ঢাকা | শনিবার | ১৭ই জানুয়ারি, ২০২৬ খ্রিস্টাব্দ | ৩রা মাঘ, ১৪৩২ বঙ্গাব্দ | ২৮শে রজব, ১৪৪৭ হিজরি

নওগাঁয় গ্রামীণ খেলা ও সাংস্কৃতিক উৎসবের জন্মদিন

নওগাঁর বদলগাছীতে ঐতিহ্যবাহী গ্রামীণ খেলাধুলা ও সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠানের আয়োজন করা হয়েছে, যা ব্যাপক উৎসাহ ও আগ্রহের মধ্য দিয়ে অনুষ্ঠিত হয়েছে। বুধবার ১৯ নভেম্বর বিকেল ৫টায় বদলগাছীর ভান্ডারপুর উচ্চবিদ্যালয় মাঠে এই অনুষ্ঠানে লাঠিখেলা, পাতাখেলা ও হাড়িভাঙার খেলা অনুষ্ঠিত হয়। এ ছাড়াও আয়োজকদের পক্ষ থেকে বাউল সঙ্গীতের পরিবেশনা করা হয়, যা সংস্কৃতির ধরন ও ঐতিহ্যকে নতুন প্রজন্মের মাঝে তুলে ধরছে। এই অনুষ্ঠানটি আয়োজন করে ৫নং কোলা ইউনিয়ন বিএনপি ও এর অঙ্গ সংগঠনগুলো।

খেলার মধ্যে প্রথমে অনুষ্ঠিত হয় মূল আকর্ষণ লাঠিখেলা, এরপর মানানসই পরিবেশে নজরে আসে পাতাখেলা ও হাড়িভাঙা। এই খেলা দেখতে ভিড় করে স্থানীয় প্রায় ১০ hাজার শিশু, নারী ও পুরুষ। বিশেষ করে পাতাখেলায় দেখা যায় বিভিন্ন বয়সের ছেলেরা একে অপরের সাথে গামছা দিয়ে পাতার লড়াই করছে, যা দর্শকদের জন্য ধরা পড়া একটি বিশেষ মুহূর্ত।

আয়োজনে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন নওগাঁ-৩ আসনের বিএনপির মনোনীত প্রার্থী এবং সদ্য ঘোষিত এমপি ফজলে হুদা বাবুল, যিনি উপজেলা আওয়ামী লীগের সহ-সভাপতি, পাশাপাশি উপজেলা বিএনপির সিনিয়র নেতৃবৃন্দ এবং বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষকসহ স্থানীয় পর্যায়ের বিভিন্ন নেতা-কর্মী।

অতিথিদের মধ্যে উপস্থিত ছিলেন শ্রমিক দলের সভাপতি আঃ হামিদ, হিসাব উপস্থাপন করেন রিপন সরদার, ও অন্যান্য সিনিয়র নেতারা, যারা দেশের বিভিন্ন নেতৃস্থানীয় রাজনৈতিক দলের সাথে স্থানীয় সংগঠনেরও প্রতিনিধিত্ব করেন।

বিশেষ করে ক্ষুদে শিশু শিক্ষার্থী মাহি, বৃষ্টি ও ফাতেমা এই খেলাগুলো দেখে খুব উচ্ছসিত ও আনন্দিত। তাদের মত, তারা খবর পেয়ে এসে খেলাগুলোর সরাসরি চিত্র দেখেছে এবং খুব ভালো লাগছে। গ্রামের সাধারণ মানুষ আব্দুর রাজ্জাক, সোবহানসহ অনেকে বলেন, এই ধরনের গ্রামীণ ঐতিহ্যবাহী খেলা ও সংস্কৃতির অনুষ্ঠান আগে একবার হয়েছিল। এখন আবার মর্যাদা পেয়ে খুশি।

প্রধান অতিথি ফজলে হুদা বাবুল বলেন, গ্রামীণ এই প্রাচীন খেলাধুলাগুলো এখন হারিয়ে যেতে বসেছে। এদের সংরক্ষণ ও প্রচার খুব প্রয়োজন। তিনি বলেন, আমি আশা করি বর্তমান প্রজন্ম এই ঐতিহ্যগুলোর সঙ্গে পরিচিত হবে এবং এই খেলার ধারাকে ধরে রাখার জন্য তিনি সচেষ্ট থাকবেন। তিনি আরও বলেন, দেশের এই প্রাণবন্ত সংস্কৃতি ও ঐতিহ্যকে নতুন প্রজন্মের কাছে পৌঁছে দেওয়ার জন্য এই আয়োজন গুরুত্বপূর্ণ।