জামালপুর ও কিশোরগঞ্জে বৃহস্পতিবার শুরু হওয়া ২০২৫ সালের এইচএসসি পরীক্ষায় অংশ নিতে পারেনি মোট ১৮ জন শিক্ষার্থী। জামালপুরের প্রশান্তি আইডিয়াল স্কুল অ্যান্ড কলেজে প্রবেশপত্র না পাওয়ায় ১৭ শিক্ষার্থী পরীক্ষা দিতে পারেনি। এছাড়া কিশোরগঞ্জের ভৈরবে কলেজ কর্তৃপক্ষের গাফিলতির কারণে মারজিয়া বেগম নামের এক শিক্ষার্থী পরীক্ষায় অংশগ্রহণ করতে পারেনি।
জামালপুর থেকে রাজু আহমেদ জানান, সারা দেশের মতো জামালপুরেও এ বছর একই সময়ে এইচএসসি পরীক্ষা শুরু হয়। তবে প্রশান্তি আইডিয়াল স্কুল অ্যান্ড কলেজের তরফ থেকে প্রবেশপত্র যথাসময়ে সরবরাহ না করায় ১৭ জন পরীক্ষার্থী পরীক্ষা দিতে ব্যার্থ হয়। সকাল থেকে কলেজ প্রাঙ্গণে আন্দোলন শুরু হয় পরীক্ষা বঞ্চিত শিক্ষার্থী ও অভিভাবকদের অংশগ্রহনে। এই পরিস্থিতিতে কলেজের প্রধান অফিসে তালা পড়ে এবং কর্তৃপক্ষ গা ঢাকা দেয়।
প্রশান্তি আইডিয়াল স্কুল অ্যান্ড কলেজটি জামালপুর শহরের দড়িপাড়ায় কয়েক বছর ধরে বেসরকারিভাবে পরিচালিত হয়ে আসছে। যদিও মাধ্যমিক বিদ্যালয়ের রেজিস্ট্রেশন থাকলেও উচ্চমাধ্যমিক পরীক্ষা দেওয়ার অনুমতি ছিল না, তবুও অধ্যক্ষ রেজাউল ইসলাম সেলিম বিভিন্ন কলেজ থেকে শিক্ষার্থীদের পরীক্ষা দিতে সহযোগিতা করতেন। পরীক্ষার্থীদের অভিযোগ, কলেজ কর্তৃপক্ষ রেজিস্ট্রেশন কার্ড ও প্রবেশপত্রের জন্য অর্থ গ্রহণ করলেও সময়মতো প্রবেশপত্র দেয়নি। কলেজ অধ্যক্ষের সঙ্গে যোগাযোগের চেষ্টা করলেও তিনি পাওয়া যায়নি এবং মোবাইলে কল ধরেননি।
অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক (শিক্ষা) আফসানা তাসলিম বলেন, এখনও পর্যন্ত কোনো শিক্ষার্থী বা অভিভাবক তাদের কাছে অভিযোগ করেনি। তবে লিখিত আবেদন পেলে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেয়া হবে। চলতি বছরে জেলার ৫২টি কেন্দ্রে মোট ২৬ হাজার ৫৭৫ জন শিক্ষার্থী এইচএসসি পরীক্ষায় অংশগ্রহণ করেছে।
ভৈরব (কিশোরগঞ্জ) থেকে জানা যায়, মারজিয়া বেগম কলেজের গাফিলতির কারণে প্রবেশপত্র না পেয়ে পরীক্ষায় অংশগ্রহণ করতে পারেনি। ফরম পূরণ করেও প্রবেশপত্র না পাওয়ায় সে ও তার পরিবার চরম হতাশায় আছে। মারজিয়া জেড. রহমান প্রিমিয়ার ব্যাংক স্কুল অ্যান্ড কলেজের মানবিক বিভাগের ছাত্রী। ২ হাজার ৫০০ টাকা দিয়ে ফরম পূরণ করার পরেও পরীক্ষা শুরুর কয়েকদিন আগে জানতে পারে তার প্রবেশপত্র বিতর্কিত। কলেজ অফিস সহকারী মো. শফিক জানিয়েছে, ফরম পূরণের সময় ডাবল ক্লিক হওয়ার কারণে ফরম বাতিল হয়েছে, যা তাদের ভুল।
মারজিয়া জানান, ‘‘টেস্ট পরীক্ষায় আমি ৪.০৭ পেয়েছিলাম এবং ফাইনাল পরীক্ষার জন্য ভালো প্রস্তুতি নিয়েছিলাম, কিন্তু প্রবেশপত্র না পাওয়ায় বাংলা প্রথমপত্র পরীক্ষায় অংশ নিতে পারিনি। এক বছর পড়াশোনায় নষ্ট হল আমার।’’ তার বাবা স্বপন মিয়া বলেন, ‘‘কলেজ কর্তৃপক্ষের ভুলে আমাদের মেয়ে পরীক্ষা থেকে বঞ্চিত হয়েছে। কলেজের শিক্ষকমন্ডলী ভুল স্বীকার করেছে এবং আগামী বছর বিনামূল্যে পরীক্ষা দেওয়ার প্রতিশ্রুতি দিয়েছে, তাই এখন পর্যন্ত আমরা কোনো আইনি ব্যবস্থা নিইনি।’’
কলেজ অফিস সহকারী মো. শফিক বলেন, ‘‘ডাবল ক্লিকের কারণে ফরম বাতিল হওয়ায় এই সমস্যা হয়েছে, এটি আমাদের দায়িত্ব।’’ অধ্যক্ষ শরীফ আহমেদ বলছেন, ‘‘ঘটনার জন্য কলেজ কর্তৃপক্ষ দায়ী। বোর্ডের সঙ্গে যোগাযোগ করেও কোনো সমাধান পাইনি।’’
উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা শবনম শারমিন জানান, লিখিত অভিযোগ পেলে আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে। ঢাকা শিক্ষা বোর্ডের পরীক্ষা নিয়ন্ত্রক এস.এম কামাল উদ্দিন হায়দার বলেন, ‘‘অ্যাডমিট কার্ড বোর্ড থেকে সঠিক সময়ে পাওয়ায় হলে ভুল সংশোধনের সুযোগ থাকে, কিন্তু অনেক প্রতিষ্ঠান কার্ড পরীক্ষার ঠিক আগের দিন দেয়, ফলে এ রকম সমস্যা হয়। এ ঘটনায় কলেজ অফিস সহকারীর পক্ষ থেকে বোর্ডে কোনো যোগাযোগ হয়নি।’’







