জাতীয় ঐকমত্য কমিশনের দ্বিতীয় পর্যায়ের আলোচনা প্রধান আলোচ্য বিষয় ছিল তত্ত্বাবধায়ক সরকার ব্যবস্থা। তবে এ বিষয়ে কোনো চূড়ান্ত সিদ্ধান্তে পৌঁছাতে না পেরে আপাতত আলোচনা স্থগিত রাখা হয়েছে।
আলোচনার মাঝেমধ্যে বিরতির সময় রাজনৈতিক দলগুলো জানিয়েছে, তত্ত্বাবধায়ক সরকারের কাঠামো Parliament-এর দুই কক্ষে নির্ভরশীল হওয়ায় প্রথমে উচ্চকক্ষের বিষয়ে সম্মতিতে আসা প্রয়োজন।
গণসংহতি আন্দোলনের প্রধান সমন্বয়কারী জোনায়েদ সাকি বলেন, পূর্বের তত্ত্বাবধায়ক সরকারের প্রধান ও বিচার বিভাগের সমন্বয়ের অভিজ্ঞতা সন্তোষজনক ছিল না। পাশাপাশি রাষ্ট্রপতিকে প্রধান উপদেষ্টার দায়িত্ব দেওয়া সম্পর্কেও ইতিবাচক ফল হয়নি।
তিনি জানান, যেহেতু তত্ত্বাবধায়ক সরকার একটি রাজনৈতিক সিদ্ধান্ত, তাই এর দায়িত্ব সংসদের হাতে রেখে একটি সাতজনের কমিটি গঠনের প্রস্তাব এসেছে, যা উচ্চ ও নিম্নকক্ষের প্রতিনিধিদের নিয়ে গঠিত হবে। এই কমিটি নির্বাচন উপলক্ষে প্রধান উপদেষ্টা নির্বাচন করবে, তবে উচ্চকক্ষের বিষয়ে এখনও সিদ্ধান্ত না হওয়ায় তত্ত্বাবধায়ক সরকারের নির্বাচনী কাঠামো চূড়ান্ত করা সম্ভব হয়নি।
বাংলাদেশ কমিউনিস্ট পার্টির (সিপিবি) সাধারণ সম্পাদক রুহিন হোসেন প্রিন্স বলেন, অতীতের শিক্ষা থেকে তত্ত্বাবধায়ক সরকারের নাম ও ক্ষমতায় পরিবর্তন আনা প্রয়োজন। যদি প্রতি নির্বাচনের আগে এমন একটি সরকার গঠন হয়, তাহলে দেশের সংস্কারের প্রশ্ন উঠে। তিনি প্রস্তাব করেন, ইতিমধ্যে ‘নির্দলীয় নিরপেক্ষ নির্বাচন তদারকি সরকার’ নামে একটি সরকার গঠন করা উচিত, যার একমাত্র কাজ হবে জাতীয় নির্বাচন এনেছেন। নির্বাচনের বাইরে কোনো সিদ্ধান্ত নেওয়া বা স্থানীয় সরকার নির্বাচন পরিচালনার প্রয়োজন নেই।
তত্ত্বাবধায়ক সরকারের পাশাপাশি প্রধান বিচারপতি নিয়োগ প্রক্রিয়া নিয়ে কমিশনের সঙ্গে রাজনৈতিক দলগুলোর আলোচনা অনুষ্ঠিত হয়েছে। বেশিরভাগ দল প্রস্তাব দিয়েছে, বিচার বিভাগের আপিল বিভাগ থেকে জ্যেষ্ঠতার ভিত্তিতে একজন বিচারপতির পরিবর্তে দুজনের মধ্য থেকে একজনকে প্রধান বিচারপতি নির্বাচন করা হোক।
এদিকে এবি পার্টির মহাসচিব আসাদুজ্জামান ফুয়াদ উল্লেখ করেন, বিগত সরকারের বিচারপতি নিয়োগ প্রশ্নবিদ্ধ, কারণ অনেক বিচারপতি দলীয় স্বার্থের ভিত্তিতে নিয়োগ পেয়েছেন না হয়ে যোগ্যতার ভিত্তিতে। তাদের মধ্যে যারা জ্যেষ্ঠ তাদের প্রধান বিচারপতি করা হলে বিচার বিভাগের স্বচ্ছতা বিঘ্নিত হবে। তিনি প্রধান বিচারপতি নিয়োগের ক্ষেত্রে বিচার ব্যবস্থা পুনর্গঠনের ওপর জোর দেন।









