কালজয়ী উপন্যাস ‘পথের দাবী’ প্রকাশের শতবর্ষ উপলক্ষ্যে ওপার বাংলার পরিচালনা সৃজিত মুখার্জি বড় বাজেটের চলচ্চিত্র ‘এম্পেরর ভার্সেস শরৎচন্দ্র’ নির্মাণ করছেন। গত বছর ছবিটির আনুষ্ঠানিক ঘোষণা দেওয়ার পর থেকেই ছবিটি নিয়ে দর্শকদের মধ্যে কৌতূহল তৈরি হয়েছিল। সেই অপেক্ষার এক ঝলক হিসেবে গতকাল বুধবার ৫৯ সেকেন্ডের রহস্যময় একটি প্রি-টিজার প্রকাশ হয়েছে, যা দেখেই দর্শক স্তম্ভিত হয়েছেন।
টোটা রায়চৌধুরীকে শরৎচন্দ্রের ভূমিকায় দেখিয়ে যে উপস্থিতি ধরা পড়েছে, তা বহু পুরোনো পাঠকের মনে নতুন করে আগ্রহ জাগিয়েছে। বৃষ্টিভেজা দৃশ্যে সাদা ধুতি-পাঞ্জাবি পরে টোটার শান্ত কিন্তু দৃঢ় অবয়ব চরিত্রটিকে ভিন্ন মাত্রা দিয়েছে — একেবারেই সহমর্মী এবং কড়াভাবে আস্থাশীল।
প্রি-টিজারে লেখক শরৎচন্দ্রের ছবির সঙ্গে সঙ্গে উপন্যাসের সবচেয়ে আলোচিত বিপ্লবী চরিত্র সব্যসাচীরও দেখা গেছে। এই চরিত্রে অভিনয় করেছেন আবীর চট্টোপাধ্যায়। ভিডিওতে তিনি পুরোপুরি বিপ্লবীর সাজে; দুই হাতে দুটি পিস্তল, সাদা শার্টের ওপর কোট আর টুপি — সেই সময়ের উগ্র ও অনড় প্রতিধ্বনি ফুটে উঠেছে। টোটার কণ্ঠে ‘দেখা হোক এবার পুজোয়, সঙ্গে থাকুক সব্যসাচী’ এই সংলাপটি যোগ করা হওয়ায় প্রি-টিজারটি দর্শকদের মধ্যে রোমাঞ্চ আরও বাড়িয়েছে।
এই সংক্ষিপ্ত ঝলকে উপন্যাসের তৎকালীন উত্তাল বিপ্লবী সময়, ব্রিটিশ প্রশাসনের বিরুদ্ধে লেখকের আদর্শিক লড়াই এবং ব্যক্তিগত বোধের সংঘাতের ইঙ্গিত পাওয়া যায়। ১৯২৬ সালে প্রকাশিত ‘পথের দাবী’ তখনকার ব্রিটিশ ভারতের রাজনীতিতে যথেষ্ট আলোড়ন সৃষ্টি করেছিল; সব্যসাচী তখনকার তরুণ প্রজন্মের কাছে বিপ্লবের প্রতীক হিসেবে দাঁড়িয়েছিল।
সৃজিত এই ছবিতে কেবল সাহিত্যের গল্পই তুলে আনছেন না, তিনি উপন্যাসের ঐতিহাসিক প্রেক্ষাপট ও ঔপনিবেশিক শক্তির বিরুদ্ধে লেখকের প্রতিরোধকে সেলুলয়েডে বাস্তবে রূপান্তরিত করার চেষ্টা করছেন বলেই খবর। নির্মাণশৈলী, পরিবেশ নির্মাণ এবং সহায়ক সংগীত—সবকিছু মিলিয়ে সেই পুরনো কলকাতার আবহ পুনর্গঠনের প্রচেষ্টা লক্ষ্য করা যাচ্ছে প্রি-টিজারে।
টোটা ও আবীর ছাড়াও ছবিতে অভিনয় করেছেন মিমি চক্রবর্তী, দিব্যাণী মণ্ডল ও ঋক চট্টোপাধ্যায়; তবে তাদের চরিত্র সম্পর্কে এখনও নির্মাতা বিশেষ তথ্য প্রকাশ করেননি। নন্দী মুভিজ প্রযোজিত এই চলচ্চিত্রটি আগামী দুর্গাপূজায় মুক্তির পরিকল্পনা রয়েছে।
চলচ্চিত্র বিশ্লেষকরা মনে করছেন, সাহিত্যনির্ভর ও ঐতিহাসিক প্রেক্ষাপটে নির্মিত ‘এম্পেরর ভার্সেস শরৎচন্দ্র’ বর্তমান প্রজন্মের কাছে উপন্যাসটিকে নতুনভাবে পরিচয় করিয়ে দেবে। প্রি-টিজারের সংগীত এবং নির্মাণশৈলী সেই শৈল্পিক অনুষঙ্গকে ফুটিয়ে তুলেছে, যা দর্শকের আগ্রহ আরও বাড়িয়েছে।
যদিও পুরো ছবির কাহিনি ও চরিত্রের বিস্তারিত প্রকাশ পায়নি, এই সংক্ষিপ্ত ঝলকই যথেষ্ট করে দিয়েছে ভক্ত ও চলচ্চিত্রপ্রেমীদের মধ্যে প্রত্যাশা জাগাতে।







