ঢাকা | শনিবার | ১লা আগস্ট, ২০২৬ খ্রিস্টাব্দ | ১৭ই শ্রাবণ, ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ | ১৮ই সফর, ১৪৪৮ হিজরি

ট্রাম্প প্রশাসন প্রকাশ করল মার্টিন লুথার কিং হত্যার গোপন নথি, পরিবারে মিশ্র প্রতিক্রিয়া

ডোনাল্ড ট্রাম্পের প্রশাসন মার্টিন লুথার কিং জুনিয়রের হত্যাসংক্রান্ত প্রায় ২ লাখ ৩০ হাজার পৃষ্ঠার গোপন নথি প্রকাশ করেছে। এই দলিলে রয়েছে এফবিআইয়ের মার্কিন নাগরিক অধিকার নেতাকে নিয়ে নজরদারি ও তদন্তের বিস্তারিত তথ্য, পাশাপাশি আগে কখনো প্রকাশ না হওয়া সিআইএ রেকর্ডও। ১৯৭৭ সাল থেকে এই নথিগুলো আদালতের আদেশে জনসাধারণের জন্য বন্ধ ছিল।

ব্রিটিশ সংবাদমাধ্যম বিবিসির প্রতিবেদনে জানা গেছে, নথি প্রকাশের পরে মার্টিন লুথার কিংয়ের পরিবার বেশ উদ্বিগ্ন এবং ক্ষোভ পোষণ করেছে। কিংয়ের দুই সন্তান, মার্টিন লুথার কিং তৃতীয় এবং বার্নিস কিং এক যৌথ বিবৃতিতে অনুরোধ করেছেন যে, নথি পর্যালোচনাকারীরা যেন বাবার প্রতি সহানুভূতি, সংযম ও সম্মান বজায় রেখে কাজ করেন এবং সেসব নথির মাধ্যমে তাঁর মর্যাদা আঘাতপ্রাপ্ত না হয়। তারা স্মরণ করিয়ে দিয়েছেন, জীবদ্দশায় এফবিআইয়ের নেতৃত্বে যে অবৈধ নজরদারি ও মিথ্যা প্রচার চালানো হয়েছিল সেটি ছিল অত্যন্ত নিন্দনীয়। এতে কিং শুধু একজন সাধারণ নাগরিক হিসেবেই নয়, ব্যক্তিগত ও মানবিক স্বাধীনতাও হারিয়েছিলেন।

অন্যদিকে, পরিবারের এক সদস্য ও কিংয়ের বোন আলভেদা কিং এই নথি প্রকাশের স্বাগত জানিয়েছেন। তিনি বলেন, ‘‘আমি প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প এবং জাতীয় গোয়েন্দা দপ্তরের স্বচ্ছতার প্রতি কৃতজ্ঞ। আমরা এখনও বাবার মৃত্যু নিয়ে শোকাহত, তবে সত্যের প্রকাশকে ঐতিহাসিক পদক্ষেপ হিসেবে দেখি।’’

মার্টিন লুথার কিং, জনসাধিকার আন্দোলনের নেতৃস্থানীয় ব্যক্তিত্ব, ১৯৬৮ সালের ৪ এপ্রিল টেনেসির মেমফিসে গুলিবিদ্ধ হয়ে মারা যান, বয়স ছিল মাত্র ৩৯ বছর। পেশাদার অপরাধী জেমস আর্ল রে তার হত্যার দায় স্বীকার করলেও পরে তিনি দাবি করেন, তিনি একটি গভীর ষড়যন্ত্রের শিকার। আদালত তার দাবি প্রত্যাখ্যান করেন और তিনি ১৯৯৮ সালে কারাগারে মৃত্যুবরণ করেন। ১৯৯৯ সালে একটি দেওয়ানি মামলায় যুক্তরাষ্ট্রের এক জুরি জানান, কিং-এর মৃত্যু কোনো একক আততায়ীর তালিকার বাইরে গিয়ে একটি বড় ষড়যন্ত্রের অংশ ছিল।

নথিগুলোতে রয়েছে এফবিআইয়ের অভ্যন্তরীণ মেমো, নজরদারির বিশদ বিবরণ এবং সিআইএর অনুসন্ধান সংক্রান্ত দলিল। জাতীয় গোয়েন্দা দপ্তর জানিয়েছে, ‘‘দশকের পর দশক এই নথিগুলো ফেডারেল সরকারের বিভিন্ন দপ্তরে ধুলায় পুড়ে ছিল, এবারই প্রথম সেগুলো জনসাধারণের সামনে এসেছে।’’

এই নথি প্রকাশের উদ্যোগে যুক্তরাষ্ট্রের বিচার বিভাগ, এফবিআই, সিআইএ এবং ন্যাশনাল আর্কাইভস একসঙ্গে কাজ করেছে। মার্কিন অ্যাটর্নি জেনারেল পামেলা বন্ডি বলেন, ‘‘একজন মহৎ নেতার হত্যাকাণ্ড সম্পর্কে সত্য জানতে সব আমেরিকানের অধিকার রয়েছে।’’

তবে, ট্রাম্প প্রশাসনের সমালোচকেরা এই সময় নথি প্রকাশকে রাজনৈতিক উদ্দেশ্যমূলক বলতে সংকোচ করছেন না। নাগরিক অধিকার নেতা রেভারেন্ড আল শার্পটন মন্তব্য করেন, ‘‘জেফ্রি এপস্টেইনের মৃত্যুর পর সরকারের স্বচ্ছতার অভাব নিয়ে যে বিতর্ক তৈরি হয়েছে, তা থেকে জনগণের দৃষ্টি সরাতে এই নথি প্রকাশ করা হয়েছে।’’