ঢাকা | বৃহস্পতিবার | ৭ই মে, ২০২৬ খ্রিস্টাব্দ | ২৪শে বৈশাখ, ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ | ২০শে জিলকদ, ১৪৪৭ হিজরি

জাতীয় ঐকমত্য কমিশনের দ্বিতীয় পর্যায়ের আলোচনা শুরু

দুই দিনের বিরতির পর আজ রবিবার জাতীয় ঐকমত্য কমিশনের সঙ্গে রাজনৈতিক দলগুলোর দ্বিতীয় পর্যায়ের আলোচনা শুরু হয়েছে। রাজধানীর ফরেন সার্ভিস একাডেমিতে সকাল ১১টা ২০ মিনিটে এই সভায় বিএনপি, জামায়াতে ইসলামীসহ দেশসেরা বিভিন্ন রাজনৈতিক দলের প্রতিনিধি অংশগ্রহণ করেন।

সভায় সভাপতিত্ব করেন জাতীয় ঐকমত্য কমিশনের সহসভাপতি অধ্যাপক ড. আলী রীয়াজ। গতবারের আলোচনার অসমাপ্ত বিষয়গুলো সম্পন্ন করতে আজকের এই বৈঠক আয়োজন করা হয়েছে। বাংলাদেশ টেলিভিশন-নিউজ সরাসরি অনুষ্ঠানটি সম্প্রচার করছে।

ঐকমত্য কমিশনের সদস্য গণেও উপস্থিত ছিলেন জনপ্রশাসন সংস্কার কমিশনের প্রধান আবদুল মুয়ীদ চৌধুরী, পুলিশ সংস্কার কমিশনের প্রধান সফর রাজ হোসেন, নির্বাচন সংস্কার কমিশনের প্রধান বদিউল আলম মজুমদার, বিচার বিভাগ সংস্কার কমিশনের প্রধান বিচারপতি এমদাদুল হক এবং দুর্নীতি দমন কমিশন সংস্কার কমিশনের প্রধান ইফতেখারুজ্জামান।

এর আগে গত ১৭ জুন অনুষ্ঠিত দ্বিতীয় পর্যায়ের আলোচনা অসমাপ্ত থাকার সময় বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামী অংশ নেয়নি। পরে সরকারের পক্ষ থেকে যোগাযোগের পর ১৮ জুন ওই দল আলোচনায় যোগ দিয়েছিল।

সংসদের উচ্চকক্ষের আসন বণ্টন, জাতীয় সাংবিধানিক কাউন্সিল (এনসিসি) গঠনসহ গুরুত্বপূর্ণ বিষয়গুলো নিয়ে এখনো রাজনৈতিক দলগুলোর মধ্যে সমঝোতা দেখা যায়নি। প্রধানমন্ত্রীর ক্ষমতায় সঠিক ভারসাম্য আনতেই এনসিসি গঠনের প্রস্তাব রাখা হয়েছে।

রাষ্ট্রপতি নির্বাচন পদ্ধতি ও সংরক্ষিত নারী আসনের নির্বাচন নিয়েও দলগুলোর মধ্যে ঐকমত্য হয়নি। গত সপ্তাহে চার দিনের সংলাপেও বিষয়গুলো নিয়ে বিতর্ক তৈরি হয়। এমনকি ‘ঐকমত্যের সংজ্ঞা’ নিয়েও রাজনৈতিক দলগুলোর মধ্যে মতবিরোধ প্রকাশ পেয়েছে, যা নিয়ে কমিশন ব্যাখ্যার প্রস্তুতি নিচ্ছে।

গত সপ্তাহের আলোচনা পর্যালোচনার ভিত্তিতে দেখা যায়, বিএনপি ও সমমনা পাঁচটি দল একতাবদ্ধ। তাদের কাছাকাছি অবস্থানে রয়েছে বামপন্থী সিপিবি ও বাসদ। অপরদিকে জামায়াতে ইসলামী, এনসিপি, ইসলামী আন্দোলন, এবি পার্টিসহ অন্যান্য দল বিএনপির বিরোধী অবস্থানে রয়েছে। যুগপৎ আন্দোলনের মিত্র গণঅধিকার পরিষদ, নাগরিক ঐক্য, গণসংহতি, জেএসডিও বিএনপির বিপরীতে অবস্থান নিয়েছে।

নির্বাচনে রাজনৈতিক দলগুলোর প্রাপ্ত ভোটের অনুপাতে উচ্চকক্ষের আসন বরাদ্দ, প্রধানমন্ত্রীর ক্ষমতা হ্রাসে এনসিসি গঠনের প্রস্তাবের বিরুদ্ধে বিএনপি, সমমনা এলডিপি, এনডিএম, লেবার পার্টি, ১২ ও ১১ দলীয় জোট অপরিবর্তিত অনড় অবস্থান নিয়েছে।

চার দিনের সংলাপে মোট ৩০ রাজনৈতিক দল ও জোট মাত্র ৭০ অনুচ্ছেদ শিথিলে শর্ত সাপেক্ষে ঐকমত্য সৃষ্টি করতে পেরেছে। কিন্তু জামায়াত দাবি করেছে, শুধু অর্থবিল ও আস্থা প্রস্তাব নয়, সংবিধান সংশোধনে এমপিরা দলীয় সিদ্ধান্তের বিরুদ্ধে ভোট দিতে পারবেন না। বিএনপির বক্তব্য, যুদ্ধাবস্থায়ও এমপিরা দলীয় সিদ্ধান্তের বিরুদ্ধে ভোট দিতে পারবেন না।