ঢাকা | বৃহস্পতিবার | ৩০শে এপ্রিল, ২০২৬ খ্রিস্টাব্দ | ১৭ই বৈশাখ, ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ | ১৩ই জিলকদ, ১৪৪৭ হিজরি

তরুণ ভোটারদের পছন্দে শীর্ষে বিএনপি

সাউথ এশিয়ান নেটওয়ার্ক অন ইকোনমিক মডেলিং (সানেম) এবং অ্যাকশনএইড বাংলাদেশ যৌথভাবে পরিচালিত একটি জরিপে উঠে এসেছে, আগামী নির্বাচনে তরুণ ভোটারদের মধ্যে বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল (বিএনপি) সর্বোচ্চ সমর্থন পেতে যাচ্ছে। ‘যুব জরিপ-২০২৫’ শীর্ষক এই গবেষণাটি ১৫ থেকে ৩৫ বছর বয়সী তরুণ-তরুণীদের অংশগ্রহণে সারা দেশের আট বিভাগে দুই হাজারের অধিক পরিবারের উপর চালানো হয়েছে।

জরিপ অনুযায়ী, আগামী জাতীয় সংসদ নির্বাচনে বিএনপি আনুমানিক ৩৮.৭৬ শতাংশ ভোট পাবে বলে ধারনা করা হচ্ছে। এ অবস্থানে বিএনপির নিকটবর্তী দল হিসেবে দেখা যায় জামায়াতে ইসলামী, যারা ২১.৪৫ শতাংশ ভোট পাবে বলেও তরুণরা মনে করছেন। অন্যদিকে, অন্যান্য ইসলামপন্থি দল, জাতীয় পার্টি ও এনসিপির ভোট পাওয়ার হার অপেক্ষাকৃত কম। জরিপে অংশ নেওয়া তরুণরা ধারণা দিয়েছেন, আওয়ামী লীগ নির্বাচনে অংশ নিতে পারলে তারা আনুমানিক ১৫ শতাংশ ভোট পেতো।

পুরুষ ভোটারদের মধ্যে বিএনপির সমর্থন নারীদের তুলনায় কিছুটা বেশি, যা জামায়াতের ক্ষেত্রেও প্রযোজ্য। এনসিপির প্রতি নারীদের সমর্থন পুরুষদের তুলনায় বেশি এবং শহরাঞ্চলে এই দলের জনপ্রিয়তা গ্রামাঞ্চলের চেয়ে বেশি।

বিশ্লেষকদের মতে, এই জরিপ তরুণদের রাজনৈতিক ঝোঁক ও আগ্রহের মানচিত্রের আধুনিক প্রক্ষেপণ। এতে দেখা গেছে, দেশের তরুণদের ৯৩.৯৬ শতাংশ আশাবাদী আসন্ন নির্বাচনের পরিবেশ অবাধ ও সুষ্ঠু হবে। তবে ৬.০৪ শতাংশ তরুণ এই নির্বাচনী প্রক্রিয়া নিয়ে আশঙ্কিত। ৭৬.৭৮ শতাংশ তরুণ ভোট দেওয়ার আগ্রহ প্রকাশ করেছেন, যেখানে ৪.১৪ শতাংশ ভোট দিতে অনিচ্ছুক।

রাজনৈতিক সচেতনতার দিক থেকে দেখা যায়, মাত্র ২৩.৩৭ শতাংশ তরুণ নিয়মিত দেশের রাজনীতির খবর অনুসরণ করেন, ৩৯.০৯ শতাংশ মাঝে মাঝে দেখেন, আর ৩৭.৫৪ শতাংশ একদমই আগ্রহী নন। নারীদের মধ্যে ২৪.২৭ শতাংশ জাতীয় রাজনীতিতে আগ্রহী নন, যা পুরুষদের (১৬.৪৮%) তুলনায় বেশি। ঘনিষ্ঠভাবে রাজনীতি দেখার হারও কম, পুরুষের মধ্যে মাত্র ৯.৩১% এবং নারীদের মধ্যে ৫.১৮%।

রাজনৈতিক দলের কার্যকারিতা নিয়ে তরুণদের আস্থার ঘাটতি স্পষ্ট। মাত্র ১১.৮২ শতাংশ তরুণ মনে করেন রাজনৈতিক দলগুলোর এজেন্ডা দেশের সমস্যার যথাযথ প্রতিফলন করে। অন্যদিকে ৪৯.৪২ শতাংশ একেবারেই এতে অংশীদার নন। ৫০ শতাংশ তরুণ মনে করেন রাজনৈতিক দলগুলো তাদের সঙ্গে সংযুক্ত হতে পারেনি, যেখানে মাত্র ১৬.১ শতাংশ মনে করেন দলগুলো তরুণদের সঙ্গে যুক্ত।

রাজনৈতিক সংস্কারের সম্ভাবনায় তরুণদের মধ্যে হতাশা বিরাজ করছে; মাত্র ৩.৩ শতাংশ মনে করেন সংস্কার ছাড়া উন্নতি সম্ভব। তবে ৫৬.৪ শতাংশ বিশ্বাস করেন, যদি প্রয়োজনীয় সংস্কার বাস্তবায়ন হয়, তবে পরিবর্তন আসতে পারে। ১১.৩ শতাংশ ভবিষ্যত নিয়ে আশঙ্কিত এবং ১৩.১ শতাংশ মনে করেন কিছুই পরিবর্তন হবে না।

অন্যদিকে, ৮২.৭ শতাংশ তরুণ রাজনীতিতে যুক্ত হওয়ার আগ্রহ দেখাচ্ছে না। ১১.৫ শতাংশ কিছুটা আগ্রহী, আর মাত্র ১.৬ শতাংশ বর্তমানে রাজনৈতিক কার্যক্রমে যুক্ত।

তরুণরা রাজনীতিতে আদর্শের ওপর অনেক প্রত্যাশা রাখে; ৬০ শতাংশ চান রাজনৈতিক দলগুলো পৃষ্ঠপোষকতা, স্বজনপ্রীতি ও সহিংসতা দূরে রাখুক। ৫৪ শতাংশ নারীদের ইচ্ছা নিয়মিত নির্বাচন ও গণতান্ত্রিক প্রথা পুনঃপ্রতিষ্ঠিত হোক এবং ৪৮.২৩ শতাংশ মনে করেন ধর্মভিত্তিক রাজনীতি দেশের জন্য অনুচিত।

জরিপ পরিচালনাকারী সংস্থাগুলো জানান, জুলাই আন্দোলনের পরবর্তী সময়ের সামাজিক ও রাজনৈতিক সংস্কার সম্পর্কে তরুণদের দৃষ্টিভঙ্গিও জরিপের অন্যতম প্রধান মাপকাঠি ছিল। এর উদ্দেশ্য ছিল তরুণদের দাবি ও আকাঙ্ক্ষাগুলোকে স্পষ্ট করে তুলে ধরা, যাতে নীতিনির্ধারকরা তা গুরুত্ব দিয়ে গ্রহণ করতে পারেন।