ঢাকা | শুক্রবার | ৫ই জুন, ২০২৬ খ্রিস্টাব্দ | ২২শে জ্যৈষ্ঠ, ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ | ১৯শে জিলহজ, ১৪৪৭ হিজরি

টোটা যখন শরৎচন্দ্র: সৃজিতের প্রি-টিজার আলোড়ন

কথাসাহিত্যিক শরৎচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়ের বিখ্যাত উপন্যাস ‘পথের দাবী’ প্রকাশের শতবর্ষ উপলক্ষে নির্মাতা সৃজিত মুখার্জি বড় বাজেটের ছবি ‘এম্পেরর ভার্সেস শরৎচন্দ্র’ নিয়ে ব্যস্ত। গতকাল বুধবার ছবিটির ৫৯ সেকেন্ডের রহস্যময় প্রি-টিজার প্রকাশ করা হলে তা瞬তি দর্শকদের কৌতূহল ও আলোড়ন তোলে।

প্রি-টিজারে টোটা রায়চৌধুরীকে বৃষ্টিতে সাদা ধুতি-পাঞ্জাবি পরে শান্ত কিন্তু দৃঢ় এক শরৎচন্দ্রের ভূমিকায় দেখা যায়। তার উপস্থিতি উপন্যাসের সেই ঐতিহ্যবাহী ভাব ও চরিত্রে নতুন শ্বাস দিয়েছে বলে দর্শকরা মন্তব্য করেছেন।

ভিডিওতে শুধু লেখক শরৎচন্দ্রই নয়, দেখা মিলেছে উপন্যাসের কালজয়ী বিপ্লবী সব্যসাচীরও। জনপ্রিয় অভিনেতা আবীর চট্টোপাধ্যায় এই চরিত্রে অভিনয় করেছেন—দুই হাতে পিস্তল, সাদা শার্টের ওপর কোট ও টুপি পরে তিনি পুরোপুরি এক বিপ্লবীর উপস্থিতি ব্যক্ত করেছেন। বিশেষ করে টোটার কণ্ঠে ‘‘দেখা হোক এবার পুজোয়, সঙ্গে থাকুক সব্যসাচী’’ এই সংলাপটি দর্শকদের মধ্যে রোমাঞ্চ ছড়িয়ে দিয়েছে।

ছোট্ট এই ঝলকেই পাঠকের মনে উপন্যাসের উত্তাল রাজনৈতিক সময় এবং ব্রিটিশ শাসনের বিরুদ্ধে লেখকের বুদ্ধিবৃত্তিক ও আদর্শিক লড়াইয়ের ইঙ্গিত মিলেছে। ১৯২৬ সালে প্রকাশিত ‘পথের দাবী’ তখনকার ব্রিটিশ ভারতের রাজনীতিতে প্রবল আলোড়ন সৃষ্টি করেছিল; সব্যসাচী তৎকালীন তরুণ প্রজন্মের কাছে বিপ্লবের প্রতীক হয়ে ওঠে।

সৃজিত এই ছবিতে শুধুই সাহিত্যের গল্পই তুলে আনছেন না—তিনি ওই ঐতিহাসিক দ্রোহকাল এবং ঔপনিবেশিক বলবৎ শক্তির বিরুদ্ধে শরৎচন্দ্রের লেখনীর লড়াইকে সেলুলয়েডে জীবন দেনোর চেষ্টা করছেন। প্রি-টিজারের আবহসংগীত, কোরোস্নায়ন এবং সেট ডিজাইন পুরোনো কলকাতার মায়া নতুনভাবে জীবন্ত করে তুলেছে বলে দেখা গেছে।

ফিল্মে টোটা ও আবীর ছাড়াও মিমি চক্রবর্তী, দিব্যাণী মণ্ডল ও ঋক চট্টোপাধ্যায় অভিনয় করছেন; তবে তাদের চরিত্র সম্পর্কে এখনো নির্মাতা বেশ গোপনীয়তা বজায় রাখছেন। নন্দী মুভিজ প্রযোজিত এই চলচ্চিত্রটি আগামী দুর্গাপূজায় মুক্তি পাবে বলে ঘোষণা করা হয়েছে।

চলচ্চিত্র বিশ্লেষকরা মনে করেন, সাহিত্যভিত্তিক ও ঐতিহাসিক প্রেক্ষাপটে নির্মিত এই ছবি বর্তমান প্রজন্মের কাছে নতুনভাবে আবেদন করবে। প্রি-টিজার যে ইঙ্গিতগুলো দিয়েছে, সেগুলো যদি পূর্ণ সিনেমাতেও রেখে দেওয়া হয়, তবে দর্শকরা নিশ্চিতভাবে এক গভীর ও প্রভাবশালী কাহিনির প্রত্যাশা করতে পারেন।