ঢাকা | বৃহস্পতিবার | ২৩শে জুলাই, ২০২৬ খ্রিস্টাব্দ | ৮ই শ্রাবণ, ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ | ৯ই সফর, ১৪৪৮ হিজরি

জেএফকে বিমানবন্দরে এফবিআই তৎপরতা: ক্লাউদিও তাপিয়া ও তোভিগিনোর মোবাইল জব্দ, আর্থিক তদন্তের জল্পনা

বিশ্বকাপ ফাইনালে স্পেনের কাছে পরাজয়ের তিক্ত স্মৃতি নিয়েই দেশে ফিরতে যাওয়ার পথে আর্জেন্টিনা ফুটবল অ্যাসোসিয়েশনের (এএফএ) শীর্ষ নেতৃত্ব বড় ধরনের আইনি ঝামেলায় পড়ে গিয়েছে। নিউইয়র্কের জন এফ কেনেডি আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে বিমানে ওঠার ঠিক আগে এএফএ সভাপতি ক্লাউদিও তাপিয়া এবং প্রভাবশালী কর্মকর্তা তোভিগিনোর মোবাইল ফোন জব্দ করে যুক্তরাষ্ট্রের বিচার বিভাগীয় সংস্থা, এমন খবর প্রকাশ করেছে বিদেশি কয়েকটি সংবাদমাধ্যম।

সংবাদদাতাদের বর্ণনা অনুযায়ী, এফবিআইয়ের উপস্থিতিতে ওই অভিযান পরিচালিত হয়। বিমানবন্দরের একটি বাসের মধ্যে তাপিয়া ও তোভিগিনোকে প্রায় ৩০ মিনিট জিজ্ঞাসাবাদ করা হয়। এই অনাকাঙ্ক্ষিত ঘটনার ফলে আর্জেন্টিনার চাটার ফ্লাইটটি প্রায় দুই ঘণ্টা দেরিতে উড্ডয়ন করে।

ইনফোবায়ে ও ক্লারিনের প্রতিবেদন অনুসারে ব্যক্তিগত ইলেকট্রনিক ডিভাইসগুলো জব্দের কারণ হলো আর্জেন্টিনা দলের বিভিন্ন আন্তর্জাতিক বাণিজ্যিক চুক্তি ও আর্থিক লেনদেনে সম্ভবত অস্বচ্ছতা সংক্রান্ত একটি বৃহৎ তদন্ত। পাশাপাশি জানানো হয়েছে, ক্লাউদিও তাপিয়াকে আগামী ৩০ জুলাই ফ্লোরিডার একটি ফেডারেল আদালতে সাক্ষ্য দেওয়ার জন্য তলব করা হয়েছে।

তদন্তের কেন্দ্রবিন্দুতে রয়েছে ফ্লোরিডাভিত্তিক একটি বাণিজ্যিক প্রতিষ্ঠান, যা দলটির প্রীতি ম্যাচ আয়োজন, স্পনসরশিপ এবং সম্প্রচারস্বত্বের বাণিজ্যিক কাজ দীর্ঘদিন করে আসছে। অভিযোগ মতে স্পনসরদের কাছ থেকে প্রাপ্ত কয়েক মিলিয়ন ডলারের একটি বড় অংশ মিয়ামির একটি ব্যাংক অ্যাকাউন্টে জমা হলেও তা এএফএ-র বার্ষিক আর্থিক বিবরণীতে প্রকাশ করা হয়নি। তদন্ত সংক্রান্ত নথি অনুযায়ী, ঐ প্রতিষ্ঠান প্রায় ৩০০ মিলিয়ন ডলার আয় দেখিয়েছে এবং এর মধ্যে আনুমানিক ৪০ মিলিয়ন ডলার সন্দেহজনক কিছু হোল্ডিং বা প্রতিষ্ঠানের কাছে স্থানান্তর করা হয়েছে, যেগুলোর বৈধতা নিয়ে প্রশ্ন রয়েছে।

এই বিষয়টি মূলত আর্জেন্টাইন ব্যবসায়ী গিয়ের্মো তোফোনির দায়ের করা একটি প্রতারণা মামলার প্রেক্ষিতেই সামনে এসেছে। তোফোনি দাবি করেছেন যে ২০৩০ সাল পর্যন্ত জাতীয় দলের ম্যাচ আয়োজনের চুক্তিটি একতরফাভাবে বাতিল করা হয়েছিল।

ক্লাউদিও তাপিয়া বা এএফএ-এর পক্ষ থেকে এখনো কোনো আনুষ্ঠানিক প্রতিক্রিয়া পাওয়া যায়নি। বিষয়টি বর্তমানে বিচারাধীন রয়েছে এবং এ পর্যন্ত কোনো পক্ষকেই আদালত দোষী সাব্যস্ত করেনি।