বহুল প্রত্যাশিত জুলাই সনদের প্রাথমিক খসড়া তৈরি হওয়ার সংবাদ দিয়েছেন জাতীয় ঐকমত্য কমিশনের সহ-সভাপতি অধ্যাপক ড. আলী রীয়াজ। আজ জাতীয় ঐকমত্য কমিশনের ১৯তম বৈঠকের শুরুতেই তিনি এই তথ্য জানান।
অধ্যাপক আলী রীয়াজ বলেন, ‘কমিশন ইতিমধ্যে একটি খসড়া প্রস্তুত করেছে, যা আগামীকাল সকল রাজনৈতিক দলের কাছে পাঠানো হবে। তাদের মতামত গ্রহণের পর সেই খসড়া চূড়ান্ত করা হবে।’ তিনি আরও জানান, রাজনৈতিক দলগুলি যদি বড় কোনো মৌলিক আপত্তি না জানায়, তাহলে তা নিয়ে আর আলাদা আলোচনা হবে না।
সব মতামত গ্রহণের পর, চূড়ান্ত জুলাই সনদে পটভূমি, প্রাথমিক বক্তব্য, বিভিন্ন অঙ্গীকার এবং প্রক্রিয়াগত বিষয়গুলো অন্তর্ভুক্ত করে তা রাজনৈতিক দলের সামনে উপস্থাপন করা হবে। সময়ের সীমাবদ্ধতাকে সামনে রেখে, আলী রীয়াজ সবাইকে স্মরণ করিয়ে দেন যে এই আলোচনা ৩১ জুলাইয়ের মধ্যে সম্পন্ন করতে হবে। এরপরই প্রক্রিয়াটির পরবর্তী ধাপে যাওয়া হবে।
তিনি জানান, ইতিমধ্যে ১০টি বিষয়ে ঐকমত্য হয়েছে, কিছু ক্ষেত্রে ‘নোট অফ ডিসেন্ট’ আছে ও সাতটি বিষয়ে আলোচনা চলছে; আর তিনটি বিষয়ে এখনো আলোচনা শুরু হয়নি। আজকের বৈঠকে পূর্বের অসমাপ্ত দুটি বিষয় এবং একটি নতুন বিষয় আলোচ্য সূচীতে রাখা হয়েছে। লক্ষ্য হলো জাতীয় সনদে স্বাক্ষর করতে সবাইকে সম্মত করা এবং প্রক্রিয়াটিকে সিদ্ধান্তে পৌঁছে দেওয়া।
আজকের বৈঠকে রাষ্ট্র পরিচালনার মূলনীতি, নাগরিক অধিকার সম্প্রসারণ এবং পুলিশ বাহিনীর পেশাদারিত্ব ও দায়বদ্ধতা নিশ্চিত করার লক্ষ্যে ‘স্বাধীন পুলিশ কমিশন’ গঠনের প্রস্তাব নিয়ে আলোচনা করা হবে।
জাতীয় ঐকমত্য কমিশনের সঙ্গে আজকের বৈঠকে অংশ নিচ্ছেন বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল (বিএনপি), বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামী, জাতীয় নাগরিক দল (এনসিপি), গণঅধিকার পরিষদ, গণসংহতি, বাংলাদেশের কমিউনিস্ট পার্টি (সিপিবি), বিপ্লবী ওয়ার্কার্স পার্টি, আমার বাংলাদেশ (এবি) পার্টি সহ মোট ৩০টি রাজনৈতিক দল।
কমিশনের অন্যান্য সদস্য হিসেবে বিচারপতি মো. এমদাদুল হক, ড. ইফতেখারুজ্জামান, ড. বদিউল আলম মজুমদার, সফর রাজ হোসেন, ড. মো. আইয়ুব মিয়া এবং প্রধান উপদেষ্টার বিশেষ সহকারী মনির হায়দারও বৈঠকে উপস্থিত রয়েছেন।
কমিশন সূত্রে জানা যায়, রাষ্ট্রের গুরুত্বপূর্ণ ও অমীমাংসিত বিষয়ে ঐকমত্য গড়ার উদ্দেশ্যে আগামী দিনগুলোতেও কমিশন ও রাজনৈতিক দলগুলোর মধ্যকার আলোচনা অব্যাহত থাকবে, যাতে দ্রুত জুলাই সনদ প্রণয়ন সম্ভব হয়।








