ঢাকা | সোমবার | ১৯শে জানুয়ারি, ২০২৬ খ্রিস্টাব্দ | ৫ই মাঘ, ১৪৩২ বঙ্গাব্দ | ৩০শে রজব, ১৪৪৭ হিজরি

দেশীয় সুতা শিল্পের স্বার্থে বন্ড সুবিধা প্রত্যাহারের সুপারিশ

দেশের স্থানীয় সুতা উৎপাদনকারী শিল্পের স্বার্থ রক্ষা ও দীর্ঘমেয়াদি উন্নয়নের জন্য বাণিজ্য মন্ত্রণালয় দেশের কটন সুতা আমদানিতে বিদ্যমান বন্ড সুবিধা বাতিল বা প্রত্যাহারের সুপারিশ করছে। এর জন্য তারা জাতীয় রাজস্ব বোর্ডে (এনবিআর) বিশেষ অনুরোধ জানিয়েছে। রোববার (১৮ জানুয়ারি) এনবিআরের কাস্টমস নীতিমালা বিভাগের একজন ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন। তিনি বলেছেন, দেশের শিল্প ও বিনিয়োগ পরিস্থিতি বিবেচনায় নিয়ে স্বল্পমেয়াদি উদ্যোগ হিসেবে ১০ থেকে ৩০ কাউন্টের সুতা আমদানি বন্ড সুবিধা বাতিলের বা প্রত্যাহারের প্রস্তাব দেয়া হয়েছে। এর মাধ্যমে স্থানীয় শিল্প ও কর্মসংস্থান রক্ষা করতে এবং বাংলাদেশ কাস্টমসের ট্যারিফের সাহায্যে ১০ থেকে ৩০ কাউন্টের কটন সুতা আমদানিতে বন্ড সুবিধা সরিয়ে নেওয়ার ব্যবস্থা গ্রহণের জন্য মন্ত্রণালয় জোরালো পরামর্শ দিয়েছে। একই সঙ্গে, আমদানিকৃত সুতার সঠিক বিবরণ নিশ্চিত করতে বিল অব এন্ট্রিতে কটন সুতার কাউন্ট স্পষ্টভাবে উল্লেখ করার বিষয়েও কাস্টম হাউসগুলোকে পর্যাপ্ত তদারকি করার আহ্বান জানানো হয়েছে। বর্তমানে দেশের মোট রপ্তানি আয়ের প্রায় ৮৪ শতাংশ আসে টেক্সটাইল ও গার্মেন্টস খাত থেকে, যার বড় অংশই নিট গার্মেন্টস শিল্পের অবদান। আশির দশক থেকে এই শিল্পের বিকাশের জন্য শুল্কমুক্ত কাঁচামাল আমদানির সুবিধা দেয়া হলেও, এখন স্থানীয় উদ্যোক্তারা বিপুল বিনিয়োগের মাধ্যমে সুতা ও কাপড় উৎপাদনে স্বয়ংসম্পূর্ণতা অর্জন করেছেন। তবে বর্তমানে তারা তাদের বাজার ও নিট গার্মেন্টসের চাহিদা পূরণে সক্ষম হলেও পার্শ্ববর্তী দেশগুলোর সঙ্গে কঠিন প্রতিযোগিতায় পড়ে সংকটে পড়েছেন। অন্য দেশের শিল্প যারা তাদের জন্য বিশেষ আর্থিক সুবিধা ও প্রণোদনা দেয়ায়, তারা বাংলাদেশের চেয়ে অনেক কম মূল্যে সুতা রপ্তানি করছে। এরফলে, দেশের বাজারে প্রতি কেজি সুতার বিক্রয়ের মূল্য কমে গেছে, যার কারণ হচ্ছে পার্শ্ববর্তী দেশগুলোর এই সুতা রপ্তানি, যেখানে দর ২.৮৫ মার্কিন ডলার থেকে অনেক কম। এই পরিস্থিতিতে, স্থানীয় উদ্যোক্তারা তাদের উৎপাদন দক্ষতাও বৃদ্ধি করলেও, প্রতিযোগিতায় টিকে থাকেতে পারছেন না এবং তাদের বিশাল বিনিয়োগ ঝুঁকির মুখে পড়ছেন। পরিসংখ্যান বলছে, গত দুই বছরে বন্ড সুবিধায় সুতা আমদানির পরিমাণ ব্যাপক বৃদ্ধি পাওয়ায় দেশের সুতার চাহিদা ও বিক্রি কমে গেছে উল্লেখযোগ্যভাবে। এই অবস্থা মোকাবিলায়, প্রায় ৫০টি বড় সুতা উৎপাদনকারী প্রতিষ্ঠানের ইতিমধ্যে বন্ধ হয়ে গেছে, এবং সচল কলকারখানাগুলোর উৎপাদনক্ষমতার মাত্র ৬০ শতাংশ ব্যবহৃত হচ্ছে। যদি এই আমদানির প্রবণতা নিয়ন্ত্রণে না আসে, ভবিষ্যতে নিট গার্মেন্টস শিল্পের পুরোপুরি আমদানিনির্ভর হয়ে যাওয়ার আশঙ্কা রয়েছে। এতে দেশের লিড টাইম বৃদ্ধি পাবে, মূল্য সংযোজন কমে যাবে, এবং বৈদেশিক মুদ্রার রিজার্ভের ওপর অতিরিক্ত চাপ তৈরি হবে। এই অর্থনৈতিক ঝুঁকি মোকাবিলায়, বাণিজ্য মন্ত্রণালয় জরুরি ভিত্তিতে ১০ থেকে ৩০ কাউন্ট সুতা আমদানি বন্ড সুবিধা বাতিল বা প্রত্যাহারের সুপারিশ করছে।