ঢাকা | সোমবার | ৪ঠা মে, ২০২৬ খ্রিস্টাব্দ | ২১শে বৈশাখ, ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ | ১৭ই জিলকদ, ১৪৪৭ হিজরি

জাতীয় মৎস্য সপ্তাহ শুরু কাল, ১৬ ব্যক্তিকে মৎস্য পদক প্রদান করা হবে: মৎস্য ও প্রাণিসম্পদ উপদেষ্টা

মৎস্য ও প্রাণিসম্পদ উপদেষ্টা ফরিদা আখতার জানিয়েছেন, প্রতি বছরের মতো এবারও জাতীয় মৎস্য পদক নীতিমালা অনুযায়ী মৎস্য খাতে বিশেষ অবদানের স্বীকৃতি হিসেবে মোট ১৬ ব্যক্তি ও প্রতিষ্ঠানকে জাতীয় মৎস্য পদক ২০২৫ প্রদান করা হবে। পদকগুলো স্বর্ণ, রৌপ্য ও ব্রোঞ্জ হিসেবে প্রথম, দ্বিতীয় ও তৃতীয় স্থান অর্জনকারীদের দেওয়া হবে। জাতীয় মৎস্য সপ্তাহের উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে প্রধান উপদেষ্টা ড. মুহাম্মদ ইউনূস এই পদক প্রদান করবেন।

মৎস্য ও প্রাণিসম্পদ মন্ত্রণালয়ের সম্মেলন কক্ষে সোমবার (২১ জুলাই) অনুষ্ঠিত সংবাদ সম্মেলনে ফরিদা আখতার এ তথ্য জানান। তিনি জানান, ২২ থেকে ২৮ জুলাই অনুষ্ঠিতব্য জাতীয় মৎস্য সপ্তাহ দেশের সকল কেন্দ্রীয়, জেলা ও উপজেলা পর্যায়ে একযোগে উদযাপিত হবে। এবারের মৎস্য সপ্তাহকে বিশেষভাবে সাজানো হয়েছে জুলাই গণঅভ্যুত্থানে শহীদ ও আহতদের প্রতি শ্রদ্ধা জানানোর উদ্দীপনায়। এ উপলক্ষে মৎস্য পদক বিতরণ ছাড়াও বিভিন্ন সচেতনতামূলক কর্মসূচি যেমন র‌্যালি, আলোচনা, সেমিনার, কর্মশালা ও প্রদর্শনী অনুষ্ঠিত হবে।

উপদেষ্টা বলেন, মৎস্য খাত দেশের অর্থনীতির মূল চালিকাশক্তি এবং দেশের মোট জিডিপির ২.৫৩ শতাংশ ও কৃষিজ জিডিপির ২২.২৬ শতাংশ অবদান রাখে। দেশে নদী, খাল-বিল, হাওর, পুকুরসহ বিভিন্ন জলাশয়ে মৎস্য সম্পদের অপার সম্ভার রয়েছে। সরকার এসব সম্পদ সংরক্ষণ ও টেকসই ব্যবস্থাপনায় নানা কর্মপরিকল্পনা বাস্তবায়ন করছে, যার ফলে বাংলাদেশ আজ মাছে স্বয়ংসম্পূর্ণ দেশ হিসেবে স্বীকৃত।

তিনি আরও বলেন, বিজ্ঞানভিত্তিক ও পরিবেশবান্ধব মৎস্য আহরণ ও উৎপাদনে জোর দেয়া হচ্ছে। বিপন্ন ও বিলুপ্তপ্রায় মাছের জন্য অভয়াশ্রমগুলো প্রতিষ্ঠা ও উন্নয়ন করা হচ্ছে। বর্তমানে দেশে ৬৬৯টি অভয়াশ্রম কার্যকর রয়েছে এবং ভবিষ্যতে আরও গড়ে তোলার পরিকল্পনা গ্রহণ করা হয়েছে।

মৎস্য সপ্তাহ পালনের মাধ্যমে মৎস্য খাতের গুণগত উন্নয়ন এবং দেশের মানুষের পুষ্টি নিশ্চিত করতে চাওয়া হয়েছে। বর্তমানে দেশের প্রায় ২ কোটি মানুষ সরাসরি বা পরোক্ষভাবে মৎস্য খাতে যুক্ত রয়েছেন। মাছ দ্বারা দেশের আমিষ চাহিদাও বৃদ্ধি পাচ্ছে। তবে মাছের মাথাপিছু গ্রহণ এখনও তুলনামূলক কম, যা আরও বাড়ানোর প্রয়োজন রয়েছে।

তিনি আরও জানান, সামুদ্রিক মৎস্য আহরণে কিছুদিনের নিষেধাজ্ঞার মাধ্যমে পরিবেশ রক্ষা ও উৎপাদন শৃঙ্খলা নিশ্চিত করা হচ্ছে। পাশাপাশি মৎস্যজীবীদের মানবিক সহায়তায় ভিজিএফ (চাল) বিতরণ করা হচ্ছে এবং প্রয়োজন অনুযায়ী চাল পরিমাণ বৃদ্ধির প্রস্তাব দেওয়া হয়েছে। দারিদ্র্য বিমোচন ও ঋণ সুবিধাও সহজ শর্তে দেওয়া হবে।

উল্লেখ্য, মৎস্য ও প্রাণিসম্পদ মন্ত্রণালয়ের শীর্ষ কর্মকর্তারা এ অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন। ‘অভয়াশ্রম গড়ে তুলি, দেশি মাছে দেশ ভরি’ প্রতিপাদ্যকে সামনে রেখে আগামীকাল থেকে শুরু হচ্ছে জাতীয় মৎস্য সপ্তাহ।