ঢাকা ও চট্টগ্রাম স্টক এক্সচেঞ্জে সোমবার (৯ মার্চ) শেয়ারের দাম ব্যাপকভাবে বাড়েছে। সপ্তাহের প্রথম কার্যদিবসে সুপ্ত দরপতনের পর বাজারে ফিরেছে ক্রেতাদের আস্থা, ফলে দ্বিতীয় কার্যদিবসে প্রধান সূচকগুলোসহ বেশিরভাগ কোম্পানির শেয়ারের দর বৃদ্ধি পেয়েছে। তবে ডিএসইতে লেনদেনের পরিমাণ কমে গেছে।
গত সপ্তাহে ইরানে যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের হামলার প্রভাব পড়ে বাজারে সংশয় দেখা দেয় এবং পাঁচ কার্যদিবসের মধ্যে চারদিনে দরপতন হয়েছে। ওই সপ্তাহে ডিএসইর প্রধান সূচক এক সপ্তাহে মোট ৩৫৯ পয়েন্ট হারায় এবং বাজার মূল্যায়ন প্রায় ২০,৪১৩ কোটি টাকা কমে যায়। সপ্তাহের প্রথম কার্যদিবসেও সূচক একদিনে ২৩১ পয়েন্ট পড়ে যায়।
সোমবার লেনদেন শুরু থেকেই বেশিরভাগ প্রতিষ্ঠানের শেয়ারের দর বাড়তে থাকে এবং দিনের মধ্যে উচ্চমাত্রায় উত্থান ধরে রাখে। দিনের শেষে ডিএসইতে মোট ৩৫১টি শেয়ার ও ইউনিটের দাম বেড়েছে, ১৭টির দাম কমে গেছে এবং ২০টির দাম অপরিবর্তিত ছিল।
গ্রুপভিত্তিক হারানো-জেতাও লক্ষণীয়। ভালো মানের কোম্পানি বা যেগুলি ১০ শতাংশ বা তার বেশি লভ্যাংশ দেয়, এমন ১৭৬টি প্রতিষ্ঠানের শেয়ার বেড়েছে, ১৩টির দাম কমেছে এবং ১১টির অপরিবর্তিত ছিল। মাঝারি মানের ৭৪টির শেয়ার বেড়েছে, ২টির দাম কমেছে এবং ১টির অপরিবর্তিত। লভ্যাংশ না দেয়া ‘জেড’ গ্রুপে ১০১টির শেয়ার বেড়েছে, ২টির দাম কমেছে এবং ৬টির অপরিবর্তিত। মিউচুয়াল ফান্ডে ২৪টির দাম বাড়ে, ৪টির কমে এবং ৬টির অপরিবর্তিত থাকে।
ডিএসইর প্রধান মূল্যসূচক ডিএসইএক্স ১৩২ পয়েন্ট বাড়ে এবং অবস্থান করে ৫,১৪১ পয়েন্টে। ডিএসই শরিয়াহ সূচক ২১ পয়েন্ট বাড়ে ১,০৩৫ পয়েন্টে, আর ডিএসই-৩০ সূচক ৫৫ পয়েন্ট উত্থান করে ১,৯৭৫ পয়েন্টে পৌঁছায়।
তবে লেনদেনের পরিমাণ পুরো বাজারে কমে এসেছে — ডিএসইতে মোট লেনদেন দাঁড়ায় প্রায় ৪১৬ কোটি ৯ লাখ টাকা, যখন আগের কার্যদিবসে এটি ছিল ৫৩১ কোটি ৮৮ লাখ টাকা। লেনদেনের ক্রমশ ঘাটতির মধ্যেই সবচেয়ে বেশি লেনদেন হয় ওরিয়ন ইনফিউশনের শেয়ারে — ২৬ কোটি ৩৬ লাখ টাকা। সেই তালিকায় দ্বিতীয় স্থানে ছিল সিটি ব্যাংক (২১ কোটি ৯৬ লাখ টাকা) এবং তৃতীয় স্থানে খান ব্র্যাক ব্যাংক (১৩ কোটি ৭৭ লাখ টাকা)।
লেনদেনের শীর্ষ ১০ প্রতিষ্ঠানের তালিকায় রয়েছেন রবি, স্কয়ার ফার্মাসিউটিক্যালস, খান ব্রাদার্স পিপি ওভেন ব্যাগ, এশিয়াটিক ল্যাবরেটরি, ইস্টার্ন ব্যাংক, সামিট অ্যালায়েন্স পোর্ট এবং ফাইন ফুডসসহ অন্যান্য প্রতিষ্ঠান।
চট্টগ্রাম স্টক এক্সচেঞ্জেও ভাল ফল দাঁড়ায় — সার্বিক সূচক সিএএসপিআই ৮২ পয়েন্ট বেড়ে যায়। সিএসইতে মোট ১৩৮টি প্রতিষ্ঠানের মধ্যে ৬৩টির দাম বেড়েছে, ৬২টির দাম কমেছে এবং ১৩টির অপরিবর্তিত ছিল। চট্টগ্রামের লেনদেন ছিল ৪৮ কোটি ৫৫ লাখ টাকা, যা আগের কার্যদিবসে হওয়া ১৬ কোটি ৩৭ লাখ টাকার তুলনায় অনেক বেশি।
সারকথা, সংবেদনশীল ভৌগোলিক ও আন্তর্জাতিক ঘটনাবলীর পর বাজারে প্রথমে পড়া অনিশ্চয়তা কাটিয়ে সোমবার শেয়ারবাজারে জরুরি সমন্বয় দেখা গেছে; তবে লেনদেনের ধারা সম্পূর্ণভাবে ফিরে আসে নি বলে বিশ্লেষকরা মন্তব্য করছেন।








