ঢাকা | রবিবার | ২৪শে মে, ২০২৬ খ্রিস্টাব্দ | ১০ই জ্যৈষ্ঠ, ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ | ৭ই জিলহজ, ১৪৪৭ হিজরি

জার্মানির আমান গ্রুপ বাংলাদেশে বড় বিনিয়োগ ও কারখানা সম্প্রসারণের ঘোষণা

জার্মানিভিত্তিক সুতা প্রস্তুতকারক প্রতিষ্ঠান আমান গ্রুপ বাংলাদেশে তাদের ব্যবসা ও উৎপাদন ক্ষমতা বাড়াতে বড় ধরনের বিনিয়োগের পরিকল্পনা করেছে। রাজধানীর উত্তরা এলাকা জুড়ে অবস্থিত বিজিএমইএ কমপ্লেক্সে আয়োজিত এক উচ্চপর্যায়ের বৈঠকে আমান গ্রুপের প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা (সিইও) মার্কাস নিকোলাউস এই সিদ্ধান্ত জানালে বাংলাদেশের তৈরি পোশাক খাতের ভবিষ্যৎ সম্ভাবনা ও কৌশলগত অংশীদারিত্ব নিয়ে দুইপক্ষই বিস্তারিত আলোচনা করেন। বৈঠকে বিজিএমইএ (বাংলাদেশ গার্মেন্টস ম্যানুফ্যাকচারার্স অ্যান্ড এক্সপোর্টার্স অ্যাসোসিয়েশন) সভাপতি মাহমুদ হাসান খানও উপস্থিত ছিলেন।

বিজিএমইএ সভাপতি মাহমুদ হাসান খান বলেন, বছরের শুরুতে বৈশ্বিক অস্থিরতার প্রভাবের কারণে রপ্তানিতে কিছুটা ধাক্কা লাগলেও এখন খাত দ্রুত পুনরুদ্ধারে এগোচ্ছে। তিনি বলেন, “বাংলাদেশের তৈরি পোশাক শিল্প এখন এক বড় রূপান্তরের মধ্য দিয়ে যাচ্ছে। আমরা পণ্যের বৈচিত্র্য বাড়াতে এবং উচ্চমূল্যের, মানসম্মত পোশাক উৎপাদনে জোর দিচ্ছি। আমাদের লক্ষ্য কেবল রপ্তানির পরিমাণ বোনো নয়, বরং মানসীমাও উন্নত করা।” তিনি আমান গ্রুপকে কেবল সরবরাহকারী হিসেবে নয়, বরং দীর্ঘমেয়াদী অংশীদার হিসেবে কাজ করার আহ্বান জানান এবং জার্মানির নামী ব্র্যান্ডগুলোর কাছে বাংলাদেশের কর্মপরিবেশ ও সক্ষমতা তুলে ধরতে তাদের সহযোগিতা চাইলেন।

জবাবে মার্কাস নিকোলাউস বাংলাদেশে বিনিয়োগ নিয়ে আশাবাদ ব্যক্ত করে জানান, তারা দেশটিতে নতুন সুযোগ পর্যবেক্ষণ করছেন এবং বিশেষভাবে হাই-টেক টেক্সটাইল খাতে বড় বিনিয়োগের সম্ভাবনা দেখছেন। তিনি আরও বলেন, “আমরা আমাদের উন্নতমানের সুতার মাধ্যমে আন্তর্জাতিক প্রিমিয়াম সেগমেন্টের চাহিদা মেটানোর লক্ষ্যে কাজ করবো।” বৈঠকে আন্তর্জাতিক বাণিজ্যের ঝুঁকি, মার্কিন শুল্ক নীতি এবং দেশের বন্দর ও জ্বালানি খাতের অবকাঠামোগত উন্নয়ন নিয়েও ফলপ্রসূ মতবিনিময় হয়।

আমান গ্রুপের প্রতিনিধিদলে উপস্থিত ছিলেন প্রতিষ্ঠানটির ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা—চিফ কমার্শিয়াল অফিসার ক্রিস্টিন বাউয়ার এবং কান্ট্রি ম্যানেজিং ডিরেক্টর রোকন জামান প্রমুখ। গ্রুপটি বাংলাদেশে ‘আমান বাংলাদেশ লিমিটেড’ নামে কার্যক্রম পরিচালনা করছে।

বিজিএমইএ সভাপতি আমান গ্রুপের এই বিনিয়োগ সিদ্ধান্তকে স্বাগত জানিয়ে বলেন, সরকার ও শিল্প সংগঠন থেকে সবধরনের নীতিগত ও কৌশলগত সহায়তা তারা পাবে। সংশ্লিষ্টরা মনে করছেন, এই বিনিয়োগ বাংলাদেশের টেক্সটাইল ও টেকসই উৎপাদনশীলতাকে আরও আধুনিক ও শক্তিশালী করবে এবং আন্তর্জাতিক প্রতিযোগিতায় অবস্থানকে মজবুত করবে।