মহান মে দিবস উপলক্ষে রাজধানীর নয়াপল্টনে বিএনপির কেন্দ্রীয় কার্যালয়ের সামনে জাতীয়তাবাদী শ্রমিক দল আয়োজিত বিশাল সমাবেশে শ্রমিকদের স্বার্থ রক্ষার জন্য একাধিক প্রস্তাবনা তুলে ধরেন বিএনপির সিনিয়র যুগ্ম মহাসচিব ও দলীয় কর্মকর্তা অ্যাডভোকেট রুহুল কবির রিজভী। তিনি বলেন, দেশে বিভিন্নভাবে ন্যূনতম মজুরি বাস্তবায়নের উদ্যোগ নেওয়া হলেও একটি স্ট্যান্ডার্ড বা জাতীয় মানসম্মত ন্যূনতম মজুরি এখনও প্রতিষ্ঠিত হয়নি।
সমাবেশে চেয়ারম্যান তারেক রহমানের উপস্থিতিতে বক্তব্যকালে রিজভী শ্রমিকদের জীবনমান উন্নয়নে জাতীয় মানসম্পন্ন ন্যূনতম মজুরি বাস্তবায়ন এবং দীর্ঘদিন ধরে ঝুলে থাকা শ্রমিকদের মামলা দ্রুত নিষ্পত্তির ওপর বিশেষ জোর দেন। তিনি বলেন, ন্যায্য কর্মসংস্থান ও নিরাপদ সামাজিক-অর্থনৈতিক পরিবেশ নিশ্চিত করতে সরকারকে কার্যকর ও স্থায়ী নীতিমালা গ্রহণ করতে হবে।
বক্তব্যকালে রিজভী বর্তমান সরকারের শুরুটা নিয়ে ইতিবাচক মনোভাব আছে উল্লেখ করে বলেন, কৃষক ও নিম্নআয়ের মানুষের জন্য যে পদক্ষেপ নেওয়া হয়েছে এবং জরুরি পরিস্থিতিতে দ্রুত সিদ্ধান্ত গ্রহণের কারিকরিকে সাধারণ মানুষ স্বাগত জানাচ্ছে। তিনি বিশেষভাবে জ্বালানি তেলের সংকট প্রশমিত করা এবং সুনামগঞ্জ ও মৌলভীবাজারে আগাম বন্যায় ক্ষতিগ্রস্ত কৃষকদের তিন মাসের ক্ষতিপূরণ প্রদানের সিদ্ধান্তকে সরকারের প্রশাসনিক দক্ষতার নিদর্শন হিসেবে উল্লেখ করেন। তবে এই অগ্রগতিকে ধরে রাখা ভবিষ্যতে বড় চ্যালেঞ্জ হবে বলে সতর্ক করেন তিনি।
রিজভী বিএনপির প্রতিষ্ঠাতা শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমান ও সাবেক প্রধানমন্ত্রী বেগম খালেদা জিয়ার শ্রমিকবান্ধব অঙ্গীকারের কথাও স্মরণ করিয়ে দিয়ে বলেন, বন্ধ হয়ে যাওয়া শিল্প-কারখানাগুলো পুনরায় চালু করা সময়ের দাবি। পাশাপাশি বিদ্যুৎ খাতে নেওয়া নীতিগত সিদ্ধান্তগুলো পুনর্বিবেচনার পরামর্শ দিয়ে তিনি জোর দেন যে সাধারণ মানুষের স্বার্থকে অগ্রাধিকার দেওয়া উচিত। শ্রমিকদের অধিকার রক্ষা ও তাদের কল্যাণ নিশ্চিত করাই রাজনীতির অন্যতম মূল দায়িত্ব হওয়া উচিত, মন্তব্য করেন তিনি।
সমাবেশে বিএনপি মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর, দলের স্থায়ী কমিটির সদস্য নজরুল ইসলাম খান ও ড. আব্দুল মঈন খানসহ শীর্ষ নেতারা উপস্থিত ছিলেন। রিজভীর বক্তৃতায় শ্রমিক আন্দোলন ও ন্যায্য মজুরি নিয়ে তেজস্বী আহ্বান উঠে আসে, এবং দ্রুত বাস্তবিক সরকারের পদক্ষেপ আশা করা হয়।








