জুলাই গণঅভ্যুত্থানের শহীদদের বিরুদ্ধে অবমাননাকর মন্তব্য ও অপপ্রচারের অভিযোগে অভিনেত্রী মেহের আফরোজ শাওন, চিত্রনায়িকা মাহিয়া মাহি ও শান্তা ফারজানার বিরুদ্ধে শাহবাগ থানায় লিখিত অভিযোগ দায়ের করা হয়েছে। রাষ্ট্র সংলাপ ফোরামের পক্ষে শুক্রবার (৩ জুলাই) সকালে দায়ের করা ওই অভিযোগ পুলিশ সাধারণ ডায়েরি (জিডি) হিসেবে নথিভুক্ত করা হয়েছে।
শাহবাগ থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. মনিরুজ্জামান শনিবার (৪ জুলাই) দুপুরে এ তথ্য নিশ্চিত করেছেন। তিনি জানান, অভিযোগটি সাইবার সংক্রান্ত হওয়ায় অধিকতর তদন্তের জন্য এটি ঢাকা মহানগর গোয়েন্দা পুলিশের (ডিবি) সাইবার ইউনিটে পাঠানো হয়েছে। তদন্তে অভিযোগের সত্যতা প্রমাণিত হলে আইন অনুযায়ী ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
অভিযোগপত্রে প্রতিটি অভিযুক্তের বিরুদ্ধে নির্দিষ্ট অভিযোগ তুলে ধরা হয়েছে। অভিযোগ অনুযায়ী:
১) শান্তা ফারজানা: তার বিরুদ্ধে দাবী করা হয় कि তিনি একটি ভিডিও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে نشر করেছেন যেখানে জুলাই স্মৃতিস্তম্ভে জুতা নিক্ষেপ বা আঘাত করার দৃশ্য রয়েছে, যা শহীদদের স্মৃতির প্রতি চরম অবমাননা হিসেবে প্রদর্শিত হয়েছে।
২) মেহের আফরোজ শাওন: অভিযোগে বলা হয়েছে, শাওন বিভিন্ন ভিডিও বার্তায় জুলাই আন্দোলনকে ‘পরিকল্পিত’ বা ‘সাজানো নাটক’ উল্লেখ করেছেন এবং রাষ্ট্র ও আন্দোলন সম্পর্কে নেতিবাচক মন্তব্য করেছেন।
৩) মাহিয়া মাহি: মাহির বিরুদ্ধে অভিযোগ, তিনি তার सोशल মিডিয়া পোস্টে জুলাই আন্দোলনে অংশ নেওয়া ছাত্র-জনতা ও বিভিন্ন সংগঠনের কর্মকাণ্ডকে কটাক্ষ করে ‘অভিনয়’ হিসেবে উপস্থাপন করেছেন এবং তাদের সম্মানহানি করেছেন।
অভিযোগপত্রে সংগঠনের পক্ষ থেকে বলা হয়েছে যে, ১ হাজার ৪০০-এর বেশি শহীদ ও ৩০ হাজারেরও অধিক আহত মানুষের রক্তের বিনিময়ে অর্জিত এই আন্দোলনকে নিয়ে এ ধরনের কর্মকাণ্ড জনগণের মধ্যে তীব্র অসন্তোষ সৃষ্টি করেছে। অভিযোগপত্রে কেন্দ্রীয় সদস্য সচিব আনম আয়াস ও তুহিন ফরাজী এবং কেন্দ্রীয় মুখ্য সংগঠক মুহাম্মদ শাহ্ আলম বাদশার স্বাক্ষর রয়েছে।
ডিএমপির অতিরিক্ত পুলিশ কমিশনার (ডিবি) মো. শফিকুল ইসলাম জানান, তারা অভিযোগ সম্পর্কে অবগত আছেন। নথি সাইবার ইউনিটে পৌঁছানোর পর ফরেনসিক তদন্তের মাধ্যমে পোস্ট ও ভিডিওর সত্যতা যাচাই করা হবে। তদন্তে অভিযোগ প্রমাণিত হলে অভিযুক্তদের বিরুদ্ধে গ্রেপ্তার ও অন্যান্য আইনানুগ ব্যবস্থা নেওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে।
সূত্র জানায়, জুলাই গণঅভ্যুত্থানের দ্বিতীয় বর্ষপূর্তির প্রাক্কালে এ ধরনের অভিযোগ ও প্রচারণার বিরুদ্ধে বিভিন্ন ছাত্র ও সামাজিক সংগঠন কঠোর অবস্থান নেওয়ার দাবি জানিয়েছে। পুলিশ এখন সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে প্রকাশিত ভিডিও ও পোস্টগুলোকে ফরেনসিকভাবে খতিয়ে দেখছে এবং তদন্ত চলছে।








