যুক্তরাষ্ট্র জোরপূর্বক শ্রমের বিরুদ্ধে কার্যকর ব্যবস্থা নিতে ব্যর্থতার অভিযোগ তুলে বাংলাদেশসহ প্রায় ৬০টি দেশের ওপর নতুন অতিরিক্ত শুল্ক আরোপের প্রস্তাব দিয়েছে। ইউএসটিআর (মার্কিন বাণিজ্য প্রতিনিধির কার্যালয়) জানিয়েছে, এসব দেশের পণ্যের ওপর ১০ শতাংশ থেকে ১২.৫ শতাংশ পর্যন্ত অতিরিক্ত শুল্ক আরোপ করার পরিকল্পনা করা হয়েছে।
ইউএসটিআর বলেছে, তাদের তদন্তে দেখা গেছে কিছু দেশে জোরপূর্বক শ্রমে উৎপাদিত পণ্য আমদানি ঠেকাতে প্রাসঙ্গিক আইন ও নীতি কার্যকরভাবে প্রয়োগ হচ্ছে না। ওয়াশিংটন এই কারণ দেখিয়ে বেশ কিছু বাণিজ্য অংশীদার দেশের বিরুদ্ধে শুল্ক আরোপের পথ খোলার প্রস্তাব দিয়েছে। এই পদক্ষেপটি সেইসময় আসে যখন চীন, ইইউ, জাপানসহ কয়েকটি বড় অংশীদারের বিরুদ্ধে তদন্ত শুরু হওয়ায় বাণিজ্যক্ষেত্রে উত্তেজনা বাড়ছে।
প্রস্তাবনায় যেসব দেশের ওপর ১০ শতাংশ অতিরিক্ত শুল্ক আরোপ করার কথা বলা হয়েছে তাদের মধ্যে বাংলাদেশ, ইউরোপীয় ইউনিয়ন, কানাডা, মেক্সিকো, তাইওয়ান, যুক্তরাজ্য, পাকিস্তান, মালয়েশিয়া, কম্বোডিয়া, আর্জেন্টিনা, ইকুয়েডর, এল স্যালভাদর ও গুয়াতেমালা উল্লেখযোগ্য। আর তদন্তাধীন অন্যান্য অনেক দেশের ওপর ১২.৫ শতাংশ পর্যন্ত অতিরিক্ত শুল্ক আরোপের প্রস্তাব রাখা হয়েছে; এতে ভারতের মতো বড় রপ্তানিকারক দেশের পণ্যের ওপরও চাপ পড়ার সম্ভাবনা রয়েছে।
এই প্রস্তাবটি আসছে গত ফেব্রুয়ারি মাসে মার্কিন সুপ্রিম কোর্টের এক রায় পর পরিপ্রেক্ষিতে, যেখানে ট্রাম্প প্রশাসনের জরুরি শুল্ক কাঠামোর ওপর সীমাবদ্ধতা আরোপ করা হয়েছিল। এরপর ট্রাম্প প্রশাসন শুল্ক ব্যবস্থাকে নতুন আইনি ভিত্তিতে পুনর্গঠন করার চেষ্টা শুরু করেছে — বিশ্লেষকেরা বলছেন, নতুন কাঠামো কার্যকর হলে আদালতের কিছু সীমাবদ্ধতা এড়িয়ে যাওয়ার সুযোগ তৈরি হতে পারে।
ইউএসটিআর জানিয়েছে, ১৯৭৪ সালের ট্রেড অ্যাক্টের ধারা ৩০১-এর ভিত্তিতে কয়েক মাস আগে এই তদন্ত শুরু করা হয়েছিল। তদন্তে দেখা হয়, সংশ্লিষ্ট দেশগুলো জোরপূর্বক শ্রমে তৈরি পণ্যের আমদানি রুখতে কার্যকর নীতিগত ব্যবস্থা নিয়েছে কি না এবং তাদের নীতির কারণে যুক্তরাষ্ট্রের বাণিজ্য ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে কি না — এসব তথ্যের আলোকে শুল্ক প্রস্তাব আনা হয়েছে।
প্রস্তাবিত শুল্ক বাস্তবায়িত হলে যুক্তরাষ্ট্রে আমদানি পণ্যের মূল্য বাড়তে পারে, যেটা রপ্তানিকারকদের প্রতিযোগিতামূলক অবস্থাকে প্রভাবিত করবে। বিশেষ করে যুক্তরাষ্ট্রভিত্তিক বড় বাজারে যারা বেশি পরিমাণে রপ্তানি করে তাদের জন্য এটি নতুন চ্যালেঞ্জ হিসেবে দেখা দেবে।
তবে এখনই নিশ্চিতভাবে বলা যাচ্ছে না এই শুল্কের স্থায়ী প্রভাব কী হবে। প্রস্তাবটি চূড়ান্ত নয় — জনমত গ্রহণ ও পর্যালোচনার জন্য খুলে রাখা হয়েছে এবং পরিবর্তনও আসতে পারে। ইউএসটিআর‑এর পরবর্তী সিদ্ধান্ত ও আনুষ্ঠানিক প্রক্রিয়া অর্থনৈতিক ও কূটনৈতিক উভয় ক্ষেত্রে নজরকাড়া প্রভাব ফেলতে পারে।







