ঢাকা | বৃহস্পতিবার | ৭ই মে, ২০২৬ খ্রিস্টাব্দ | ২৪শে বৈশাখ, ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ | ২০শে জিলকদ, ১৪৪৭ হিজরি

জাতীয় ঐকমত্য কমিশন রাজনৈতিক দলগুলোর সঙ্গে পুনরায় আলোচনায়

রাষ্ট্র সংস্কারের নানা গুরুত্বপূর্ণ বিষয়ে একমত হয়ে জুলাই মাসে ‘জুলাই সনদ’ প্রণয়নের লক্ষ্যে জাতীয় ঐকমত্য কমিশন আজ দেশের রাজনৈতিক দলগুলোর সঙ্গে দ্বিতীয় দফায় আলোচনা শুরু করেছে। এটি সপ্তম দিনের মত চলা আলোচনা, যা দেশের ভবিষ্যত গঠনে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে।

আজ রোববার সকাল সাড়ে দশটায় রাজধানীর ফরেন সার্ভিস একাডেমির দোয়েল হলে আলোচনা আনুষ্ঠানিকভাবে শুরু হয়। আলোচনায় সভাপতিত্ব করেন জাতীয় ঐকমত্য কমিশনের সহ-সভাপতি অধ্যাপক ড. আলী রীয়াজ। এছাড়া কমিশনের সদস্যরা বিচারপতি মো. এমদাদুল হক, ড. বদিউল আলম মজুমদার, সফর রাজ হোসেন, ড. ইফতেখারুজ্জামান, ড. মো. আইয়ুব মিয়া এবং প্রধান উপদেষ্টার বিশেষ সহকারী মনির হায়দার উপস্থিত ছিলেন।

আজকের আলোচনায় বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল (বিএনপি), বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামী, জাতীয় নাগরিক পার্টি (এনসিপি), গণঅধিকার পরিষদ, গণসংহতি, বাংলাদেশের কমিউনিস্ট পার্টি (সিপিবি), বিপ্লবী ওয়ার্কার্স পার্টি এবং আমার বাংলাদেশ (এবি) পার্টিসহ মোট ৩০টি রাজনৈতিক দলের প্রতিনিধিরা অংশগ্রহণ করেছেন।

আলোচনার শুরুতে বক্তব্য রাখেন অধ্যাপক ড. আলী রীয়াজ, যিনি বলেন, ‘কমিশন কোনো পক্ষ নয়, বরং আমরা রাষ্ট্র সংস্কারের জন্য সরকারের নিকট একটি গুরুদায়িত্ব পালন করছি। রাজনৈতিক দলগুলো জনগণের বড় অংশকে প্রতিনিধিত্ব করছেন, তাদের মতামত আমাদের জন্য অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ।’

তিনি আরও বলেন, ‘আলোচনার মধ্য দিয়ে বিভিন্ন প্রস্তাব আমরা গ্রহণ করার চেষ্টা করেছি এবং জুলাই মাসের মধ্যেই জাতীয় সনদ উপনীত করার বিষয়ে আমরা প্রতিশ্রুতিবদ্ধ। এটি সম্ভব হবে দলগুলোর সহযোগিতায়।’

অধ্যাপক আলী রীয়াজ রাষ্ট্র সংস্কারের গুরুত্ব তুলে ধরে বলেন, ‘জনগণের আকাঙ্ক্ষার বিপরীতে কোনো সংবিধান সংস্কার করা উচিত নয়। আমাদের সাংবিধানিকভাবে বিচার বিভাগের স্বাধীনতা রক্ষা এবং ব্যক্তির ক্ষমতা সীমিত করার ব্যবস্থা করতে হবে, কারণ পূর্বে এক ধরনের ব্যক্তিতান্ত্রিক শাসনের আশঙ্কা সৃষ্টি হয়েছিল।’

তিনি শহীদ ও আহতদের আত্মত্যাগ স্মরণ করিয়ে বলেন, ‘আমাদের এখন এমন একটি পর্যায়ে পৌঁছাতে হবে যেখানে রাষ্ট্রের উন্নয়নে সকলের দায়িত্ব পালন নিশ্চিত হয়। শহীদ, আহত ও নির্যাতিত সকলের প্রতি শ্রদ্ধা জানানোই আমাদের কর্তব্য।’

কমিশন সূত্রে জানা গেছে, আজকের আলোচনায় প্রধানমন্ত্রীর মেয়াদ, রাষ্ট্রপতি নির্বাচন পদ্ধতি, রাষ্ট্র পরিচালনার মূলনীতি ও সংসদীয় আসনের সীমানা নির্ধারণসহ বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ বিষয় নিষ্পত্তির জন্য স্বতন্ত্র কমিটি গঠন প্রসঙ্গে বিস্তারিত আলোচনা হবে।

গত ২৫ জুন কমিশনের প্রথম আলোচনার পর রাজনৈতিক দলগুলোর মধ্যে মতবিরোধ বিষয়ক অভ্যন্তরীণ আলোচনা করতে তিন দিনের বিরতি দেওয়া হয়েছিল। এখন বিরতির পর পুনরায় দেশ ও জনগণের স্বার্থে নূন্যতম ঐকমত্য গড়ে উঠে ‘জুলাই সনদ’ প্রস্তুতির দিক এগিয়ে নিয়ে যাওয়ার আহ্বান জানানো হয়েছে। এই প্রয়াস সফল হলে বাংলাদেশে গণতান্ত্রিক ও স্বচ্ছ রাষ্ট্র ব্যবস্থার ক্ষেত্রে একটি নতুন অধ্যায় শুরু হবে বলে আশা করা হচ্ছে।