বিদ্যুৎ, জ্বালানি ও খনিজ সম্পদ মন্ত্রী ও বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য ইকবাল হাসান মাহমুদ টুকু জানিয়েছেন, বর্তমানে দেশের জ্বালানি তেলের দাম বাড়ানোর জন্য সরকার কোনো সিদ্ধান্ত নিয়েছেন না। এ দিক থেকে কোনো আশঙ্কা না করতেও তিনি সাধারণ মানুষকে আহ্বান জানিয়েছেন, কারণ এখনও কোনও ঘোষণা আসেনি, ফলে অতিরিক্ত তেল মজুত করার প্রয়োজন নেই। রোববার (৮ মার্চ) বিকেলে জাতীয় প্রেস ক্লাবের কবি কাজী নজরুল ইসলাম মিলনায়তনে উত্তরাঞ্চল ছাত্র ফোরাম আয়োজিত এক আলোচনা সভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন। এই সভা আবর্তিত হয়েছিল প্রধানমন্ত্রী ও বিএনপি চেয়ারপার্সনের ২০তম কারাবন্দি দিবস উপলক্ষে।
মন্ত্রী তার বক্তব্যে মধ্যপ্রাচ্যের চলমান যুদ্ধ পরিস্থিতির উল্লেখ করে বলেন, আন্তর্জাতিক জ্বালানি বাজারে বর্তমানে অনেক অনিশ্চয়তা বিরাজ করছে। বিশেষ করে বিনিয়োগ হওয়া দেশগুলোতে সংঘাতের কারণে সরবরাহে বিঘ্নের আশঙ্কা দেখা দিয়েছে। এ পরিস্থিতি মোকাবিলায় সরকার সতর্ক অবস্থানে রয়েছে এবং জ্বালানি তেলের সাশ্রয়ী ব্যবহার নিশ্চিত করতে সাময়িকভাবে রেশনিং ব্যবস্থা চালু করা হয়েছে। তিনি স্পষ্ট করে বলেছেন, যুদ্ধ多久 স্থায়ী হবে তা নিশ্চিত নয়, তাই এই ধরনের উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে যেন দীর্ঘমেয়াদে সরবরাহ স্বাভাবিক রাখতে পারে।
অপেক্ষাকৃত ইতিবাচক সংবাদ হিসেবে তিনি জানিয়েছেন, দেশীয় সমুদ্র বা সাগরে থাকা জ্বালানি পরিবহন জাহাজগুলো ইতিমধ্যে বাংলাদেশের বন্দরে পৌঁছানো শুরু করেছে। আজ সকাল ১১টার দিকে একটি তেলবাহী জাহাজ বন্দরে নোঙর করেছে এবং অন্য একটি দ্রুতবেগে ভেড়ার অপেক্ষায় রয়েছে। এই জাহাজগুলো থেকে সরবরাহ শুরু হলে দেশের জ্বালানি মজুত বাড়বে এবং পাম্পে ভিড় কমে আসবে। আবারও তিনি জোর দিয়ে বলেন, সরকার এই মুহূর্তে তেলের দামের হঠাৎ বৃদ্ধি নিয়ে কোন পরিকল্পনা করছে না। সবাইকে অনুরোধ করেন, দীর্ঘ লাইনে দাঁড়িয়ে অপ্রয়োজনীয় বিশৃঙ্খলা বা আতঙ্ক সৃষ্টি না করে শান্ত থাকার জন্য।
রমজান মাসে বিদ্যুৎ সরবরাহের ব্যাপারে তিনি জানান, ইফতার, তারাবি ও সেহরির সময় যেন কোনো লোডশেডিং না হয়, সেই জন্য বিদ্যুৎ বিভাগকে বিশেষ নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে। দেশের অর্থনৈতিক পরিস্থিতির ব্যাপারে তিনি মন্তব্য করে বলেন, মাত্র ২০ দিন আগে যখন তারা দায়িত্ব গ্রহণ করেছেন, তখন দেশের জ্বালানি খাত ছিল খুবই দুর্বল, যেখানে ৭৬ হাজার কোটি টাকার বেশি বকেয়া দেখেছিল। বড় এই ঋণের বোঝা থাকলেও বর্তমান সরকার সেই পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনতে সক্ষম হয়েছে।
আলোচনা সভায় তিনি বলেন, সরকারের উন্নয়ন ও স্থিতিশীলতা বজায় রাখতে জনগণের সক্রিয় সহযোগিতা অত্যন্ত জরুরি। জনসচেতনা ও সমর্থন ব্যতীত এই ধরনের সংকট মোকাবিলা সম্ভব নয়। যে কারণে তিনি সবাইকে আহ্বান জানান, সচেতনভাবে জ্বালানি ব্যবহার করুন এবং গুজবে কান না দেওয়ার। অনুষ্ঠানে সভাপতিত্ব করেন উত্তরাঞ্চল ছাত্র ফোরামের ভারপ্রাপ্ত সভাপতি ফারজানা আক্তার রিমি। উপস্থিত ছিলেন প্রধানমন্ত্রীর অতিরিক্ত প্রেস সচিব আতিকুর রহমান রুমন, ডেপুটি প্রেস সচিব জাহিদুল ইসলাম রনি, নবনির্বাচিত সংসদ সদস্য আমিরুল ইসলাম আলীম ও সংগঠনের অন্যান্য শীর্ষ নেতৃবৃন্দ। সচেতনতা ও সহযোগিতা বৃদ্ধির মাধ্যমে সরকার এবং জনগণের একসাথে কাজ করাই এই অস্থিরতা কমাতে সহায়ক হবে বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা।









