ঢাকা | শুক্রবার | ১লা মে, ২০২৬ খ্রিস্টাব্দ | ১৮ই বৈশাখ, ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ | ১৪ই জিলকদ, ১৪৪৭ হিজরি

জয়পুরহাটে হিমাগার সিন্ডিকেটে জিম্মি হচ্ছেন কৃষকরা

জয়পুরহাট জেলা দেশের আলু উৎপাদনে দ্বিতীয় বৃহত্তম হলেও এবার এলাকার কৃষক ও ব্যবসায়ীরা হিমাগার সিন্ডিকেটের কারণে বড় সমস্যায় পড়েছেন। জয়পুরহাটের আলুর গুণগত মান ভালো হওয়ায় দেশি-বিদেশি বাজারে এ আলুর চাহিদা বেশ। কৃষকরা দীর্ঘদিন ধরে আলু চাষে লাভ করলেও এবার বাজারের অস্থিরতা এবং হিমাগার ভাড়ার অতিরিক্ত বৃদ্ধির ফলে তারা কঠিন সংকটে পড়েছেন।

জেলায় মোট ২১টি হিমাগারের মধ্যে সবচেয়ে বেশি ১৩টি অবস্থিত কালাই উপজেলায়। ভাড়ার প্রতি বস্তায় ৫০ থেকে ৭০ টাকা পর্যন্ত বাড়তি চার্জ বসানোর অভিযোগ উঠেছে। সংরক্ষণ মৌসুমের শুরুতে স্থানীয় প্রশাসনের চাপেই হিমাগার মালিকরা প্রথমে ভাড়া বাড়াতে অস্বীকৃতি জানালেও পরে নানা অজুহাতে ভাড়া বাড়ানোর পথে হাঁটেন। এতে অনেক কৃষক ও ব্যবসায়ী দিশেহারা হয়ে পড়েছেন।

কৃষক ও শ্রমিকরা জানান, গত বছরের তুলনায় এখন প্রতি বস্তার ভাড়া অনেক বেশি হওয়ায় সেবা বা শ্রমের খরচ যেন বেড়ে গেছে। বিদ্যুৎ সংকট না থাকলেও সত্ত্বেও এই বাড়তি চার্জ অযৌক্তিক বলে তারা মনে করেন। আলু ব্যবসায়ী মইনুল ইসলাম বলেন, তিনি প্রতিদিন ৫০০-১০০০ বস্তা আলু কেনাবেচা করেন। বাজারের ওঠানামার কারণে বর্তমানে প্রতি বস্তায় এক থেকে দেড় টাকা লোকসান করছেন। সংরক্ষণ খরচ যেমন বেড়েছে, তেমনি বাজার মুল্য একেবারেই স্থিৰ হচ্ছে না।

জেলার কেন্দ্রীয় ও স্থানীয় কৃষকরা জানান, আলু সংরক্ষণের জন্য ৬০ কেজির প্রতি বস্তায় এখন ৮৮০ থেকে ৯০০ টাকা দর পায়, তবে সংরক্ষণ ব্যয় প্রায় ৪৩০ টাকা পর্যন্ত বৃদ্ধি পেয়েছে, যা গত বছরের তুলনায় অনেক বেশি। তোতা মিয়া নামের এক কৃষক বলেন, প্রশাসনের নির্দেশে স্কেল অনুযায়ী ভাড়া রাখা হলেও হিমাগার মালিকরা আত্মস্বার্থে অতিরিক্ত ভাড়া নিচ্ছেন, তাদের সিন্ডিকেট থেকে মুক্তি চেয়েছেন তিনি।

কালাই উপজেলার পুনট হিমাগার ও এম ইসরাত হিমাগার লিমিটেডের প্রতিনিধিরা জানান, এ বছর হিমাগারে আলুর উত্তোলন গত বছরের তুলনায় কম, কারণ অনেক কৃষক ঝুঁকি নিয়ে নিজের বাড়িতেই আলু রাখছেন।

কালাই উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা শামিমা আক্তার জাহান অবশ্য জানিয়েছেন, হিমাগার মালিকদের কৃষকের স্বার্থ বিবেচনায় বস্তা ভিত্তিক ভাড়া নেওয়ার জন্য নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে। জয়পুরহাট জেলা কৃষি বিপণন কর্মকর্তা মো. মেহেদী হাসান বলছেন, এ বছর জেলায় আলু সংরক্ষণের জন্য হিমাগারের সংখ্যা বেড়ে ২১টি হয়েছে।

সম্প্রতি ভাড়া বৃদ্ধির প্রতিবাদে জয়পুরহাটে বহু কৃষক ও ছাত্রসমাজ বিক্ষোভ করেছেন। তাদের দাবি ছিল আলুর ন্যায্যমূল্য নিশ্চিত এবং হিমাগারের অতিরিক্ত ভাড়া প্রত্যাহার। উপজেলা প্রশাসনকে স্মারকলিপি দেওয়ার পর হিমাগার কর্তৃপক্ষ গত বছরের মূল্য অনুযায়ী ভাড়া নেওয়ার প্রতিশ্রুতি দিয়েছে।

তবে কৃষক ও ব্যবসায়ীরা আশঙ্কা করছেন, দ্রুত প্রশাসনিক হস্তক্ষেপ না হলে সংকট আরও গভীরতর হবে। তারা সরকারের নীতিসহায়তা কামনা করছেন, যাতে তারা বিপদ থেকে উত্তরণ করতে পারেন এবং আলু চাষ ও ব্যবসা আবার লাভজনক হতে পারে।