ঢাকা | শুক্রবার | ১লা মে, ২০২৬ খ্রিস্টাব্দ | ১৮ই বৈশাখ, ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ | ১৪ই জিলকদ, ১৪৪৭ হিজরি

জাতীয় পার্টিতে তীব্র অস্থিরতা: শীর্ষ নেতাদের অব্যাহতি ও নতুন মহাসচিব নিয়োগ

জাতীয় পার্টির দশম জাতীয় সম্মেলনকে কেন্দ্র করে দলীয় শীর্ষ নেতৃত্বের মধ্যে উত্তেজনা চরমে পৌঁছেছে। দলীয় সব পদ থেকে জ্যেষ্ঠ তিন নেতা আনিসুল ইসলাম মাহমুদ, এ বি এম রুহুল আমিন হাওলাদার ও মো. মুজিবুল হক (চুন্নু) কে অব্যাহতি দিয়েছেন দলের চেয়ারম্যান জি এম কাদের। এই পদক্ষেপের পাশাপাশি দলের নতুন মহাসচিব হিসেবে প্রেসিডিয়াম সদস্য শামীম হায়দার পাটোয়ারীকে নিয়োগ দেওয়া হয়েছে।

গতকাল বিকেলে এই নিয়োগের বিষয়টি গণমাধ্যমে জানানো হয়। এর আগে মুজিবুল হক চুন্নুকে মহাসচিবের পদ থেকে অব্যাহতি দেওয়ার সিদ্ধান্ত নেয় দলটি। প্রায় এক ঘণ্টা পর জি এম কাদের আনিসুল ইসলাম মাহমুদ, এ বি এম রুহুল আমিন হাওলাদার ও মুজিবুল হককে দলীয় সব পদ থেকে অব্যাহতি দেন।

রাজধানীর বাংলাদেশ-চীন মৈত্রী সম্মেলন কেন্দ্রে ২৮ জুন অনুষ্ঠিত হওয়ার কথা ছিল জাতীয় পার্টির দশম জাতীয় সম্মেলন। তবে ১৬ জুন প্রকাশিত এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে দল সম্মেলন স্থগিতের ঘোষণা দেয়। জেলার সিনিয়র কো-চেয়ারম্যান আনিসুল ইসলাম মাহমুদ ও কো-চেয়ারম্যান রুহুল আমিন হাজারডার অভিযোগ করেন, সম্মেলন স্থগিত করার সিদ্ধান্তে দলের চেয়ারম্যান প্রেসিডিয়াম সদস্যদের সঙ্গে কোনো আলোচনা করেননি।

সম্মেলনের অধিক সময় ধরে দেরি হওয়া, চেয়ারম্যানের একক ক্ষমতার ব্যবহার এবং আর্থিক স্বচ্ছতার অভাব নিয়ে শীর্ষ নেতাদের মাঝে গভীর দ্বন্দ্ব শুরু হয়। সম্মেলন স্থগিত হওয়ার পরে পরিস্থিতি আরও সংকটজনক হয়।

জাতীয় পার্টির কেন্দ্রীয় দপ্তর থেকে জানানো হয়, ২৫ জুন জেলা ও মহানগর কমিটির সভাপতি ও সাধারণ সম্পাদকদের মতবিনিময় সভায় তিন নেতার বিরুদ্ধে শৃঙ্খলা ভঙ্গের অভিযোগ আনা হয় এবং শাস্তিমূলক ব্যবস্থা গ্রহণের দাবি জানানো হয়। ২৮ জুন প্রেসিডিয়াম সদস্যদের সভায় প্রস্তাবিত অভিযোগের প্রেক্ষিতে তাদের দলীয় সব পদ থেকে অব্যাহতির সিদ্ধান্ত গৃহীত হয়। এর পরেই চেয়ারম্যান গঠনতন্ত্রের ক্ষমতাবলে তাদের অব্যাহতি দেন।

অব্যাহতি পাওয়ার কিছুক্ষণ আগে আনিসুল ইসলাম মাহমুদ এবং রুহুল আমিন হাওলাদার যৌথভাবে বলেছিলেন, বর্তমান মহাসচিব মুজিবুল হককে বাদ দিয়ে নতুন মহাসচিব নিয়োগের সিদ্ধান্ত অগণতান্ত্রিক ও গঠনতন্ত্রের লঙ্ঘন। তারা এটিকে ব্যক্তিকেন্দ্রিক স্বেচ্ছাচারিতার প্রকাশে আখ্যায়িত করেন যা পার্টির অস্তিত্বের জন্য হুমকি স্বরূপ।

গতকাল বিকেলে কেন্দ্রীয় দপ্তর থেকে পাঠানো এক বিজ্ঞপ্তিতে শামীম হায়দার পাটোয়ারীকে মহাসচিব পদে নিয়োগের কথা নিশ্চিত করা হয়। বিজ্ঞপ্তিতে জানানো হয়, গঠনতন্ত্রের ক্ষমতাবলে মহাসচিব মো. মুজিবুল হককে অব্যাহতি দিয়ে শূন্য পদে শামীম হায়দার পাটোয়ারীকে নিয়োগ দেওয়া হয়েছে।

এই নিয়োগকে কেন্দ্র করে আনিসুল ইসলাম মাহমুদ ও রুহুল আমিন হাওলাদার কঠোর প্রতিবাদ জানিয়ে বলেন, মুক্তিযোদ্ধা মুজিবুল হকই পার্টির বৈধ মহাসচিব। কাউন্সিল ঘোষণার আগে একক সিদ্ধান্তে এই বদল অবৈধ ও অগণতান্ত্রিক। তারা বলেন, ‘‘এ ধরনের পদক্ষেপ পার্টির গণতান্ত্রিক কাঠামোকে ক্ষতিগ্রস্ত করছে এবং দায়িত্বরত প্রেসিডিয়াম সদস্যদের নিয়মিত চাঁদা থাকা সত্ত্বেও মিথ্যা অভিযোগে অব্যাহতির সিদ্ধান্ত নেয়া হয়েছে, যা নিছক রাজনৈতিক প্রতিহিংসা এবং নৈতিকহীনতা প্রকাশ করে।’’

জ্যেষ্ঠ দুই নেতা আরও বলেন, ‘‘জাতীয় পার্টিকে ব্যক্তি নয়, গঠনতন্ত্র ও আদর্শে পরিচালিত করতে হবে। গণতন্ত্র, শৃঙ্খলা ও সম্মিলিত নেতৃত্ব ফিরিয়ে আনা এখন সময়ের অগ্ন বিষয়।’’

তারা পার্টির ত্যাগী ও আদর্শবান নেতা কর্মীদের একতাবদ্ধ থাকার আহ্বান জানান, যাতে দলকে একনায়কতান্ত্রিক ও অন্যায় আচরণের বিরুদ্ধে শক্তিশালী করা যায়। বর্তমানে জাতীয় পার্টি গঠনতন্ত্র ও আদর্শের ভিত্তিতে সংগঠিত হয়ে সামনে এগিয়ে যাওয়ার জন্য কঠোর পরিশ্রম ও ঐক্যের বিকল্প নেই।