি ও অ্যাভোকাডো এবং দক্ষিণ আফ্রিকার সাইট্রাস ও ওয়াইনসহ কিছু পণ্যের ওপর ৮ থেকে ৩০ শতাংশ পর্যন্ত শুল্ক ধার্য থাকত, যা এখন মওকুফ করা হয়েছে। আইভরি কোস্ট ও ঘানা-সহ অনেক দেশ এই ছাড় থেকে সরাসরি উপকৃত হবে বলে চীনের বাণিজ্য মন্ত্রণালয় জানিয়েছে।
অর্থনৈতিক বিশ্লেষকরা মনে করছেন, বিশ্ব বাণিজ্যের বর্তমান গঠনে এ ধরনের নীতি দীর্ঘমেয়াদে পশ্চিমা দেশগুলোর প্রভাবকে চ্যালেঞ্জ করতে পারে। তবে সুবিধাটি কার্যকরভাবে কাজে লাগাতে আফ্রিকার দেশগুলোকে রপ্তানি মান, সরবরাহশৃঙ্খল শক্তিশালী করা এবং চীনের বাজারজাতকরণে প্রতিযোগিতামূলক স্ট্র্যাটেজি গড়ে তুলতে হবে। চীনের এই উদ্যোগ দুপক্ষের জন্যই বড় সম্ভাবনা রাখলেও বাস্তবে এর সুফল কতটা ছড়িয়ে পড়বে, তা নির্ভর করবে তারা কতো দ্রুত প্রস্তুতি নিতে পারে তার ওপর।









