ঢাকা | সোমবার | ৩১শে আগস্ট, ২০২৬ খ্রিস্টাব্দ | ১৬ই ভাদ্র, ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ | ১৮ই রবিউল আউয়াল, ১৪৪৮ হিজরি

জামালপুরে প্রাইভেটকারের গোপন চেম্বার থেকে ১৫ কেজি গাঁজা উদ্ধার, চালকসহ ৪ গ্রেপ্তার

জামালপুরে একটি প্রাইভেটকারের গ্যাস সিলিন্ডারের নিচে তৈরি বিশেষ গোপন চেম্বার থেকে মোট ১৫ কেজি গাঁজা উদ্ধার করে জেলা পুলিশ। এই ঘটনায় গাড়ি চালকসহ চারজন মাদক কারবারিকে গ্রেপ্তার করে পুলিশ এবং জব্দ করা সাদা রঙের টয়োটা প্রোবক্স প্রাইভেটকারও পৃথক করা হয়েছে।

জানা যায়, বৃহস্পতিবার বিকেল আড়াইটার দিকে জামালপুর-শেরপুর মহাসড়কের উত্তর কুটুরিয়া এলাকায় একটি রুটিন চেকপোস্টে সন্দেহজনক একটি গাড়ি থামার সংকেত দিলে এর যতেনার উপস্থিত আরোহীরা গাড়ি থেকে নেমে পালানোর চেষ্টা করে। পুলিশ সদস্যরা তৎপরতার সঙ্গে ধাওয়া করে তাদের সবাইকে গ্রেপ্তার করেন।

এ ঘটনায় শুক্রবার (২৬ জুন) সন্ধ্যায় জেলা পুলিশের এক বিশেষ প্রেস ব্রিফিংয়ে বিস্তারিত জানানো হয়। সেখানে পুলিশ জানায়, গ্রেপ্তারকৃতদের উপস্থিত সাক্ষীদের সামনে সন্দেহভাজন গাড়িটি পুঙ্খানুপুঙ্খভাবে তল্লাশি করা হলে গ্যাস সিলিন্ডারের নিচে লোহা ও স্টিল দিয়ে বিশেষভাবে তৈরি একটি গোপন চেম্বারের খোঁজ পাওয়া যায়। ওই চেম্বার খুলে খাকি কাগজে মোড়ানো ছয়টি বড় প্যাকেটে মোট ১৫ কেজি গাঁজা উদ্ধার করা হয়। পুলিশের অনুমান এই গাঁজার বাজারমূল্য প্রায় তিন লাখ টাকা।

গ্রেপ্তারকৃতরা হলেন ব্রাহ্মণবাড়িয়ার কসবা উপজেলার বড়টোডা বিশনাউড়ি এলাকার আক্তার হোসেন, শেরপুরের শ্রীবরদী উপজেলার কুরুয়া ভাটিপাড়া এলাকার মিন মোক্তার (ওরফে মনির হোসেন), বিল্লাল হোসেন ও গাড়ি চালক সাগর।

পুলিশ জানিয়েছে, শেরপুর থেকে ওই প্রাইভেটকারে করে বিপুল পরিমাণ মাদক জামালপুরে আনা হতো—এমন গোপন ও সুনির্দিষ্ট তথ্যের ভিত্তিতেই উত্তর কুটুরিয়া এলাকায় বিশেষ চেকপোস্ট বসানো হয়েছিল। ঘটনার সঙ্গে জড়িত মূল সরফ, যোগসাজশকারীদের এবং পিছনের কুশীলবদের শনাক্তের জন্য তদন্ত চলছে।

এই ঘটনায় গ্রেপ্তার চারজনের বিরুদ্ধে মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ আইনের সংশ্লিষ্ট ধারায় জামালপুর সদর থানায় মামলা দায়ের করা হয়েছে। পুলিশ সূত্রে বলা হয়েছে, জেলাকে মাদকমুক্ত করতে এ ধরনের কঠোর অভিযান ও নজরদারি অব্যাহত থাকবে এবং মাদককারবারীদের কোনো ছাড় দেওয়া হবে না।

জামালপুরের পুলিশ সুপার মোছা. ফারহানা ইয়াসমিন বলেন, ‘অপরাধ মোকাবিলায় আইনগত পদক্ষেপ নেওয়া হচ্ছে। সমাজকে মাদকমুক্ত রাখতে আমাদের অভিযান চলবে অব্যাহত—যে কেউ দায়িত্বে থাকবে আইন অনুযায়ী উদ্যোগ নেওয়া হবে।’