ধানমন্ডি এলাকায় নির্মাণাধীন একটি বহুতল ভবনে ধানমন্ডির ৬ নম্বর সড়কের ৬৩ নম্বর সরকারি পরিত্যক্ত বাড়িতে প্রভাবশালী সাবেক ১২ জন ঊর্ধ্বতন সরকারি কর্মকর্তা ও বিচারককে বরাদ্দ দেওয়া ফ্ল্যাট বাতিল করা হয়েছে। গৃহায়ণ ও গণপূর্ত মন্ত্রণালয় গত মঙ্গলবার এই সিদ্ধান্ত নেয়। মন্ত্রণালয়ের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, ফ্ল্যাট বরাদ্দের সময় সরকারি নীতিমালা লঙ্ঘনের পাশাপাশি প্রভাব খাটানোর অভিযোগ প্রমাণিত হয়েছে।
গত বছরের ৫ আগস্ট ক্ষমতায় যাওয়ার পর দুর্নীতি দমন কমিশনে (দুদক) ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তাদের ফ্ল্যাট বরাদ্দ নিয়ে প্রাথমিক তদন্ত শুরু হয়। অভিযোগ ওঠে, ২০১৮ সালের জাতীয় সংসদ নির্বাচনের সময় অনিয়মে জড়িত থাকার কারণে ওই কর্মকর্তাদের ‘পুরস্কৃত’ করার উদ্দেশ্যে পরিকল্পিতভাবেই মালিকানা দেওয়া হয়েছিল। দুদকের তদন্তে এসব অভিযোগ সত্য প্রমাণিত হওয়ার পর জাতীয় গৃহায়ণ কর্তৃপক্ষও বিষয়টি খতিয়ে দেখতে একটি কমিটি গঠন করে।
দুদকের রিপোর্ট এবং গৃহায়ণ কর্তৃপক্ষের কমিটির প্রতিবেদন পর্যালোচনা করে ২৭৪তম বোর্ড সভায় ঐসব ফ্ল্যাট বরাদ্দ বাতিলের সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়।
যাদের ফ্ল্যাটের বরাদ্দ বাতিল হয়েছে তাদের মধ্যে রয়েছেন অবসরপ্রাপ্ত বিচারক ও সাবেক দুর্নীতি দমন কমিশনের কমিশনার মো. জহুরুল হক, সাবেক সিনিয়র সচিব মো. ইউনুসুর রহমান, সাবেক সিনিয়র সচিব ও সাবেক দুর্নীতি দমন কমিশনার মো. মোজাম্মেল হক খান, সাবেক সচিব এম এ কাদের সরকার, সাবেক সিনিয়র সচিব আসলাম আলম, সাবেক সচিব আকতারী মমতাজ, সাবেক সচিব মো. সিরাজুল হক খান, সাবেক সিনিয়র জেলা ও দায়রা জজ মো. মঞ্জুরুল বাছিদ, সাবেক রেজিস্ট্রার জেনারেল ও সিনিয়র জেলা জজ সৈয়দ আমিনুল ইসলাম, মাধ্যমিক ও উচ্চশিক্ষা অধিদপ্তরের সাবেক মহাপরিচালক অধ্যাপক নেহাল আহমেদ, সাবেক সিনিয়র সচিব ও সাবেক নির্বাচন কমিশনার মো. আনিছুর রহমান এবং সাবেক সিনিয়র সচিব এস এম গোলাম ফারুক।
এমন পরিস্থিতিতে গৃহায়ণ মন্ত্রণালয়ের এই উদ্যোগ সরকারের দুর্নীতি নির্মূলের অঙ্গীকার ও ন্যায্যতার প্রতি প্রতিশ্রুতি কার্যকর করার প্রমাণ হিসেবে বিবেচিত হচ্ছে। ভবিষ্যতে এসব প্রভাবশালী ব্যক্তিদের অবৈধ সুবিধাদেওয়ালা সমস্ত অনিয়ম নিরসনে কঠোর ব্যবস্থা নেয়া হবে বলে মন্ত্রণালয় জানিয়েছে।








