ঢাকা | মঙ্গলবার | ১৪ই এপ্রিল, ২০২৬ খ্রিস্টাব্দ | ১লা বৈশাখ, ১৪৩২ বঙ্গাব্দ | ২৬শে শাওয়াল, ১৪৪৭ হিজরি

ট্রাম্প প্রশাসন বার্থ ট্যুরিজম ঠেকাতে কড়া পদক্ষেপ নেবে: নতুন ‘বার্থ ট্যুরিজম ইনিশিয়েটিভ’ চালু

বিদেশ থেকে এসে সন্তান জন্ম দিয়ে জন্মসূত্রে নাগরিকত্ব পাওয়ার উদ্দেশ্যে হওয়া ‘বার্থ ট্যুরিজম’ এখন কঠোর নজরদারিতে এসেছে। প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের প্রশাসন এমন চক্রগুলোর বিরুদ্ধে কড়া ব্যবস্থা নেওয়ার পরিকল্পনা ঘোষণা করেছে।

ইমিগ্রেশন অ্যান্ড কাস্টমস এনফোর্সমেন্ট (আইসিই)-এর একটি অভ্যন্তরীণ ই-মেইল থেকে জানা গেছে, সংস্থাটি ‘বার্থ ট্যুরিজম ইনিশিয়েটিভ’ নামে একটি নতুন প্রচেষ্টা চালু করেছে। এর আওতায় তদন্তকারীদের নির্দেশ দেওয়া হয়েছে এমন সংগঠিত নেটওয়ার্ক শনাক্ত করতে, যারা গর্ভবতী নারীদের ভিসা আবেদন ক্ষেত্রে ভুল বা বিভ্রান্তিকর তথ্য দিয়ে যুক্তরাষ্ট্রে আনার ব্যবস্থা করে।

এই নারীরা প্রধানত যুক্তরাষ্ট্রে জন্ম দিয়ে তাদের শিশুকে স্বয়ংক্রিয় নাগরিকত্ব নিশ্চিত করতেই এখানে আসেন। ট্রাম্প প্রশাসন বলছে, জন্মসূত্রে নাগরিকত্বের বর্তমান নিয়ম এই ধরনের কার্যক্রমকে উসকানি দিচ্ছে। হোমল্যান্ড সিকিউরিটি বিভাগের মুখপাত্রদের কথায়, জন্ম নেওয়া নিজে বেআইনি নয়, কিন্তু ভিসা জালিয়াতি বা প্রতারণার সঙ্গে জড়িত হলে ঐসব মামলায় কড়া আইনগত পদক্ষেপ নেওয়া হবে।

হোয়াইট হাউসের মুখপাত্র অ্যানা কেলি বলেন, জন্ম পর্যটন দেশের উপর অতিরিক্ত চাপ তৈরি করছে এবং জাতীয় নিরাপত্তার জন্য ঝুঁকি সৃষ্টি করছে। তিনি আরও বলেন, বিশ্বের অধিকাংশ দেশে জন্মের ভিত্তিতে স্বয়ংক্রিয় নাগরিকত্ব দেওয়া হয় না।

ট্রাম্প প্রশাসন ধারণা করছে যে এমন জালিয়াতি, আর্থিক অপরাধ ও শোষণের মাধ্যমে সংগঠিত চক্র বিদেশি নাগরিকদের এমন এক প্রজন্ম তৈরি করছে, যাদের সঙ্গে যুক্তরাষ্ট্রের বাস্তব সংযোগ দুর্বল। এই উদ্যোগের নেতৃত্ব দিচ্ছে হোমল্যান্ড সিকিউরিটি ইনভেস্টিগেশনস (এইচএসআই), যারা বিশেষভাবে এই ধরনের অপরাধভুক্ত নেটওয়ার্ক ভাঙার উদ্দেশ্যে কাজ করবে।

আইনি দিকটি জটিল। যুক্তরাষ্ট্রের সংবিধানের ১৪তম সংশোধনী অনুযায়ী দেশটিতে জন্ম নেওয়া প্রায় সব শিশুই নাগরিকত্ব পান—এটি বহু বছর ধরে প্রতিষ্ঠিত বিচারবিভাগীয় নীতিমালা। ক্ষমতায় ফিরে প্রথম দিনেই ট্রাম্প একটি নির্বাহী আদেশ জারি করেন, যেখানে বলা হয় যদি পিতামাতার কেউ মার্কিন নাগরিক বা স্থায়ী বাসিন্দা না হন, তাহলে তাদের সন্তান যুক্তরাষ্ট্রে জন্ম নিলেও নাগরিকত্ব পাবেন না। এই আদেশের বিরুদ্ধে কয়েকজন ফেডারেল বিচারক স্থগিতাদেশ দিয়েছেন এবং বিষয়টি এখন সুপ্রিম কোর্টে বিচারাধীন।

পরিসংখ্যান বলছে, ‘বার্থ ট্যুরিজম’ মোট জনসংখ্যার দিক থেকে বড় সমস্যা কিনা তা প্রতীয়মান নয়। সেন্টার ফর ইমিগ্রেশন স্টাডিজের এক বিশ্লেষণে বলা হয়েছিল, ২০১৬-১৭ সালের মধ্যে প্রায় ২০-২৫ হাজার নারী এমন উদ্দেশ্যে যুক্তরাষ্ট্রে এসেছিলেন। সেটি ২০২৫ সালে দেশজুড়ে জন্ম নেওয়া প্রায় ৩৬ লাখ শিশুর তুলনায় নগণ্য একটি অংশ। তবুও রিপাবলিকান নেতারা এই ইস্যু নিয়ে জন্মসূত্রে নাগরিকত্ব সীমিত করার পক্ষে অবস্থান গ্রহণ করেছেন।

আইনি এবং প্রশাসনিক মোড়কগুলোকে পিছনে রেখে, সরকারের এই নতুন উদ্যোগের লক্ষ্য স্পষ্ট—সংগঠিত জালিয়াতি চক্রগুলোকে চিহ্নিত করে ভাঙা এবং ভিসা ও অভিবাসন নিয়মের অপব্যবহার রোধ করা। তবে বিষয়টি কবে এবং কীভাবে সুপ্রিম কোর্টে চূড়ান্তভাবে সিদ্ধান্ত হবে, তা নজর রাখার বিষয়।