টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপে পাকিস্তানের হতাশাজনক ফলের দায় নিয়ে নির্বাচক প্যানেল থেকে পদত্যাগ করেছেন সাবেক আন্তর্জাতিক আম্পায়ার আলিম দার। পাকিস্তানের শীর্ষস্থানীয় সংবাদমাধ্যম সামা টিভি এই খবর নিশ্চিত করেছে। দলকে সুপার এইট থেকেই বিদায় নিতে দেখা এবং টুর্নামেন্টজুড়ে অনিশ্চয়তার ছায়া আলিম দারকে নৈতিক দায়বোধে এই সিদ্ধান্ত নিতে বাধ্য করেছে।
পিসিবি শুরু থেকেই সালমান আলী আঘা ও শাহিন আফ্রিদির ওপর বড় আশা রেখেছিল, কিন্তু সেই প্রত্যাশার শেষে এসে দল সম্মুখীন হয়েছে হতাশাজনক সমাপ্তির। গ্রুপ পর্বে যুক্তরাষ্ট্র, নেদারল্যান্ডস ও নামিবিয়ার মতো দলগুলোকে হারানোর পরও ভারতকে হারাতে না পারায় পাকিস্তান ভাবমূর্তিতে পড়ে। সুপার এইটে নিউজিল্যান্ডের সঙ্গে বৃষ্টির কারণে পয়েন্ট ভাগাভাগি এবং পরে ইংল্যান্ডের কাছে বড় ব্যবধানে পরাজয় সেমিফাইনালের রাস্তাটাই প্রায় বন্ধ করে দিয়েছে।
পরিশেষে শ্রীলঙ্কার বিরুদ্ধে শেষ ম্যাচে পাকিস্তান ২১২ রানের সংগ্রহ দাঁড় করালেও রানরেটের জটিল হিসেব তাদের সেমিফাইনালে উঠতে দেয়নি। ওপেনিং জুটিতে শাহিবজাদা ফারহান ও ফখর জামানের ১৭৬ রানের প্রদর্শনী ভক্তদেরকে আশা দিয়েছে, কিন্তু বোলিংয়ের ভাঙন লঙ্কানরা জয়টাকে সম্ভাব্য করে তুলেছিল। শেষ ওভারে শাহিন আফ্রিদি ২৪ রান হারিয়ে দালেন, তবুও দল মিলিয়ে ৫ রানের শ্বাসরুদ্ধকর জয় তুলে নিল—কিন্তু নেট রানরেটের কারণে তাতে কার্যকর সাফল্য হয়নি।
মাঠের খারাপ পারফরম্যান্সের প্রতিক্রিয়ায় পাকিস্তান ক্রিকেট বোর্ড কঠোর অবস্থান নিয়েছে। সংবাদ সূত্রে বলা হয়েছে, বিশ্বকাপে দুর্বল খেলায় প্রতিটি ক্রিকেটারকে ৫০ লাখ রুপি করে জরিমানা করা হয়েছে। শুধু ক্রিকেটাররাই নন—এই ব্যর্থতার দায়িত্বে কোচিং স্টাফদেরও বোর্ডের সামনে জবাবদিহি করতে হতে পারে। আলিম দারের পদত্যাগকে বড় ধরনের পরিবর্তনের সূচক হিসেবে দেখা হচ্ছে, তবে নির্বাচক প্যানেলে আরও কী রদবদল হবে তা নিয়ে এখনও কোনো আনুষ্ঠানিক ঘোষণা আসে নি এবং বোর্ডের অভ্যন্তরীণ পরিস্থিতি বর্তমানে বেশ উত্তপ্ত বলে জানা গেছে।
আলিম দারের স্থলাভিষিক্ত কে হবেন, সেই বিষয়ে এখনও পিসিবি কোনো চূড়ান্ত নাম প্রকাশ করেনি। বিশ্বকাপের ব্যর্থতার পর পাকিস্তান ক্রিকেট এখন পুনর্গঠন ও প্রশ্নোত্তর পর্বে প্রবেশ করেছে—যেখানে সিদ্ধান্তগুলো ভবিষ্যৎ পরিকল্পনা ও দলে বিশ্বাস ফিরিয়ে দিতে বড় ভূমিকা রাখবে।








