ঢাকা | বুধবার | ৬ই মে, ২০২৬ খ্রিস্টাব্দ | ২৩শে বৈশাখ, ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ | ১৯শে জিলকদ, ১৪৪৭ হিজরি

জলবায়ু অভিযোজনে তরুণদের সম্পৃক্ত করতে ইউনিসেফের সঙ্গে কাজ করবে বাংলাদেশ

পরিবেশ, বন ও জলবায়ু পরিবর্তন এবং পানি সম্পদ মন্ত্রণালয়ের উপদেষ্টা সৈয়দা রিজওয়ানা হাসান এবারে জলবায়ু অভিযোজন কার্যক্রমে তরুণদের কার্যকর অংশগ্রহণ, সমন্বয় ও জবাবদিহি নিশ্চিত করার গুরুত্ব ব্যক্ত করেছেন। তিনি বিশেষভাবে উল্লেখ করেছেন যে, পানি উন্নয়ন বোর্ডসহ বিভিন্ন অবকাঠামো ও পানি সংশ্লিষ্ট প্রকল্পের পর্যবেক্ষণে তরুণ প্রতিনিধিদের অন্তর্ভুক্তি জরুরি। এছাড়া পয়ঃনিষ্কাশন ও চিকিৎসা বর্জ্য ব্যবস্থাপনায় ইনসিনারেশনের বিকল্প হিসেবে উন্নত ও নিরাপদ প্রযুক্তি গ্রহণের প্রয়োজনীয়তাও তিনি তুলে ধরেন।

মঙ্গলবার (১ জুলাই) বাংলাদেশ সচিবালয়ে ইউনিসেফ বাংলাদেশের কান্ট্রি রিপ্রেজেন্টেটিভ রানা ফ্লাওয়ার্সের নেতৃত্বে একটি উচ্চপর্যায়ের প্রতিনিধিদলের সঙ্গে বৈঠকে এসব কথা বলেন উক্ত উপদেষ্টা। বৈঠকে জলবায়ু সংকট মোকাবিলায় শিক্ষাবিষয়ক, সামাজিক ক্ষেত্র এবং তরুণদের সম্পৃক্ততা বৃদ্ধির মাধ্যমে যৌথ উদ্যোগ জোরদারের ওপর গুরুত্ব দেওয়া হয়।

রানা ফ্লাওয়ার্স বলেন, বন্যা, অপুষ্টি ও শিক্ষা ব্যবস্থার ব্যাহত হওয়া—যেমন জলবায়ু পরিবর্তনের ক্ষতিকর প্রভাব থেকে শিশু ও কিশোর-কিশোরীদের রক্ষা করতে ইউনিসেফ তরুণদের জলবায়ু সমাধানের কেন্দ্রে রাখতে প্রতিশ্রুতিবদ্ধ। তিনি তরুণদের সঙ্গে নিয়মিত যোগাযোগের জন্য মন্ত্রণালয়ের একটি কাঠামোগত ব্যবস্থাপনা গড়ে তোলার প্রস্তাব দেন এবং বিভিন্ন জেলায় তরুণদের অংশগ্রহণে পরামর্শ সভার পরিধি বাড়ানোর আহ্বান করেন।

পরিবেশ সচেতনতা বৃদ্ধির জন্য ইউনিসেফ একটি যৌথ ডকুমেন্টারি সিরিজ নির্মাণের প্রস্তাব দেয়, যেখানে শিশুদের পরিবেশবান্ধব বার্তা উপস্থাপিত হবে। উপদেষ্টা রিজওয়ানা হাসান এই প্রস্তাবকে স্বাগত জানিয়ে বলেন, এই উদ্যোগ বিদ্যালয়ের পাঠ্যক্রমে অন্তর্ভুক্ত করা সম্ভব এবং শিক্ষকদের প্রশিক্ষণ ও শিক্ষার্থীদের সক্ষমতা বৃদ্ধির মাধ্যমে এটি বাস্তবায়ন করা যেতে পারে।

বৈঠকে ইউনিসেফ ও মন্ত্রণালয় যৌথভাবে পরিবেশ শিক্ষাভিত্তিক কর্মপরিকল্পনা এবং স্থানীয় পর্যায়ে জলবায়ু উদ্যোগ পরিচালনায় একমত প্রকাশ করেন। পরিকল্পনায় পুনর্ব্যবহার, বর্জ্য পৃথকীকরণ ও শিক্ষার্থীদের নেতৃত্বে জরুরি প্রস্তুতির কার্যক্রম অন্তর্ভুক্ত থাকবে।

এ সময় উপস্থিত ছিলেন পরিবেশ, বন ও জলবায়ু পরিবর্তন মন্ত্রণালয়ের সচিব ড. ফারহিনা আহমেদ, অতিরিক্ত সচিব (জলবায়ু পরিবর্তন) মোহাম্মদ নাভিদ শফিউল্লাহ, ইউনিসেফ বাংলাদেশের চিফ অব ওয়াশ পিটার জর্জ এল ম্যাস, চিফ অব ফিল্ড সার্ভিসেস ফ্রাঙ্কো গার্সিয়া এবং প্রোগ্রাম স্পেশালিস্ট (জলবায়ু) ভ্যালেন্টিনা স্পিনেডি।

পরিবেশ মন্ত্রণালয় ও ইউনিসেফ উভয় পক্ষই জলবায়ুবান্ধব নেতৃত্ব গড়ে তোলা এবং দেশের টেকসই উন্নয়নকে দ্রুততর করার লক্ষ্যে পারস্পরিক সহযোগিতা জোরদারের আশাবাদ ব্যক্ত করেছে। এই সমন্বিত প্রচেষ্টা দেশের তরুণ প্রজন্মকে জলবায়ু সংকট মোকাবিলায় মুখ্য ভূমিকা পালনে উৎসাহিত করবে।