জাতীয় ঐকমত্য কমিশনের সহ-সভাপতি অধ্যাপক ড. আলী রীয়াজ জুলাইয়ের মাঝামাঝি অথবা তৃতীয় সপ্তাহের দিকে ‘জুলাই সনদ’-এ পৌঁছানোর ব্যাপারে আশাবাদ ব্যক্ত করেছেন। তিনি বলেন, “যদি আমরা সবাই একসাথে চেষ্টা করি, তাহলে জুলাইয়ের মাঝামাঝিতে একটি সনদে পৌঁছানো সম্ভব।”
বুধবার (২ জুলাই) ঢাকায় ফরেন সার্ভিস একাডেমির দোয়েল হলেই বিভিন্ন রাজনৈতিক দলের সঙ্গে কমিশনের আলোচনার শুরুতে আলী রীয়াজ এই মন্তব্য করেন।
তিনি আরও জানান, “গত এক বছরে আমরা সবাই মিলিতভাবে বিভিন্ন বাঁধা ও সমস্যার মুখোমুখি হয়ে একটি গুরুত্বপূর্ণ অর্জনের পথে এগিয়েছি। আমাদের লক্ষ্য হচ্ছে বাংলাদেশের রাষ্ট্র কাঠামোর পরিবর্তনের মাধ্যমে একটি জবাবদিহিতামূলক রাষ্ট্র গঠন করা, যেখানে নাগরিকরা তাদের গণতান্ত্রিক ও মানবিক অধিকার সুরক্ষিত রাখতে পারবে এবং গুম, বিচারবহির্ভূত হত্যা সহ অন্যায়ের শিকার হবে না। এই অর্জন শুধুমাত্র আমাদের নয়, এটি রাজনীতিবিদ, কর্মী ও সাধারণ মানুষের সম্মিলিত সাফল্য।”
তিনি বলেন, “আমাদের এই সাফল্যকে ধরে রাখতে হবে এবং আরও এগিয়ে নিয়ে যেতে হবে। সংস্কারের এই প্রক্রিয়ায় সবাইকে আন্তরিক সহযোগিতা প্রদানে আহ্বান জানাই। যদিও দায়িত্ব আমাদের সবার, তবুও আমরা একসঙ্গে এগিয়ে গিয়েই সফল হব।”
আলী রীয়াজ স্বীকার করেন, “কখনও কখনও আমরা অগ্রগতিতে হতাশ হই, কিন্তু আজকের এই দিনে আমি দৃঢ় বিশ্বাস করি আমাদের প্রচেষ্টায় আমরা জুলাইয়ের মাঝামাঝিতে একটি উল্লেখযোগ্য সনদে পৌঁছাতে সক্ষম হব।”
তিনি আরও উল্লেখ করেন, “দলগত, জোটগত ও ব্যক্তিগতভাবে প্রত্যেকের সহযোগিতা আর প্রচেষ্টা আমাদের এই আশাবাদের পেছনে প্রেরণা যোগাচ্ছে। আমাদের সবার আন্তরিক প্রচেষ্টাই আমাদের এই সফলতার মূল চাবিকাঠি।”
জুলাইয়ের অভ্যুত্থানে প্রাণ হারানো এবং আহতদের স্মরণ করে আলী রীয়াজ বলেন, “আমরা আমাদের প্রিয় বন্ধু, কর্মী ও ভাইবোনদের শোক স্মরণ করি, যারা এখনও জীবন-মৃত্যুর সন্ধিক্ষণে যুদ্ধ চালিয়ে যাচ্ছেন। তাদের প্রতি আমাদের কৃতজ্ঞতা এবং দায়বদ্ধতা থেকে আমরা এই জায়গায় এসেছি।”
তিনি যোগ করেন, “আমরা প্রতিদিন পরস্পরকে বোঝার চেষ্টা করছি, এ কারণেই আমি ধারাবাহিকভাবে আশাবাদী যে আমরা সকলেই সামাজিক ও রাজনৈতিক দায়িত্ববোধ নিয়ে এগিয়ে যেতে পারব। মানুষের প্রত্যাশা আমাদের প্রতি রয়েছে, আমাদেরও তাদের প্রত্যাশা পূরণে কাজ করতে হবে।”
জাতীয় ঐকমত্য কমিশনের অন্য সদস্যদের উপস্থিতিতে অনুষ্ঠিত এ বৈঠকে আলী রীয়াজ বিএনপি, আওয়ামী লীগসহ বিভিন্ন রাজনৈতিক দলের প্রতিনিধিদের সঙ্গে সুষ্ঠু সংলাপের মাধ্যমে চলমান সংলাপের গুরুত্বেও গুরুত্বারোপ করেন। তিনি আশাবাদ ব্যক্ত করেন, শিগগিরই একটি সম্মিলিত সনদ গ্রহণ সম্ভব হবে, যা দেশের গণতন্ত্র ও স্থিতিশীলতার জন্য গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে।








