ঢাকা | সোমবার | ৪ঠা মে, ২০২৬ খ্রিস্টাব্দ | ২১শে বৈশাখ, ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ | ১৭ই জিলকদ, ১৪৪৭ হিজরি

নতুন অধ্যাদেশে তফসিলের আগেই বছরের যে কোনো সময়ে ভোটার তালিকা হালনাগাদের সুযোগ

সরকার নতুন ভোটার তালিকা (সংশোধন) অধ্যাদেশ জারি করেছে, যার মাধ্যমে নির্বাচন কমিশন তফসিল ঘোষণার আগে বছরের যেকোনো সময়ে ভোটার তালিকা প্রকাশ ও সংশোধন করতে পারবে। এই পরিবর্তন আইন, বিচার ও সংসদ বিষয়ক মন্ত্রণালয়ের লেজিসলেটিভ ও সংসদ বিষয়ক বিভাগ বৃহস্পতিবার রাতে আনুষ্ঠানিক ভাবে ঘোষণা করে।

অধ্যাদেশটি ভোটার তালিকা আইন, ২০০৯-এর কিছু ধারাকে সংশোধন করেছে। এতে বলা হয়েছে, যেহেতু বর্তমানে সংসদ ভাঙা অবস্থায় রয়েছে এবং আশু ব্যবস্থা নেওয়ার প্রয়োজন দেখা দিয়েছে, সেহেতু সংবিধানের ধারা ৯৩(১) অনুচ্ছেদ অনুসারে রাষ্ট্রপতি এ অধ্যাদেশ জারি করেছেন।

নতুন অধ্যাদেশ অনুযায়ী, ভোটার তালিকা সংশোধনের সময়সীমা আরও নমনীয় হয়ে পড়েছে। ২০০৯ সালের আইনের ধারা ৩-এর দফা (জ)-তে উল্লেখিত ‘জানুয়ারির ১ তারিখের’ পরিবর্তে ‘কমিশন কর্তৃক ঘোষিত অন্য কোনো তারিখ’ শব্দগুচ্ছ যুক্ত হয়েছে। এছাড়াও ধারা ১১-এ একটি নতুন উপ-ধারা যোগ করা হয়েছে, যার মাধ্যমে প্রতি বছর ২ জানুয়ারি থেকে ২ মার্চ পর্যন্ত বা তফসিল ঘোষণার পূর্বে নির্বাচনী এলাকার ভোটার তালিকা হালনাগাদ করার সুযোগ নিশ্চিত করা হয়েছে।

এই হালনাগাদের মধ্যে রয়েছে, যাদের বয়স ১৮ বছর পূর্ণ হয়েছে কিন্তু এখনও ভোটার তালিকায় নাম নেই তাদের অন্তর্ভুক্তকরণ, মৃত ও অযোগ্য ভোটারদের নাম বাদ দেওয়া, এবং যারা এলাকাবদল করেছেন তাদের নাম সংশোধন করা। যদিও নির্ধারিত সময়সীমায় হালনাগাদ সম্পন্ন না হলেও ভোটার তালিকার বৈধতা ক্ষুণ্ন হবে না।

আগে ভোটার তালিকা আইনে উল্লেখ ছিল যে, বছরের ১ জানুয়ারির পর ১৮ বছর পূর্ণ করা ভোটারদের নাম অন্তর্ভুক্ত নয়, যা নতুন অধ্যাদেশে সংশোধিত হয়েছে। এখন নির্বাচন কমিশন চাইলেই বছরের যে কোনো সময় নতুন ভোটার অন্তর্ভুক্ত এবং তালিকা প্রকাশের জন্য কাজ করতে পারবে।

এই পদক্ষেপে নির্বাচনী প্রক্রিয়ার স্বচ্ছতা ও অংশগ্রহণ নিশ্চিত করার পাশাপাশি ভোটারের সংখ্যা সর্বদা সঠিক ও হালনাগাদ রাখা সম্ভব হবে, যা গণতান্ত্রিক প্রক্রিয়াকে আরও শক্তিশালী করবে।